পরিচ্ছেদঃ ৭
চতুর্থ পরিচ্ছেদ:
সর্বদা আল্লাহর স্মরণ ও সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করুন। যেন আপনার মুখ সর্বদা আল্লাহর জিকিরে ভিজে থাকে। যে সকল দুআ-কালাম রয়েছে সেগুলো সব সময় আমল করুন।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا اللَّهَ ذِكْراً كَثِيراً (41) وَسَبِّحُوهُ بُكْرَةً وَأَصِيلاً ﴾ [ الأحزاب :42،41]
হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা বেশী বেশী করে আল্লাহর জিকির করো। সকাল সন্ধ্যায় আল্লাহর তাসবীহ করো। (সূরা আল আহযাব, আয়াত ৪১-৪২)
তিনি জিকিরকারীদের সম্পর্কে আরো বলেন,
﴿ وَالذَّاكِرِينَ اللَّهَ كَثِيراً وَالذَّاكِرَاتِ أَعَدَّ اللَّهُ لَهُم مَّغْفِرَةً وَأَجْراً عَظِيماً ﴾ [ الأحزاب :35].
আর জিকিরকারী পুরুষ ও জিকিরকারী নারী. তাদের জন্য আল্লাহ প্রস্তুত করেছেন ক্ষমা ও মহা-পুরুস্কার। (সূরা আল আহযাব, আয়াত ৩৫)
হাদীসে এসেছে
قالت عائشة - رضي الله عنها -: { كان رسول الله - صلى الله عليه وسلم - يذكر الله في كل أحيانه } [ رواه مسلم ]
আয়েশা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সব সময় আল্লাহর জিকির করতেন। (বর্ণনায়: মুসলিম)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
{ سبق المفرّدون } قالوا وما المفردون يا رسول الله؟ قال : { الذاكرون الله كثيراً والذاكرات } [ رواه مسلم ].
মুফাররিদগণ বিজয়ী হয়েছে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! মুফাররিদ কারা? তিনি বললেন, সে সকল জিকিরকারী পুরুষ ও জিকিরকারী নারী যারা বেশী করে আল্লাহ তাআলার জিকির করে। (বর্ণনায়: মুসলিম)
ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন, মোট কথা হল, মানুষ যখন আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমূখ হয় আর পাপাচারে লিপ্ত হয়, তখন তার জীবন ও সময় ধ্বংস হয়ে যায়। এটা হিসাব দিবসে সে অনুভব করবে আর বলবে,
﴿ يَا لَيْتَنِي قَدَّمْتُ لِحَيَاتِي ﴾ [ الفجر :24].
হায় আফসোস! যদি আমি কিছু আগে পাঠাতাম আমার এই জীবনের জন্য। (সূরা আল ফাজর, আয়াত ২৪
হে আমার বোন! জেনে রাখুন, আপনার মৃত্যুর পর কেহ আপনার জন্য নামাজ পড়বে না, রোযা রাখবে না। তাই আপনি আপনার জীবনটাকে কাজে লাগান। বেশী বেশী করে ভাল কাজ, সৎকর্ম, আল্লাহর স্মরণ, ইবাদত-বন্দেগী করতে থাকুন।