সকল প্রশংসা আল্লাহ তাআলার যিনি মুহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শিক্ষক, তত্ত্বাবধায়ক ও পথপ্রদর্শক হিসেবে প্রেরণ করে আমাদেরকে সম্মানিত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آَيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ ﴿১৬৪﴾
আল্লাহ তাআলা মুমিনদের উপর ইহসান করেছেন তাদের মধ্য থেকে একজন রাসূল প্রেরণ করে, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করে শোনায়, তাদেরকে বিশুদ্ধচিত্ত করে, এবং তাদেরকে কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেয়। যদিও তারা ইত:পূর্বে সুস্পষ্ট বিপথে ছিল।
দরূদ ও সালাম আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর যিনি সৃষ্টির সেরা ও সর্বোত্তম, বিশ্ববাসীর আদর্শ, আল্লাহ ভীরুদের ইমাম, নবী-রাসূলদের ধারাবাহিকতা সমাপ্তকারী ও বিশ্ববাসীর জন্য রহমত স্বরূপ এবং যাকে আল্লাহ তাআলা মনোনীত করেছেন। কুরআনে এসেছে :
আর তোমার প্রভুর যা ইচ্ছা ও পছন্দ তা তিনি সৃষ্টি করেন। এবং আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের যাকে ইচ্ছা রাসূল হিসেবে নির্বাচন করেন ও মানুষদের থেকে যাকে ইচ্ছা তাকে রাসূল হিসেবে নির্বাচন করেন।
তিনি তাঁকে সাক্ষ্য দাতা, সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। এবং আল্লাহর অনুমতিতে তাঁর দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা হিসেবে পাঠিয়েছেন।
সুতরাং যে তার পথে চলবে তার জন্য তিনি সম্মান, সৌভাগ্য ও গৌরব নির্ধারণ করেছেন। আর যে তার আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করবে তার জন্য তিনি অপমান, দুর্ভাগ্য ও লাঞ্ছনা নির্ধারণ করে রেখেছেন। সুতরাং আল্লাহর রহমত ও শান্তি তাঁর উপর ততবার বর্ষিত হোক যতবার আল্লাহ ওয়ালারা পাঠ করে ও যতবার রাত্র দিনের আনা গোনা হয়।
আমারা সকলেই জানি যে, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মজলিস অপেক্ষা উত্তম আর কোন মজলিস হতে পারে না। সাহাবায়ে কেরাম পৃথিবীতে তাঁর সাথে ওঠা-বসা, তার কাছ থেকে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ ইত্যাদির সংলগ্নতায় আসতে পেরেছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে তাদের কাছে পাওয়ার সুবাদে। আমাদের ক্ষেত্রেও তাঁর সীরাত অধ্যয়ন করা, তাঁর সুন্নতের পাঠোদ্ধার, তাঁর আদর্শ ও ব্যক্তিত্বের চিহ্নগুলো নির্ণয় করা -যা পূর্ণাঙ্গ করুণা, উদারতা, ভদ্রতা, সম্মান ও সদাচারে ভরা- আল্লাহর রহমত ও করুণায় সহজসাধ্য ব্যাপারে পরিণত হয়েছে।
অনেক দিন থেকেই সংক্ষিপ্ত ও সহজবোধ্য কিছু অধ্যায় রচনার চিন্তা আমার মনে উঁকি দিচ্ছিল। যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত ও তাঁর জীবনের অনুসরণীয় দিকগুলো একজন মুসলমানের সামনে উন্মোক্ত করবে। এবং নিম্নোক্ত আয়াতের দাবি বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। ইরশাদ হয়েছে,
لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ لِمَنْ كَانَ يَرْجُو اللَّهَ وَالْيَوْمَ الْآَخِرَ وَذَكَرَ اللَّهَ كَثِيرًا ﴿২১﴾ .
নিশ্চয় তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাঝেই রয়েছে উত্তম আদর্শ যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহ তাআলাকে অধিক স্মরণ করে।
আরো ইরশাদ হয়েছে,
وَمَا آَتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا রাসূল তোমাদের নিকট যা নিয়ে আসেন তা আঁকড়ে ধর। আর যা থেকে নিষেধ করেন তা হতে বিরত থাক।
আমি এই অধ্যায়গুলোকে টীকা-টিপ্পনি দিয়ে জটিল ও ভারি করতে চাইনি। কেননা এ অবস্থায় পাঠকবৃন্দের মনোযোগ মূল বিষয় থেকে সরে যেতে পারে। বরং আমি চেয়েছি বড় বড় অক্ষরে মূল আরবী কিতাবটি ছাপা আকারে দেখতে, যাতে শিক্ষাদানে আগ্রহী মসজিদের ইমাম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দের পক্ষে নিজ নিজ মুসল্লিবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দান সহজতর হয়।
যারা চিন্তা, গবেষণা ও শ্রম দিয়ে বইটি বর্তমান আঙ্গিকে প্রকাশ করার ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়েছেন, আমি তাদেরকে ধন্যবাদ না জানিয়ে পারছি না। বিশেষ করে উল্লেখ করছি আমার ভাই খালিদ আবু সালেহকে যিনি বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও সংযোজন করে বইটি সমৃদ্ধ করতে বিশেষ অবদান রেখেছেন। এবং উস্তাদ মুহাম্মদ তায়ে'কে সম্পাদনার দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালনের জন্য। আরো ধন্যবাদ পাওয়ার দাবি রাখেন ফুসতাত প্রকাশনীর মালিক উস্তাদ ইমাম আরফাহ। ঝকঝকে ছাপায় বইটি পাঠকের হাতে পৌঁছে দেয়ার ক্ষেত্রে যার অবদান অতুলনীয়। তাছাড়া তিনি বইয়ের মূল্য নির্ধারণ করেছেন যথেষ্ট কমিয়ে এতে করে বিনামূল্যে বিতরণে আগ্রহী ব্যক্তিবর্গ বইটি সহজে ক্রয় করতে পারবেন।
রচিত অধ্যায়গুলো যারা পড়বেন তাদের কাছে আমি আশা করতেই পারি দোয়ার মাঝে আমাকে ভুলে যাবেন না। যে কোন মন্তব্য অথবা পর্যালোচনার জন্য আমার ই-মেইল সব সময় উন্মোক্ত।
ই-মেইল এড্রেস :
[email protected]হে আল্লাহ, আমাদেরকে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হক পরিপূর্ণরূপে আদায় করার তাওফিক দান কর। তাঁর সুন্নাত ও সুমহান আদর্শের খাদেম বানিয়ে দাও। তাঁর অনুসরণের মধ্যমে দুনিয়া ও আখেরাতে আমাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করে দাও। হে আল্লাহ, জান্নাতে আমাদের সকলকে তোমার হাবিবের সান্নিধ্য দান কর। আমাদের যাবতীয় আমল একমাত্র তোমার সন্তষ্টির উদ্দেশ্যে সম্পাদনের তাওফিক দান কর।
و صلى الله على نبينا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين ড. আদেল বিন আলী আশশিদ্দী
কিং সউদ বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষক, উলূমুল কুরআন ও তাফসির বিভাগ
খতীব: জামে মসজিদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আবাসিক এলাকা।