hadith book logo

সুনানে ইবনে মাজাহ

২. সালাত (নামায)

سنن ابن ماجه

২/১ পরিচ্ছেদঃ

সলাতের ওয়াক্তসমূহ

৬৬৭
সুনানে ইবনে মাজাহ
সহিহ হাদিস
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، وَأَحْمَدُ بْنُ سِنَانٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ الأَزْرَقُ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ، ح وَحَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مَيْمُونٍ الرَّقِّيُّ، حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ يَزِيدَ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ جَاءَ رَجُلٌ إِلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ فَسَأَلَهُ عَنْ وَقْتِ الصَّلاَةِ فَقَالَ ‏"‏ صَلِّ مَعَنَا هَذَيْنِ الْيَوْمَيْنِ ‏"‏ ‏.‏ فَلَمَّا زَالَتِ الشَّمْسُ أَمَرَ بِلاَلاً فَأَذَّنَ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الظُّهْرَ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الْمَغْرِبَ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ ثُمَّ أَمَرَهُ فَأَقَامَ الْفَجْرَ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْيَوْمِ الثَّانِي أَمَرَهُ فَأَذَّنَ الظُّهْرَ فَأَبْرَدَ بِهَا وَأَنْعَمَ أَنْ يُبْرِدَ بِهَا ثُمَّ صَلَّى الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ أَخَّرَهَا فَوْقَ الَّذِي كَانَ وَصَلَّى الْمَغْرِبَ قَبْلَ أَنْ يَغِيبَ الشَّفَقُ وَصَلَّى الْعِشَاءَ بَعْدَمَا ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ وَصَلَّى الْفَجْرَ فَأَسْفَرَ بِهَا ثُمَّ قَالَ ‏"‏ أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ وَقْتِ الصَّلاَةِ ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ الرَّجُلُ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ وَقْتُ صَلاَتِكُمْ بَيْنَ مَا رَأَيْتُمْ ‏"‏ ‏.‏
বুরায়দাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে তাঁকে সলাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। তিনি বলেন, তুমি আমাদের সাথে এই দু' দিন সালাত পড়ো। সূর্য ঢলে পরলে তিনি বিলাল (রাঃ)-কে আযান দেয়ার নির্দেশ দিলে তিনি আযান দেন। এরঃপর তিনি তাকে একামত দেয়ার নির্দেশ দেন এবং যোহরের সালাত পড়েন। এরপর তিনি তাকে আসরের সলাতের (আযান দেয়ার) নির্দেশ দেন এবং আসরের সালাত পড়েন এবং সূর্য তখন অনেক উপরে সাদা, পরিচ্ছন্ন ও উজ্জ্বল ছিল। এরপর সূর্য অস্ত গেলে তিনি তাঁকে মাগরিবের আযান দেয়ার নির্দেশ দেন এবং মাগরিবের সালাত পড়েন। অতঃপর পশ্চিম আকাশের লাল আভা (শাফাক) অদৃশ্য হওয়ার পর তাকে ইশার সলাতের আযান দেয়ার নির্দেশ দেন এবং ইশার সালাত পড়েন। অতঃপর ফজরের ওয়াক্ত হলে তিনি তাকে আযান দেয়ার নির্দেশ দেন এবং ফজরের সালাত পড়েন। দ্বিতীয় দিন তিনি বিলাল (রাঃ)-কে আযানের নির্দেশ দিলে তিনি যোহরের আযান দেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিলম্বে যোহরের সালাত পড়েন। অতঃপর তিনি আসরের সালাত পড়েন, যখন সূর্য উপরে ছিল ঠিকই, কিন্তু প্রথম দিনের তুলনায় একটু বেশি ঢলে পড়েছিল। অতপর তিনি পশ্চিম আকাশের শুভ্র আভা