সহিহ মুসলিম
৫৩. জান্নাত, জান্নাতের নি’আমাত ও জান্নাতবাসীদের বর্ণনা
صحيح مسلم
৫৩/১ পরিচ্ছেদঃ
জান্নাতে এমন একটি গাছ রয়েছে, যার ছায়ায় একজন আরোহী একশ’ বছর পর্যন্ত ভ্রমণ করতে থাকবে কিন্তু এতেও সে তার ছায়া অতিক্রম করতে পারবে না
৭০৩০
সহিহ মুসলিমসাহ্ল ইবনু সা‘দ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ জান্নাতের মাঝে এমন একটি গাছ রয়েছে, যার ছায়ায় একজন আরোহী একশ’ বছর ভ্রমণ করেও তা শেষ করতে পারবে না। (ই.ফা. ৬৮৭৭, ই.সে. ৬৯৩৪)
৭০২৬
সহিহ মুসলিমআবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব বস্তু প্রস্তুত করে রেখেছি, যা কোন চক্ষু কক্ষনো দেখেনি, কোন কর্ণ কক্ষনো শুনেনি এবং যা কোন অন্তঃকরণ কক্ষনো চিন্তাও করেনি। এগুলো আমি তোমাদের জন্য গচ্ছিত করে রেখে দিয়েছি। এ সকল ব্যতীত আল্লাহ তোমাদেরকে যা কিছু দেখিয়েছেন। এর কোনই মূল্য নেই।
তারপর তিনি পাঠ করলেন, “কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন মুগ্ধকর কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান স্বরূপ”- (সাজদাহ্, আয়াত ১৭">সূরাহ্ আস্ সাজদাহ্ ৩২ : ১৭। (ই.ফা. ৬৮৭৩, ই.সে. ৬৯৩০)
তারপর তিনি পাঠ করলেন, “কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন মুগ্ধকর কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান স্বরূপ”- (সাজদাহ্, আয়াত ১৭">সূরাহ্ আস্ সাজদাহ্ ৩২ : ১৭। (ই.ফা. ৬৮৭৩, ই.সে. ৬৯৩০)
৭০২৭
সহিহ মুসলিমসাহ্ল ইবনু সা‘দ আস্ সা‘ইদী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এক সমাবেশে উপস্থিত ছিলাম। তিনি জান্নাতের গুণকীর্তন করে শেষ অবধি বললেন, এতে এমন সব নি‘আমাত রয়েছে যা কোন চক্ষু কক্ষনো দেখেনি, কোন কান কক্ষনো শোনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ কক্ষনো কল্পনাও করেনি। অতঃপর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পাঠ করলেন- ‘তারা শয্যা ত্যাগ করতঃ তাদের প্রতিপালককে ডাকে, আশায় ও আশংকায় এবং তাদেরকে যে রিজিক দান করেছি তা থেকে তারা ব্যয় করে। কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন মনোমুগ্ধকর কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে তাদের কর্মফল স্বরূপ”- (সাজদাহ্, আয়াত ১৬">সূরা আস্ সাজদাহ্ ৩২ : ১৬-১৭)। (ই.ফা. ৬৮৭৪, ই.সে. ৬৯৩১)
৭০২৩
সহিহ মুসলিমআবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সানাদথেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৮৭০, ই.সে. ৬৯২৭)
৭০২৯
সহিহ মুসলিমআবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)থেকে বর্ণিতঃ
অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এতে অতিরিক্ত রয়েছে যে, এতেও সে সফর শেষ করতে পারবে না। (ই.ফা. ৬৮৭৬, ই.সে. ৬৯৩৩)
৭০২৪
সহিহ মুসলিমআবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রথেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব বস্তু তৈরি করে রেখেছি যা কখনো কোন চক্ষু দেখেনি, কোন কান শুনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ কখনো কল্পনাও করেনি।
এ কথাটি অনুরূপ আল-কুরআনেও উল্লেখ রয়েছে- “কেউ জানে না তাদের জন্য নয়ন মুগ্ধকর কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান স্বরূপ”- (সূরাহ্ আস্ সাজ্দাহ্ ৩২ : ১৭)। (ই.ফা. ৬৮৭১, ই.সে. ৬৯২৮)
এ কথাটি অনুরূপ আল-কুরআনেও উল্লেখ রয়েছে- “কেউ জানে না তাদের জন্য নয়ন মুগ্ধকর কী লুকিয়ে রাখা হয়েছে, তাদের কৃতকর্মের প্রতিদান স্বরূপ”- (সূরাহ্ আস্ সাজ্দাহ্ ৩২ : ১৭)। (ই.ফা. ৬৮৭১, ই.সে. ৬৯২৮)
৭০২৫
সহিহ মুসলিমআবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রথেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, আমি আমার নেক্কার বান্দাদের জন্য এমন বস্তু তৈরি করে রেখেছি যা কোন চক্ষু কক্ষনো দেখেনি, কোন কর্ণ কক্ষনো শুনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ যা কক্ষনো চিন্তাও করেনি। এসব নি‘আমাত আমি জমা রেখে দিয়েছি। তবে আল্লাহ তোমাদেরকে যা অবগত করিয়েছেন তা অবগত হয়েছেন। (ই.ফা. ৬৮৭২, ই.সে. ৬৯২৯)
