পরিচ্ছেদঃ ১৩
১১. হজের নিয়তে বের হবার পর থেকেই পুণ্য লেখা হতে থাকে :
বাইতুল্লাহর হজের নিয়তে বের হলে তা সম্পন্ন করার অপেক্ষা করা হয় না। ঘর থেকে বিদায় নিয়ে সামনে অগ্রসর হওয়া থেকে তার প্রতি কদমে নেকী লেখা হয়, গুনাহ মাফ করা হয় এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। যেমন : আবদুল্লাহ ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« أَمَّا خُرُوجُكَ مِنْ بَيْتِكَ تَؤُمُّ الْبَيْتَ فَإِنَّ لَكَ بِكُلِّ وَطْأَةٍ تَطَأُهَا رَاحِلَتُكَ يَكْتُبُ اللَّهُ لَكَ بِهَا حَسَنَةً وَيَمْحُو عَنْكَ بِهَا سَيِّئَةً » .
‘তুমি যখন বাইতুল্লাহর উদ্দেশ্যে আপন ঘর থেকে বের হবে, তোমার বাহনের প্রত্যেকবার মাটিতে পা রাখা এবং পা তোলার বিনিময়ে তোমার জন্য একটি করে নেকী লেখা হবে এবং তোমার গুনাহ মাফ করা হবে।’ [তাবরানী, মু‘জামুল কাবীর : ১৩৫৬৬]
তেমনি আরেক হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, আনাস ইবন মালেক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« فَإِنَّكَ إِذَا خَرَجْتَ مِنْ بَيْتِكَ تَؤُمُّ الْبَيْتَ الْحَرَامِ ، لا تَضَعُ نَاقَتُكَ خُفًّا وَلا تَرْفَعُهُ إِلَّا كَتَبَ اللَّهُ لَكَ بِهِ حَسَنَةً ، وَحَطَّ عَنْكَ بِهِ خَطِيئَةً ، وَرَفَعَكَ دَرَجَةً» .
‘কারণ যখন তুমি বাইতুল্লাহর উদ্দেশ্যে আপন ঘর থেকে বের হবে, তোমার উটনীর প্রত্যেকবার পায়ের ক্ষুর রাখা এবং ক্ষুর তোলার সঙ্গে সঙ্গে এর দ্বারা আল্লাহ তোমার জন্য একটি করে নেকী লিখে দেন, তোমার একটি করে গুনাহ ক্ষমা করে দেন এবং তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন।’ [সহীহুত-তারগীব ওয়াত-তারহীব : ১১১২]
তবে অন্যসব আমলের মতো হজ-উমরার ক্ষেত্রেও দুটি কথা বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয়। আর তা হলো, যিনি কেবল আল্লাহকে রাজি-খুশি করার জন্য আমল করবেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ মুতাবিক হজ-উমরা সম্পন্ন করবেন, তিনিই এসব ফযীলত অর্জন করবেন। কারণ, যে কোনো আমল আল্লাহর কাছে কবুল হবার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে, যা অবশ্যই পূরণ করতে হবে।
প্রথম শর্ত : নিয়ত শুদ্ধ হওয়া, অর্থাৎ একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য করা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« إِنَّمَا الأَعْمَالُ بِالنِّيَّاتِ، وَإِنَّمَا لِكُلِّ امْرِئٍ مَا نَوَى » .
‘সকল কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। প্রত্যেকে তাই পাবে, যা সে নিয়ত করবে।’ [বুখারী : ১; আবূ দাউদ : ২২০১] দ্বিতীয় শর্ত : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ মোতাবেক হওয়া। কারণ, তিনি বলেছেন,
« مَنْ عَمِلَ عَمَلاً لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهْوَ رَدٌّ » .
‘যে এমন আমল করল, যাতে আমাদের অনুমোদন নেই, তা প্রত্যাখ্যাত’। [মুসলিম : ১৭১৮]
অতএব, আমাদের সবার কর্তব্য হবে অনতিবিলম্বে এত সব ফযীলত লাভের জন্য সচেষ্ট হওয়া। যার ওপর হজ ফরয হয়েছে তিনি কালবিলম্ব না করে এখনই হজে যাবার প্রস্তুতি নেয়া। কারণ, আমরা কেউ জানি না আমাদের মৃত্যু কখন এসে পড়ে। এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আলী রাদিয়াআল্লাহু ‘আনহু কর্তৃক বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
« مَنْ مَلَكَ زَادًا وَرَاحِلَةً تُبَلِّغُهُ إِلَى بَيْتِ اللَّهِ وَلَمْ يَحُجَّ فَلاَ عَلَيْهِ أَنْ يَمُوتَ يَهُودِيًّا أَوْ نَصْرَانِيًّا وَذَلِكَ أَنَّ اللَّهَ يَقُولُ فِى كِتَابِهِ ( وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلاً ) » .
‘যে ব্যক্তি এতটুকু পাথেয় ও বাহনের মালিক যা তাকে আল্লাহর ঘর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, তথাপি সে হজ করল না, তবে জানা নেই তার কী হল, সে ইহূদী হয়ে মারা গেল নাকি খ্রিস্টান হয়ে। আর তা এ কারণে যে আল্লাহ তাঁর কিতাবে বলেছেন, ‘আর মানুষের জন্য ফরয হলো আল্লাহর ঘরের হজ করা যে এতে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে।’ [তিরমিযী : ৮১২, আবূ ঈসা ও আলবানী হাদীসটিকে ‘যঈফ’ বলেছেন।]
আর আমরা যারা হজে যাব তাদের কর্তব্য হবে, নিজের নিয়ত শুদ্ধ করে রাসূলুল্লাহ সুন্নাহ মোতাবিক হজ-উমরা করতে আলেম-উলামা ও নির্ভরযোগ্য পুস্তক-পুস্তিকার শরণাপন্ন হওয়া। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কবূল হজ করার তাওফীক দিন।