অদৃশ্য হওয়ার আগে মাগরিবের সালাত পড়েন। রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিক্রম হওয়ার পর তিনি ইশার সালাত পড়েন। পূর্বাকাশ পরিষ্কার হওয়ার পর তিনি ফজরের সালাত পড়েন, অতঃপর বলেন, সলাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেসকারী কোথায়? লোকটি বলল, এই যে আমি, হে আল্লাহ্‌র রসূল! তিনি বলেন, তোমরা যেভাবে দেখতে পেলে তোমাদের সলাতের ওয়াক্তসমূহ তার মাঝখানে অবস্থিত। [৬৬৫]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৬৬৫] মুসলিম ৬১৩/১-২, তিরমিযী ১৫২, নাসায়ী ৫১৯, আহমাদ ২২৪৪৪। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৪২৩
৬৬৮
সুনানে ইবনে মাজাহ
সহিহ হাদিস
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ الْمِصْرِيُّ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَنَّهُ كَانَ قَاعِدًا عَلَى مَيَاثِرِ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فِي إِمَارَتِهِ عَلَى الْمَدِينَةِ وَمَعَهُ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ فَأَخَّرَ عُمَرُ الْعَصْرَ شَيْئًا فَقَالَ لَهُ عُرْوَةُ أَمَا إِنَّ جِبْرِيلَ نَزَلَ فَصَلَّى إِمَامَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏.‏ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ اعْلَمْ مَا تَقُولُ يَا عُرْوَةُ ‏.‏ قَالَ سَمِعْتُ بَشِيرَ بْنَ أَبِي مَسْعُودٍ يَقُولُ سَمِعْتُ أَبَا مَسْعُودٍ يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يَقُولُ ‏ "‏ نَزَلَ جِبْرِيلُ فَأَمَّنِي فَصَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتَ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ثُمَّ صَلَّيْتُ مَعَهُ ‏"‏ ‏.‏ يَحْسُبُ بِأَصَابِعِهِ خَمْسَ صَلَوَاتٍ ‏.‏
আবূ মাসঊদ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
(ইবনু শিহাব) উমার বিন আবদুল আযীয (রহঃ) এর গদীতে বসা ছিলেন, যখন তিনি মাদীনাহ্‌র গভর্নর ছিলেন। উরওয়া ইবনুয-যুবায়র (রহঃ)-ও তার সাথে ছিলেন। উমার বিন আবদুল আযীয (রহঃ) আসরের সালাত আদায় করতে কিছুটা বিলম্ব করলেন। উরওয়াহ (রহঃ) তাকে বলেন, জিবরাঈল (আঃ) অবতরণ করে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ইমাম হিসাবে সালাত আদায় করেন। উমার (রাঃ) তাকে বলেন, হে উরওয়া! আপনি কি বলছেন, তা ভেবে দেখুন। তিনি বলেন, আমি বাশীর বিন আবূ মাসঊদ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন আমি আবূ মাসঊদ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছি তিনি বলেন, জিবরাঈল (আঃ) নাযিল হয়ে আমার ইমামতি করলেন। এরপর আমি তাঁর সাথে সালাত পড়লাম, অতঃপর আমি তাঁর সাথে সালাত পড়লাম, অতঃপর আমি তাঁর সাথে সালাত পড়লাম, অতঃপর আমি তাঁর সাথে সালাত পড়লাম। এভাবে তিনি তাঁর আঙ্গুল দিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত গণনা করেন। [৬৬৬]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৬৬৬] বুখারী ৫২২, মুসলিম ৬১০-১১, নাসায়ী ৪৯৪, আবূ দাঊদ ৩৯৪, আহমাদ ১৬৬৪০, ২১৮৪৮; মুওয়াত্ত্বা মালিক ২, দারিমী ১১৮৫। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৪১৭।
২/২ পরিচ্ছেদঃ

