পরিচ্ছেদঃ ৯
সাত : আল্লাহর সাথে কৃত আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি পূরণ করা
মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন,
(আরবি)
নিশ্চয় আল্লাহ মুমিনদের থেকে তাদের জান ও মাল ক্রয় করে নিয়েছেন ( এর বিনিময়ে) যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা আল্লাহর পথে লড়াই করে। অতএব তারা মারে ও মরে। তাওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে এ সম্পর্কে সত্য ওয়াদা রয়েছে। আর নিজ ওয়াদা পূরণে আল্লাহর চেয়ে অধিক কে হতে পারে? সুতরাং তোমরা (আল্লাহর সঙ্গে) যে সওদা করেছ, সে সওদার জন্য আনন্দিত হও এবং সেটাই মহাসাফল্য। [ সূরা তাওবা : ১১১]
হাসান আল-বসরি ও কাতাদা রাহিমাহুমাল্লাহ বলেন, আল্লাহ তাআলা তাদের সাথে চুক্তি করে তাদের মূল্য অনেক বাড়িয়ে দিয়েছেন।
শামির ইবন আতিয়্যাহ বলেন, প্রতিটি মুসলিমের ঘাড়েই আল্লাহর সাথে সম্পাদিত একটি চুক্তির দায় রয়েছে। সে সেটি পূরণ করুক কিংবা তার উপর মৃত্যু বরণ করুক। অর্থাৎ, যে ব্যক্তি সেই চুক্তির চাহিদা বাস্তবায়ন করবে এবং প্রতিজ্ঞা পূরণ করবে সে যেন মহাসফলতা ও চিরস্থায়ী নিয়ামতের সুসংবাদ গ্রহণ করে আনন্দিত হয়। [ তাফসির ইবন কাসির: ৪/২১৮]
প্রিয় পাঠক, এই চুক্তি ও বাণিজ্যের মূল্য ও মর্যাদা সম্বন্ধে যদি জানতে চান তাহলে একটু লক্ষ্য করুন, এই চুক্তিতে ক্রেতা কে? ক্রেতা হচ্ছেন মহিয়ান গরিয়ান মহান আল্লাহ। বিনিময়ের প্রতি দৃষ্টি দিন, যা কিনা সর্বোচ্চ পর্যায়ের বিনিময়; জান্নাতুন নায়ীম। লগ্নিকৃত পুঁজির দিকে তাকান, আর তা হচ্ছে জান ও মাল- যা প্রতিটি মানুষের সর্বাধিক প্রিয় জিনিস। এবার লক্ষ্য করুন এ চুক্তি কার হাতে সম্পাদিত হয়েছে, তিনি হচ্ছেন সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মানিত, সর্বাধিক মর্যাদাবান, সর্ব শ্রেষ্ঠ রাসূল। আর কোন কিতাবে তা লেখা হয়েছে, তা হচ্ছে মহান আল্লাহর নাজিলকৃত সব চেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন কিতাব যা নাজিল হয়েছে সর্বশ্রেষ্ঠ মাখলুকের উপর। [ তাফসির সাদি: ৩৫২]
এটি একটি সম্পাদিত চুক্তি। সুসম্পন্ন বাণিজ্য। ক্রেতার স্বাধীনতা এখানে অবিসংবাদিত। যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন। যে কোনো শর্ত আরোপ করতে পারেন। যে কোনো সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ করতে পারেন। তবে বিক্রেতার কোনো স্বাধীনতা নেই এখানে। তার করণীয় শুধু নির্দেশিত ও নির্ধারিত রাস্তায় সম্মুখপানে চলতে থাকা। এদিক সেদিক তাকানোর সুযোগ নেই, নেই কোনো এখতিয়ার। আলোচনা, বাদানোবাদ বা জিজ্ঞাসা করারও কোনো সুযোগ নেই। মান্যতা, আনুগত্য ও কাজ ছাড়া তার কোনো ভূমিকা নেই এখানে। মূল্য হচ্ছে, জান্নাত। আর রাস্তা জিহাদ ও লড়াই। চূড়ান্ত ফলাফল, হয়ত সাহায্য না হয় শাহাদাত।
মুজাহিদের হারানোর কি আছে? কি হাতছাড়া হয় তার? যে মুমিন নিজ জান ও মাল জান্নাত প্রাপ্তির আশায় আল্লাহর জন্য সপর্দ করেছে, তার হারানোর কী আছে? আল্লাহর শপথ, তার কিছুই হাতছাড়া হয় না, কোনো কিছুই তার হারাবার নেই। জান, সে তো মৃত্যুপানের অভিযাত্রী আর সম্পদ, সেওতো ফুরিয়ে যাবার জন্যই চাই (এদের) মালিক আল্লাহর রাস্তায় শেষ করে কিংবা অন্য কারো রাস্তায়...