পরিচ্ছেদঃ ১১
৪ মাদকদ্রব্য সেবন ইসলামে হারাম ও নিষিদ্ধঃ
এইচআইভি ও এইডস এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো - সুঁই সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করে মাদকদ্রব্য ব্যবহার করা। আল-কুরআনে আল্লাহ তা‘আলা মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাবের কথা উল্লেখ করে সকল প্রকার মদ ও নেশাজাত বস্ত্তর ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন,
﴿يَسَۡٔلُونَكَ عَنِ ٱلۡخَمۡرِ وَٱلۡمَيۡسِرِۖ قُلۡ فِيهِمَآ إِثۡمٞ كَبِيرٞ وَمَنَٰفِعُ لِلنَّاسِ وَإِثۡمُهُمَآ أَكۡبَرُ مِن نَّفۡعِهِمَاۗ﴾ [ البقرة :219]
‘‘তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। আপনি বলে দিন, এ দু'টোর মধ্যে রয়েছে মহাপাপ ও মানুষের জন্য উপকারিতা। তবে এ দু'টোর পাপ উপকারিতা অপেক্ষা ভয়াবহ’’। [আল-বাকারাহ : ২১৯]
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِنَّمَا ٱلۡخَمۡرُ وَٱلۡمَيۡسِرُ وَٱلۡأَنصَابُ وَٱلۡأَزۡلَٰمُ رِجۡسٞ مِّنۡ عَمَلِ ٱلشَّيۡطَٰنِ فَٱجۡتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُونَ ٩٠﴾ [ المائدة :90]
‘‘ হে ঈমানদারগণ! মদ, জুয়া প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারক শরসমূহ শয়তানের অপবিত্র কর্ম। অতএব এগুলো পরিহার কর যেন তোমরা কল্যাণ লাভ করতে পার’’। [আল-মায়িদাহ : ৯০]
মাদকতা ও নেশাগ্রহণ যে শরীর ও স্বাস্থের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে সেটি আজ স্বীকৃত সত্য। অতএব এ সব ক্ষতিকর বস্তু গ্রহণের অর্থ হল ধীরে ধীরে নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংস ও মৃত্যুর মুখোমুখি করা, যা শরীয়তে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿ وَلَا تُلۡقُواْ بِأَيۡدِيكُمۡ إِلَى ٱلتَّهۡلُكَةِ ﴾ [ البقرة :195]
‘‘তোমরা নিজ হাতে নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিও না’’। [আল-বাকারাহ : ১৯৫]
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল নেশাজাত দ্রব্যকেই মাদক বলে অভিহিত করেছেন এবং সকল নেশাজাত দ্রব্যকে হারাম বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন,
«كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وَكُلُّ مُسْكِرٍ حَرَامٌ»
‘‘সকল নেশাজাত দ্রব্যই মাদক এবং সকল নেশাজাত দ্রব্যই হারাম’’। [সহীহ মুসলিম- ৩৭৩৩, ৩৭৩৪]
আরেকটি বর্ণনায় এসেছে,
«كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وَكُلُّ خَمْرٍ حَرَامٌ»
‘‘সকল নেশাজাত দ্রব্যই মাদক এবং সকল মাদকদ্রব্যই হারাম’’। [সহীহ মুসলিম- ৩৭৩৫]
ইসলামে মাদকদ্রব্য মাত্রই হারাম ঘোষিত হয়েছে, এ ব্যাপারে তার পরিমাণ কম বেশী হওয়ার উপর মোটেই দৃষ্টি দেয়া হয়নি। কাজেই তার পরিমাণ কম হোক কি বেশী, উভয় অবস্থায়ই তা হারাম। এ অনৈতিক পথে পা বাড়িয়ে মানুষ যেন ধীরে ধীরে তার জীবনকে বিপন্ন না করে তোলে সে জন্যই এ ব্যবস্থা। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্পষ্ট করে বলেছেন,
«مَا أَسْكَرَ كَثِيرُهُ فَقَلِيلُهُ حَرَام»
‘‘বেশী পরিমাণ গ্রহণ করলে যা নেশাগ্রস্ত করে, তা কম পরিমাণ গ্রহণ করাও হারাম’’। [সুনান আবি দাঈদ-৩১৯৬, সুনান তিরমিযি-১৭৮৮, মুসনাদ আহমাদ-৫৩৯০, ৬৩৮৭, ৬২৭১, ১১৬৫৬, ১৪১৭৬]
আনাস ইবনু মালিক রা. এর হাদীসে এসেছে,
«لعن رسول الله صلى الله عليه و سلم في الخمر عشرة عاصرها ومتعصرها وشاربها وحاملها والمحمولة إليه وساقيها وبائعها وآكل ثمنها والمشتري لها والمشتراة له»
‘‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দশ ব্যক্তিকে মদসংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে অভিশাপ দিয়েছেন। তারা হল : মদ উৎপাদনকারী, যে উৎপাদন করায়, মদ্যপায়ী, বহনকারী, যার কাছে বহন করে নেয়া হয়, যে মদ পরিবেশন ও পান করায়, মদ্যবিক্রেতা, বিক্রয়মূল্য ভোগকারী, ক্রেতা এবং যার জন্য ক্রয় করা হয়’’। [সুনান তিরমিযি-১২১৬, সুনান ইবন মাজাহ-৩৩৭২]
ইবনে হাজার রহ. বলেন, ‘‘((সকল নেশাজাত দ্রব্যই হারাম)) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এ বাণীর ব্যাপকতা থেকে বোঝা যায় - যা মানুষকে নেশাগ্রস্ত করে, তা যদি সুরা নাও হয়, তাহলেও তা হারাম। সুতরাং আফিম ও অন্যান্য জিনিস এ বিধানের অন্তর্ভূক্ত হবে’’। [ ফাতহুল বারী শরহ সহীহ আল-বুখারী, খন্ড ১০ পৃ. ৩৮]
ইমাম ইবনু তাইমিয়াহ রহ. বলেন,‘‘নেশা সৃষ্টিকারী অভিশপ্ত আফিম অন্য সকল নেশাজাত দ্রব্যাদির স্থলাভিষিক্ত। সকল আলেমদের ঐকমত্যে নেশাকর সব কিছু হারাম। বরং মানুষের আকল ও বিবেককে নষ্ট করে এমন সব বস্ত্ত যদি নেশাকর নাও হয় যেমন ভাঙ, তা ভক্ষণ করাও হারাম’’। [মাজমু’ ফাতাওয়া ইমাম ইবনি তাইমিয়াহ খন্ড ৩৪ পৃ. ২০৪]