hadith book logo

আল লু'লু ওয়াল মারজান

৬. মুসাফির ব্যক্তির সলাত ও তা ক্বসর করার বর্ণনা

اللؤلؤ و المرجان

৬/১ পরিচ্ছেদঃ

মুসাফির ব্যক্তির সলাত ও তা ক্বসর করা।

৩৯৮
আল লু'লু ওয়াল মারজান
সহিহ হাদিস
حديث عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ قَالَتْ: فَرَضَ اللهُ الصَّلاَةَ حِينَ فَرَضَهَا رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ، فَأُقِرَّتْ صَلاَةُ السَّفَرِ، وَزِيدَ فِي صَلاَةِ الْحَضَرِ
উম্মু’ল মু’মিনীন ‘আয়িশাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আল্লাহ তা’আলা মুকীম অবস্থায় ও সফরে দু’ রাক’আত করে সলাত র্ফায করেছিলেন। পরে সফরের সলাত আগের মত রাখা হয় আর মুকীম অবস্থার সলাত বাড়িয়ে দেয়া হয়। (বুখারী পর্ব ৮ : /১ হাঃ ৩৫০, মুসলিম ৬/১, হাঃ ৬৮৫)
৩৯৯
আল লু'লু ওয়াল মারজান
সহিহ হাদিস
حديث ابْنِ عُمَرَ عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ عُمَرَ، فَقَالَ: صَحِبْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمْ أَرَهُ يُسَبِّحُ فِي السَّفَرِ وَقَالَ اللهُ جَلَّ ذِكْرُهُ (لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ)
হাফ্‌স ইব্‌নু আসিম (রাযি)থেকে বর্ণিতঃ
ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) বলেন, কোন এক সফরে আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহচর্যে থেকেছি, সফরে তাঁকে নফল সলাত আদায় করতে দেখিনি এবং আল্লাহ্ তা’আলা ইরশাদ করেছেনঃ “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহ্‌র রসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ।” (আহযাবঃ ২১১) (বুখারী পর্ব ১৮ : /১১ হাঃ ১১০১)
৪০০
আল লু'লু ওয়াল মারজান
সহিহ হাদিস
حديث أَنَسٍ رضي الله عنه، قَالَ: صَلَّيْتُ الظُّهْرَ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِالْمَدِينَةِ أَرْبَعًا، وَبِذِي الْحُلَيْفَةِ رَكْعَتَيْنِ
আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে মাদীনায় যুহরের সলাত চার রাক’আত আদায় করেছি এবং যুল-হুলাইফায় ‘আসরের সলাত দু’ রাক’আত আদায় করেছি। (বুখারী পর্ব ১৮ : /৫ হাঃ ১০৮৯, মুসলিম ৬/১ হাঃ ৬৯০)
৪০১
আল লু'লু ওয়াল মারজান
সহিহ হাদিস
حديث أَنَسٍ، قَالَ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنَ الْمَدِينَةِ إِلَى مَكَّةَ، فَكَانَ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ حَتَّى رَجَعْنَا إِلَى الْمَدِينَة سَأَلَهُ يَحْيَى بْنُ أَبِي إِسْحقَ قَالَ: أَقَمْتُمْ بِمَكَّةَ شَيْئًا قَالَ أَقَمْنَا بِهَا عَشْرًا
আনাস (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মাদীনাহ ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি দু’রাক’আত, দু’রাক’আত সলাত আদায় করেছেন। (রাবী বলেন) আমি (আনাস (রাঃ)-কে বললাম, আপনারা মাক্কাহ্য় কত দিন ছিলেন? তিনি বললেন, আমরা সেখানে দশ দিন ছিলাম। (বুখারী পর্ব ১৮ : /১ হাঃ ১০৮১, মুসলিম ৬/১ হাঃ ৬৯৩)
৬/২ পরিচ্ছেদঃ