ফজরের সলাতের ওয়াক্ত

৬৭০
সুনানে ইবনে মাজাহ
সহিহ হাদিস
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ أَسْبَاطِ بْنِ مُحَمَّدٍ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، وَالأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ {وَقُرْآنَ الْفَجْرِ إِنَّ قُرْآنَ الْفَجْرِ كَانَ مَشْهُودًا}‏ قَالَ ‏"‏ تَشْهَدُهُ مَلاَئِكَةُ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ ‏"‏ ‏.‏
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিলাওয়াত করেন (অনুবাদ): "এবং ফজরের সালাত আদায় করবে। কেননা ফজরের সালাত বিশেষভাবে উপস্থিতির সময়" (১৭ : ৭৮)। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেনঃ দিন ও রাতের ফেরেশতারা উপস্থিতির হন। [৬৬৮]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৬৬৮] তিরমিযী ৩১৩৫ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৬৩৫।
৬৭২
সুনানে ইবনে মাজাহ
হাসান সহিহ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، أَنْبَأَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ ابْنِ عَجْلاَنَ، سَمِعَ عَاصِمَ بْنَ عُمَرَ بْنِ قَتَادَةَ، - وَجَدُّهُ بَدْرِيٌّ - يُخْبِرُ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ لَبِيدٍ، عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ أَصْبِحُوا بِالصُّبْحِ فَإِنَّهُ أَعْظَمُ لِلأَجْرِ أَوْ لأَجْرِكُمْ ‏"‏ ‏.‏ ‏.‏
রাফি' বিন খাদীজ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তোমরা পূর্বাকাশ পরিস্কার হলে ফজরের সালাত পড়বে। কেননা তাতে রয়েছে অধিক পুরস্কার অথবা বলেছেন তাতে তোমাদের জন্য রয়েছে অনেক বেশি নেকী। [৬৭০]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৬৭০] তিরমিযী ১৫৪, নাসায়ী ৫৪৮-৪৯, আবূ দাঊদ ৪২৪, আহমাদ ১৫৩৯২, ১৬৮০৬, ১৬৮২৮; দারিমী ১২১৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: হাসান সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ২৫৮।
৬৬৯
সুনানে ইবনে মাজাহ
সহিহ হাদিস
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنَّ نِسَاءُ الْمُؤْمِنَاتِ يُصَلِّينَ مَعَ النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ صَلاَةَ الصُّبْحِ ثُمَّ يَرْجِعْنَ إِلَى أَهْلِهِنَّ فَلاَ يَعْرِفُهُنَّ أَحَدٌ ‏.‏ تَعْنِي مِنَ الْغَلَسِ ‏.‏
আয়িশাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
আমরা মু'মিন মহিলারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে ফজরের সালাত পড়তাম। অতঃপর তারা তাদের ঘরে ফিরে যেতেন এবং আবছা অন্ধকার থাকার দরুন তাদেরকে কেউ চিনতে পারতো না। [৬৬৭]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৬৬৭] বুখারী ৩৭২, ৫৭৮, ৮৬৭, ৮৭২; মুসলিম ৬৪১-৩, তিরমিযী ১৫৩, নাসায়ী ৫৪৫-৪৬, ১৩৬২; আবূ দাঊদ ৪২৩, আহমাদ ২৩৫৩১, ২৩৫৭৬, ২৪৯২৬, ২৫৫৭৯, ২৫৬৯০; মুওয়াত্ত্বা মালিক ৪, দারিমী ১২১৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ২৫৭, সহীহ আবূ দাউদ ৪৪৯।
৬৭১
সুনানে ইবনে মাজাহ
সহিহ হাদিস
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا نَهِيكُ بْنُ يَرِيمَ الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنَا مُغِيثُ بْنُ سُمَىٍّ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الزُّبَيْرِ الصُّبْحَ بِغَلَسٍ فَلَمَّا سَلَّمَ أَقْبَلْتُ عَلَى ابْنِ عُمَرَ فَقُلْتُ مَا هَذِهِ الصَّلاَةُ قَالَ هَذِهِ صَلاَتُنَا كَانَتْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ فَلَمَّا طُعِنَ عُمَرُ أَسْفَرَ بِهَا عُثْمَانُ ‏.‏
ইবনু উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
আমি আবদুল্লাহ ইবনুয-যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে আবছা অন্ধকারে ফজরের সালাত পড়লাম। তিনি সালাম ফিরানোর পর আমি ইবনু উমার (রাঃ)-এর সামনে উপস্থিত হয়ে বললাম, এটা কোন্‌ ধরনের সালাত? তিনি বলেন, এটা সেই সালাত যা আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, আবূ বাক্‌র ও উমার (রাঃ)-এর সাথে পড়তাম। উমার (রাঃ)-কে আহত করার পর থেকে উসমান (রাঃ) অন্ধকার দূরীভূত হলে সালাত পড়ার ব্যবস্থা করেন। [৬৬৯]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৬৬৯] সহীহ। তাখরীজ আলবানী: ইরওয়াহ ১/২৭৯।
২/৩ পরিচ্ছেদঃ