৭০২৮
সহিহ মুসলিমআবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রথেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, জান্নাতে এমন একটি বৃক্ষ আছে, যার ছায়ায় একজন আরোহী একশ’ বছর পর্যন্ত সফর করতে থাকবে। (ই.ফা. ৬৮৭৫, ই.সে. ৬৯৩২)
৭০৩১
সহিহ মুসলিমবর্ণনাকারী আবূ হাযিম (রহঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নু‘মান ইবনু আবূ ‘আইয়্যাশ যুরাকীর কাছে এ হাদীস আমি বর্ণনা করার পর তিনি বললেন, আমাকে আবূ সা‘ঈদ আল খুদ্রী (রাঃ) বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ জান্নাতের মাঝে এমন একটি গাছ রয়েছে, যা দ্রুতগামী শক্তিশালী অশ্বারোহী একশ’ বছর পর্যন্ত চলার পরও তা সে অতিক্রম করতে পারবে না। (ই.ফা. ৬৮৭৭, ই.সে. ৬৯৩৪)
৫৩/২ পরিচ্ছেদঃ
জান্নাতবাসীদের উপর (চিরস্থায়ী) সন্তুষ্টি নাযিল হওয়া এবং কখনো অসন্তুষ্ট না হওয়া
৭০৩২
সহিহ মুসলিমআবূ সা‘ঈদ আল খুদ্রী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ৩এও জান্নাতী লোকদেরকে লক্ষ্য করে আল্লাহ তা‘আলা বলবেন, হে জান্নাতীগন! তারা বলবে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা আপনার আনুগত্যের জন্য উপস্থিত আছি। যাবতীয় কল্যাণ আপনারই হাতে। তারপর তিনি বলবেন, তোমরা কি সন্তুষ্ট হয়েছো? তারা জবাব দিবে, হে আমাদের রব! কেন আমরা সন্তুষ্ট হব না? অথচ আপনি আমাদেরকে এমন বস্তু দান করেছেন যা আপনার সৃষ্টি জগতের অন্য কাউকে দান করেননি। তিনি বলবেন, আমি কি তোমাদেরকে এর থেকে উত্তম বস্তু দান করব না? তারা বলবে, হে পালনকর্তা! এর চাইতে উত্তম বস্তু আর কি হতে পারে? এরপর আল্লাহ বলবেন, আমি তোমাদের উপর আমার সন্তুষ্টি নাযিল করব। অতঃপর তোমাদের উপর আমি আর কক্ষনো অসন্তুষ্ট হব না। (ই.ফা. ৬৮৭৮, ই.সে. ৬৯৩৫)
৫৩/৩ পরিচ্ছেদঃ
জান্নাতীগণ আকাশের তারকারাজির ন্যায় বালাখানাসমূহ দেখতে পাবে
৭০৩৩
সহিহ মুসলিমসাহ্ল ইবনু সা‘দ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ জান্নাতবাসীগণ জান্নাতের সুউচ্চ বালাখানাসমূহ দেখতে পাবে, তোমরা যেমন আকাশের তারকারাজি দেখে থাকো। (ই.ফা. ৬৮৭৯, ই.সে. ৬৯৩৬)
৭০৩৬
সহিহ মুসলিমআবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, জান্নাতের বাসিন্দাগণ জান্নাতের সুউচ্চ প্রাসাদসমূহ উপর দিকে দেখতে পাবে, যেমন দূরবর্তী উজ্জ্বল নক্ষত্রসমূহ তোমরা আকাশের পূর্ব বা পশ্চিম কোণে স্পষ্ট দেখতে পাও। কেননা তাদের পরস্পরের সম্মানের ক্ষেত্রে পার্থক্য সূচিত থাকবে। এ কথা শ্রবণে সহাবাগণ বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ স্তরসমূহ তো নাবীদের জন্য নির্ধারিত। তাদের ছাড়া অন্যেরা তো এ স্তরে কক্ষনো পৌঁছতে পারবে না। জবাবে তিনি বললেন, কেন পারবে না, অবশ্যই পারবে। যে সত্তার হাতে আমার প্রাণ আমি তাঁর শপথ করে বলছি! যে সকল লোক আল্লাহতে ঈমান আনয়ন করে এবং তাঁর রসূলদের প্রতি আস্থা স্থাপন করে, তারা সকলেই এ মর্যাদা সম্পন্ন স্তরসমূহে প্রবেশ করতে সক্ষম হবে। (ই.ফা. ৬৮৮১, ই.সে. ৬৯৩৮)
৭০৩৪
সহিহ মুসলিমনু‘মান ইবনু আবূ ‘আইয়্যাশথেকে বর্ণিতঃ
বর্ণনাকারী বলেন, নু‘মান ইবনু আবূ ‘আইয়্যাশ-এর নিকট এ হাদীসটি আমি বর্ণনা করার পর তিনি বললেন, আমি আবূ সা‘ঈদ আল খুদ্রী (রাঃ)-এর কাছে শুনেছি, তিনি বলেছেন, যেমনিভাবে তোমরা পূর্ব বা পশ্চিম আকাশের উজ্জ্বল তারকারাজি দেখে থাকো। (ই.ফা. ৬৮৭৯, ই.সে. ৬৯৩৬)
৭০৩৫
সহিহ মুসলিমআবূ হাযিম (রহঃ) থেকে উভয় সূত্রথেকে বর্ণিতঃ
ইয়া‘কূব-এর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৮৮০, ই.সে. ৬৯৩৭)
৫৩/৪ পরিচ্ছেদঃ
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে যারা তাদের পরিবার-পরিজন ও ধনৈশ্বর্যের বিনিময়ে দেখতে পছন্দ করবে
৭০৩৭
সহিহ মুসলিমআবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আমার উম্মাতের মাঝে আমাকে বেশি মহব্বতকারী ঐ সব লোকেরা হবে, যারা আবির্ভূত হবে আমার ইন্তিকালের পর, তারা আকাঙ্ক্ষা করবে, হায় যদি তাদের পরিবার-পরিজন এবং ধন-সম্পদের বিনিময়েও আমাকে দেখতে পেত। (ই.ফা. ৬৮৮২, ই.সে. ৬৯৩৯)