মিনায় সলাত ক্বসর করা।

৪০৩
আল লু'লু ওয়াল মারজান
সহিহ হাদিস
حديث حَارِثَةَ بْنِ وَهْبٍ الْخُزَاعِيِّ رضي الله عنه قَالَ صَلَّى بِنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَنَحْنُ أَكْثَرُ مَا كُنَّا قَطُّ وَامَنُهُ، بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ
হারিসাহ ইব্‌নু ওয়াহ্‌ব খুযা’য়ী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে মিনাতে দু’ রাক’আত সলাত আদায় করেছেন। এ সময় আমরা আগের তুলনায় সংখ্যায় বেশি ছিলাম এবং অতি নিরাপদে ছিলাম। (বুখারী পর্ব ২৫ : /৮৪ হাঃ ১৬৫৬, মুসলিম ৬/২ হাঃ ৬৯৬)
৪০২
আল লু'লু ওয়াল মারজান
সহিহ হাদিস
حديث عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ، قَالَ: صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ، وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ، وَمَعَ عُثْمَانَ صَدْرًا مِنْ إِمَارَتِهِ، ثُمَّ أَتَمَّهَا
‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বাক্র এবং ‘উমার (রাঃ)-এর সঙ্গে মিনায় দু’রাক’আত সলাত আদায় করেছি। ‘উসমান (রাঃ)-এর সঙ্গেও তাঁর খিলাফতের প্রথম দিকে দু’রাক’আত আদায় করেছি। অতঃপর তিনি পূর্ণ সলাত আদায় করতে লাগলেন। (বুখারী পর্ব ১৮ : /২ হাঃ ১০৮২, মুসলিম ৬/২ হাঃ ৬৯৪)
৬/৩ পরিচ্ছেদঃ

বৃষ্টির কারণে আবাসস্থলে সলাত আদায় করা।

৪০৪
আল লু'লু ওয়াল মারজান
সহিহ হাদিস
حديث ابْنِ عُمَرَ، أَنَّهُ أَذَّنَ بِالصَّلاَةِ فِي لَيْلَةٍ ذَاتِ بَرْدٍ وَرِيحِ، ثُمَّ قَالَ: أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ ثُمَّ قَالَ: إِنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ الْمُؤَذِّنَ، إِذَا كَانَتْ لَيْلَةٌ ذاتُ بَرْدٍ وَمَطَرٍ، يَقُولُ: أَلاَ صَلُّوا فِي الرِّحَالِ
নাফি’ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) একদা তীব্র শীত ও বাতাসের রাতে সলাতের আযান দিলেন। অতঃপর ঘোষণা করলেন, প্রত্যেকেই নিজ নিজ আবাসস্থলে সলাত আদায় করে নাও, অতঃপর তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রচণ্ড শীত ও বৃষ্টির রাত হলে মুআয্‌যিনকে এ কথা বলার নির্দেশ দিতেন- “প্রত্যেকে নিজ নিজ আবাসস্থলে সলাত আদায় করে নাও।” (বুখারী পর্ব ১০ : /৪০ হাঃ ৬৬৬, মুসলিম ৬/৩ হাঃ ৬৯৭)
৪০৫
আল লু'লু ওয়াল মারজান
সহিহ হাদিস
حديث ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ لِمُؤَذِّنِهِ فِي يَوْمٍ مَطِيرٍ: إِذَا قُلْتَ أَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ فَلاَ تَقُلْ حَيَّ عَلَى الصَّلاَةِ، قُلْ صَلُّوا فِي بُيوتِكُمْ فَكَأَنَّ النَّاسَ اسْتَنْكَرُوا، قَالَ: فَعَلَهُ مَنْ هُوَ خَيْرٌ مِنِّي، إِنَّ الْجُمُعَةَ عَزْمَةٌ، وَإِنِّي كَرِهْتُ أَنْ أُحْرِجَكُمْ فَتَمْشُونَ فِي الطِّينِ وَالدَّحْضِ
ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
বর্ণিত। তিনি তাঁর মুয়ায্‌যিনকে এক প্রবল বর্ষণের দিনে বললেন, যখন তুমি (আযানে) ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসূলুল্লাহ বলবে, তখন ‘হাইয়া আলাস্ সালাহ্’ বলবে না, বলবে, “সাল্লু ফী বুয়ুতিকুম” তোমরা নিজ নিজ বাসগৃহে সলাত আদায় কর। তা লোকেরা অপছন্দ করল। তখন তিনি বললেনঃ আমার চেয়ে উত্তম ব্যক্তিই (রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) তা করেছেন। জুমু’আহ নিঃসন্দেহে জরুরী। আমি অপছন্দ করি, তোমাদেরকে মাটি ও কাদার মধ্য দিয়ে যাতায়াত করার অসুবিধায় ফেলতে। (বুখারী পর্ব ১১ : /১৪ হাঃ ৯০১, মুসলিম ৬/৩ হাঃ ৬৯৯)
৬/৪ পরিচ্ছেদঃ

