পরিচ্ছেদঃ ১৯
বইয়ের ভূমিকা লেখা একটি সাক্ষী
অনেকেই বইয়ের ভূমিকা লিখে নেওয়ার জন্য আসেন, তারা বলেন যে, আপনি লিখে দিন, এ বইটি ভাল ও সঠিক। অথচ কেউ যখন সম্পূর্ণরূপে কোনো বই না পড়বে অথবা তাতে আলোচিত বিষয়ের উপর পূর্ণভাবে অবগত না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কিভাবে তা লিখে দেয়া সম্ভব যে, এটা সঠিক বই? কিভাবে বলল যে, এর মধ্যে কোন ভুল নেই?
অনেক লোক এ ধারণাবশত ভূমিকা লিখে দেন যে, এ ভূমিকার ফলে পুস্তক লেখকের ফায়দা হবে, তার মঙ্গল হবে। অথচ ভূমিকা একটি সাক্ষীস্বরূপ এবং তার সাক্ষীতে ভুল থাকাটাকে মানুষ ভুল হিসেবে মনেই করবে না।
অনেকেই বলেন, জনাব! আপনার কাছে তো সামান্য কাজের জন্যই এসেছি। একটু কষ্ট করে যদি দুই কলম লিখে দিতেন, অথবা একটি সার্টিফিকেট দিতেন তাহলে খুব উপকার হতো, আপনারও কোনো ক্ষতি হতো না? লোকটি অথবা বইটি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে যদি না লিখে দেই তবেই সে মনে মনে বলতে শুরু করে, এই মানুষটি তো খুব খারাপ, কাউকে একটি সার্টিফিকেট পর্যন্ত লিখে দিতে চান না।
অথচ কথা তো তা নয়। মূল বিষয় হচ্ছে, আল্লাহর নিকট জবান থেকে বের হয়ে-আসা প্রতিটি কথারই হিসেব দিতে হবে। যা কলম দ্বারা লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে তা তো আল্লাহর নিকট রেকর্ড হচ্ছেই। জিজ্ঞাসিত হতে হবে যে, তুমি অমুক সুন্দর শব্দসমূহ যা মুখ থেকে বের করেছ তা কোন ভিত্তির উপর করেছ? তা স্বেচ্ছায় প্রনোদিত হয়ে করেছ ; না অনিচ্ছাকৃতভাবে করেছ।