সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব জগতের রব আল্লাহর জন্য এবং সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক আমানতদার নবী মুহাম্মাদ এবং তাঁর পরিবার ও তাঁর সকল সাহাবীর ওপর। অতঃপর:
আল্লাহ তাবারাকা ওয়াতা‘আলা বলেন,
قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ [
الزمر : 9]
“বল, যারা জানে আর যারা জানে না তারা কি সমান?” [আয-যুমার : ৯]
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«مَنْ يُرِدِ الله بِهِ خَيْرًا يُفَقِّهْهُ فِي الدِّينِ» [
متفق عليه ]
“আল্লাহ যার মঙ্গল চান, তাকে দীনের ‘ইলম দান করেন।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)] আলেমগণ বলেছেন, হাদীসের অর্থ : আল্লাহ যার কল্যাণ চান না, তাকে দীনের ‘ইলম দান করেন না।
শিক্ষা করা ওয়াজিব বিবেচনায় শরয়ী ইলম দুই ভাগে বিভক্ত:
প্রথম প্রকার: যা প্রতিটি মুসলিমের ওপর শিক্ষা করা ওয়াজিব। আর তা হলো এমন ইলম যার দ্বারা একজন ব্যক্তি তার আকীদা (বিশ্বাস), ইবাদাত ও যেসব লেনদেন সে আঞ্জাম দেয় তা সহিহ ও শুদ্ধ করতে পারে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«مَنْ عَمِلَ عَمَلا لَيْسَ عَلَيْهِ أَمْرُنَا فَهُوَ رَدٌّ» [
متفق عليه ]
“যে কেউ এমন আমল করল যা আমাদের শরী‘আতে নেই তা প্রত্যাখ্যাত।” [মুত্তাফাকুন ‘আলাইহি (বুখারী ও মুসলিম)] অর্থাৎ, যে ব্যক্তি এমন ইবাদাত দ্বারা আল্লাহর ইবাদাত করল যা আল্লাহ ও তার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমোদন দেননি, তার আমল তার ওপরই প্রত্যাখ্যাত এবং আল্লাহর নিকট তা গ্রহণযোগ্য নয়।
দ্বিতীয় প্রকার: যা ওয়াজিব ইলমের অতিরিক্ত ইলম। এটি ফরযে কিফায়াহ। যখন তার শিক্ষার ভার এমন কেউ গ্রহণ করবে যে উম্মাতের পক্ষ থেকে যথেষ্ট হবে, তখন বাকীদের থেকে পাপ ওঠে যাবে।
আমি এ কিতাবে আকীদা, আহকাম, আখলাক ও মুআমালাত সম্পর্কীয় এমন সব বিষয় জমা করার চেষ্টা করেছি যা কোনো মুসলিমের অজানা থাকা সমীচিন নয়। [ [মানুষ তার জীবনে যা চর্চা করে (বা যেসব পেশায় নিয়োজিত থাকে) তার ওপর ভিত্তি করে তার নির্দিষ্ট ইলম ও বিধান শিক্ষা করা ওয়াজিব। কাজেই যে ব্যক্তি শেয়ার ও স্টক এক্সচেঞ্জ-এর সাথে লেনদেন করে তার ওপর এ সংশ্লিষ্ট ইলম অর্জন করা ওয়াজিব। আর একজন ডাক্তারকে ডাক্তারী পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত ইলম অর্জন করা ওয়াজিব। মোট কথা হলো, একজন মুসলিম তার জীবনে যা চর্চা করে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো শেখা তার ওপর ওয়াজিব, যাতে সে জেনে-বুঝে আল্লাহর ইবাদত করতে পারে এবং অজ্ঞতাবশত কোনো নিষিদ্ধ কাজে লিপ্ত না হয়।]]
আমি এটিকে সহজ পদ্ধতি ও সহজ ভাষায় করার চেষ্টা করেছি যেন তা সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে। তারপর আমি এটিকে বিভিন্ন আসর ও ছোট ছোট মজলিসে ভাগ করেছি যাতে তা শেখা ও শিখানো সহজ হয়।
আশা করছি এ বইটি বিভিন্ন পেশার মুসলিম ভাইদের জন্য উপকারী হবে:
সুতরাং একটি মুসলিম পরিবার পালাক্রমে এক সভার আয়োজন করতে পারে যেখানে এ কিতাব ও অন্যান্য উপকারী কিতাব পাঠ করা হবে।
মসজিদের ইমামের পক্ষে সালাত শেষে তার মসজিদের মুসল্লিদের সামনে এটি উপস্থাপন করা সম্ভবপর।
আল্লাহর দিকে আহ্বানকারীর পক্ষে তার আলোচনা ও দারসে এ কিতাবটি রাখা ও তার দ্বারা উপদেশ ও নসিহত প্রদান করা সম্ভব।
শিক্ষক তার দারসে তার ছাত্রদের উপযোগী বিষয়গুলো এ কিতাব থেকে বাছাই করবেন যেন তিনি তাদেরকে তাদের দীনি বিষর্য়ে শিক্ষা দিতে পারেন।
আবার তার বিষয়গুলো স্যাটেলাইট চ্যানেল ও অডিও সম্প্রচারে ভিডিও ও অডিও পর্বে পেশ করা সম্ভব।
একজন ব্যক্তি, মুসলিম পুরুষ হোক বা মুসলিম নারী হোক, সে এটি একাকী বা তার আত্মীয়স্বজন ও সহকর্মীদের নিয়ে পাঠ করে তার থেকে উপকৃত হতে পারে।
এ ছাড়া প্রভৃতি তরিকা রয়েছে এ কিতাব থেকে উপকৃত হওয়ার। আল্লাহর নিকট আশা করি, যেন কিতাবটি তার পাঠক, শ্রোতা ও লেখকের ওপর বরকতময় হয়।
এই বইয়ের বিষয় আলেম ও গুণীদের কিতাব এবং বড় আলেমদের ফতোয়া [ [আমি বইয়ের শেষে তথ্য সূত্র উল্লেখ করেছি।]] থেকে সংগ্রহ করেছি এবং আমি তা সাজিয়েছি ও সুবিন্যস্ত করেছি। এটি মানুষিক প্রচেষ্টা যাতে ভুল-ত্রুটি হওয়া স্বাভাবিক। তাই তা প্রথমত আল্লাহর সংশোধন তারপর যিনি তা দেখবেন তার সংশোধনীর মুখাপেক্ষী।
আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করি যে, তিনি এটিকে একমাত্র তাঁর নিজের জন্যে গ্রহণযোগ্য ও উপকারী বানিয়ে দিন। আর এতে যা ভুল-ত্রুটি বা অসম্পূর্ণতা রয়েছে তা ক্ষমা করে দিন। এমনিভাবে তাঁর কাছে চাই যে, যারা এ কাজে আমাকে সহযোগিতা করেছেন এবং ভালো পরামর্শ দিয়েছেন তাদের প্রত্যেককে উত্তম বিনিময় দান করেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।
তুরকী ইবন ইবরাহীম আল-খানীযান
৫/১২/১৪৪০ হি.
[email protected]