সফরে যানবাহনের উপর নফল সলাত বৈধ মুখ যে দিকেই থাক।

৪০৭
আল লু'লু ওয়াল মারজান
সহিহ হাদিস
حديث عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، أَنَّهُ رَأَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى السُّبْحَةَ بِاللَّيْلِ فِي السَّفَرِ عَلَى ظَهْرِ رَاحِلَتِهِ حَيْتُ تَوَجَّهَتْ بِهِ
‘আমির (ইব্‌নু রাবী’আহ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে রাতের বেলা সফরে বাহনের পিঠে বাহনের গতিমুখী হয়ে নফল সলাত আদায় করতে দেখেছেন। (বুখারী পর্ব ১৮ : /১২ হাঃ ১১০৪ মুসলিম ৬/৪ হাঃ ৭০০)
৪০৬
আল লু'লু ওয়াল মারজান
সহিহ হাদিস
حديث ابْنِ عُمَرَ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي فِي السَّفَرِ عَلَى رَاحِلَتِهِ حَيْثُ تَوَجَّهَتْ بِهِ، يُومِئُ إِيمَاءَ، صَلاَةَ اللَّيْلِ إِلاَّ الْفَرَائِضَ، وَيُوتِرُ عَلَى رَاحِلَتِهِ
ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সফরে ফার্‌য সলাত ব্যতীত তাঁর সওয়ারী হতেই ইঙ্গিতে রাতের সলাত আদায় করতেন। সওয়ারী যে দিকেই ফিরুক না কেন, আর তিনি বাহনের উপরেই বিত্‌র আদায় করতেন। (বুখারী পর্ব ১৪ : /৬ হাঃ ১০০০ মুসলিম ৬/৪ হাঃ ৭০০)
৪০৮
আল লু'লু ওয়াল মারজান
সহিহ হাদিস
حديث أَنَسٍ عَنْ أَنَسِ بْنِ سِيرِينَ، قَالَ: اسْتَقْبَلْنَا أَنَسًا حِينَ قَدِمَ مِنَ الشَّأمِ فَلَقِينَاهُ بِعَيْنِ التَّمْرِ، فَرَأَيْتُهُ يُصَلِّي عَلَى حِمَارٍ، وَوَجْهُهُ مِنْ ذَا الْجَانِبِ، يَعْنِي عَنْ يَسَارِ الْقِبْلَةِ، فَقُلْتُ: رَأَيْتُكَ تُصَلِّي لِغَيْرِ الْقِبْلَةِ، فَقَالَ: لَوْلاَ أَنِّي رَأَيْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَعَلَهُ لَمْ أَفْعَلْهُ
আনাস ইব্‌নু সীরীন (রহঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) যখন শাম (সিরিয়া) হতে ফিরে আসছিলেন, তখন আমরা তাঁকে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করার জন্য এগিয়ে এসেছিলাম। আইনুত্ তাম্‌র (নামক) স্থানে আমরা তাঁর সাক্ষাৎ পেলাম। তখন আমি তাঁকে দেখলাম গাধার পিঠে (আরোহী অবস্থায়) সামনের দিকে মুখ করে সলাত আদায় করছেন। অর্থাৎ কিব্‌লার বাম দিকে মুখ করে। তখন তাঁকে আমি প্রশ্ন করলাম, আপনাকে তো দেখলাম কিব্‌লা ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে সলাত আদায় করছেন? তিনি বললেন, যদি আমি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এরূপ করতে না দেখতাম, তবে আমিও তা করতাম না। (বুখারী পর্ব ১৮ : /৬ হাঃ ১০৯১ মুসলিম ৬/৪ হাঃ ৭০৩)