যোহরের সলাতের ওয়াক্ত

৬৭৩
সুনানে ইবনে মাজাহ
সহিহ হাদিস
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ كَانَ يُصَلِّي الظُّهْرَ إِذَا دَحَضَتِ الشَّمْسُ ‏.‏
জাবির বিন সামুরা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (পশ্চিমাকাশে) সূর্য ঢলে পড়ার পর যোহরের সালাত আদায় করতেন। [৬৭১]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৬৭১] মুসলিম ৬১৮, আবূ দাঊদ ৪০৩, ৮০৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৪২৬।
৬৭৪
সুনানে ইবনে মাজাহ
সহিহ হাদিস
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَوْفِ بْنِ أَبِي جَمِيلَةَ، عَنْ سَيَّارِ بْنِ سَلاَمَةَ، عَنْ أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ يُصَلِّي صَلاَةَ الْهَجِيرِ الَّتِي تَدْعُونَهَا الظُّهْرَ إِذَا دَحَضَتِ الشَّمْسُ ‏.
আবূ বারযাহ আল-আসলামী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, সূর্য (পশ্চিমাকাশে) ঢলে পড়ার পর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যোহরের সালাত আদায় করতেন। [৬৭২]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৬৭২] বুখারী ৫৪১, ৫৪৭, ৫৯৯, ৭১১; মুসলিম ৬৪৭, নাসায়ী ৪৯৫, ৫২৫, ৫৩০; আবূ দাঊদ ৩৯৮, আহমাদ ১৯২৬৮, ১৯২৯৪, ১৯৩১০; দারিমী ১৩০০। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৪২৬।
৬৭৫
সুনানে ইবনে মাজাহ
সহিহ হাদিস
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ حَارِثَةَ بْنِ مُضَرِّبٍ الْعَبْدِيِّ، عَنْ خَبَّابٍ، قَالَ شَكَوْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ حَرَّ الرَّمْضَاءِ فَلَمْ يُشْكِنَا ‏.‏ قَالَ الْقَطَّانُ حَدَّثَنَا أَبُو حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا الأَنْصَارِيُّ، حَدَّثَنَا عَوْفٌ، نَحْوَهُ ‏.‏
খাব্বাব (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রচণ্ড গরমের অভিযোগ করলাম। কিন্তু তিনি আমদের অভিযোগ গ্রহণ করেননি। [৬৭৩]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৬৭৩] মুসলিম ৬১৯, নাসায়ী ৪৯৭, ৫২৩; আহমাদ ২০৫৪৭, ২০৫৫৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।
৬৭৬
সুনানে ইবনে মাজাহ
সহিহ লিগাইরিহি
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ زَيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ خِشْفِ بْنِ مَالِكٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ شَكَوْنَا إِلَى النَّبِيِّ ـ صلى الله عليه وسلم ـ حَرَّ الرَّمْضَاءِ فَلَمْ يُشْكِنَا ‏.‏
আবদুল্লাহ বিন মাসূঊদ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট প্রচণ্ড গরমের অভিযোগ করলাম, কিন্তু তিনি আমদের অভিযোগ গ্রহণ করেননি। [৬৭৪]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৬৭৪] সহীহ লিগাইরিহী। উক্ত হাদিসের রাবী মালিক সম্পর্কে ইমাম যাহাবী বলেন, তার সম্পর্কে কিছুই জানা যায় না। এ হাদিসের ৭৯ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, তন্মধ্যে সহিহ মুসলিম ২ টি, মু'জামুল কাবীর ১০ টি ও বাকীগুলো অন্যান্য কিতাবে রয়েছে।
২/৪ পরিচ্ছেদঃ

প্রচণ্ড গরমের মৌসুমে যোহরের সালাত ঠাণ্ডা করে পড়া

৬৭৮
সুনানে ইবনে মাজাহ
সহিহ হাদিস
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَنْبَأَنَا اللَّيْثُ بْنُ سَعْدٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ قَالَ ‏ "‏ إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالظُّهْرِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ ‏"‏ ‏.‏
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, গরমের তীব্রতা বেড়ে গেলে তোমরা যোহরের সালাত ঠাণ্ডা করে (গরম কমলে) পড়ো। কেননা গরমের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপ বিশেষ। সহীহ। [৬৭৬]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৬৭৬] বুখারী ৫৩৪, ৫৩৭; মুসলিম ৬১১-৪, ৬১১-৩; তিরমিযী ১৫৭, ২৫৯২; নাসায়ী ৫০০, আবূ দাঊদ ৪০২, আহমাদ ৭০৯০, ৭২০৫, ৭০২৪, ৭৫৫৮, ৭৬৬৫, ৭৭৭০, ২৭৪৪৩, ৮৩৭৮, ৮৬৮৩, ৮৮৬১, ৮৮৮১, ৮৯৩৯, ২৭৪৯৪, ৯৬৩৯, ১০১২৮, ১০১৬০, ১০২১৪, ১১১০৪; মুওয়াত্ত্বা মালিক ২৮, ২৯; দারিমী ১২০৭, ২৮৪৫; ইবনু মাজাহ ৬৭৭। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।
৬৮০
সুনানে ইবনে মাজাহ
সহিহ হাদিস
حَدَّثَنَا تَمِيمُ بْنُ الْمُنْتَصِرِ الْوَاسِطِيُّ، حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ يُوسُفَ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ بَيَانٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنِ الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ صَلاَةَ الظُّهْرِ بِالْهَاجِرَةِ فَقَالَ لَنَا ‏ "‏ أَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ ‏"‏ ‏.‏
মুগীরাহ বিন শুবাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাথে যোহরের সালাত দুপুরের (প্রথমভাগে) পড়তাম। তিনি আমাদের বলেন, তোমরা ঠাণ্ডা করে সালাত পড়ো। কেননা গরমের তীব্রতা জাহান্নামের নিঃশ্বাস থেকে। [৬৭৮]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৬৭৮] সহীহ।
৬৭৯
সুনানে ইবনে মাজাহ
সহিহ হাদিস
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أَبْرِدُوا بِالظُّهْرِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ ‏"‏ ‏.‏
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা যোহরের সালাত ঠাণ্ডা করে পড়ো। কেননা গরমের তীব্রতা জাহান্নামের নিঃশ্বাস থেকে। [৬৭৭]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৬৭৭] বুখারী ৫৩৮, আহমাদ ১১০৯৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।
৬৮১
সুনানে ইবনে মাজাহ
সহিহ হাদিস
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ أَبْرِدُوا بِالظُّهْرِ ‏"‏ ‏.‏
ইবনু উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তোমরা যোহরের সালাত ঠাণ্ডা করে (বিলম্বে) পড়ো। [৬৭৯]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৬৭৯] সহীহ।
৬৭৭
সুনানে ইবনে মাজাহ
সহিহ হাদিস
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ، حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ ‏ "‏ إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ ‏"‏ ‏.‏
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যখন প্রচণ্ড গরম অনুভূত হবে, তখন তোমরা যোহরের সালাত ঠাণ্ডা করে পড়বে। কেননা গরমের তীব্রতা জাহান্নামের তাপ (উত্তাপ) বিশেষ। [৬৭৫]
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
[৬৭৫] বুখারী ৫৩৪, ৫৩৭; মুসলিম ৬১১-৪, ৬১১-৩; তিরমিযী ১৫৭, ২৫৯২; নাসায়ী ৫০০, আবূ দাঊদ ৪০২, আহমাদ ৭০৯০, ৭২০৫, ৭০২৪, ৭৫৫৮, ৭৬৬৫, ৭৭৭০, ২৭৪৪৩, ৮৩৭৮, ৮৬৮৩, ৮৮৬১, ৮৮৮১, ৮৯৩৯, ২৭৪৯৪, ৯৬৩৯, ১০১২৮, ১০১৬০, ১০২১৪, ১১১০৪; মুওয়াত্ত্বা মালিক ২৮, ২৯; দারিমী ১২০৭, ২৮৪৫; ইবনু মাজাহ ৬৭৮। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ আবূ দাউদ ৪৩০।