পরিচ্ছেদঃ ২
সৃজনশীল ও বৈজ্ঞানিক চিন্তার: একটি ভূমিকা
মানুষের একটি অনিবার্য বৈশিষ্টের নাম চিন্তা। চিন্তা ছাড়া কোন মানবীয় অস্তিত্ব সম্ভব নয়। মূলত চিন্তাই মানুষকে অন্যান্য সৃষ্ট-প্রাণী থেকে আলাদা করে দিয়েছে। স্বাভাবিক কোন মানুষই, চিন্তাহীন থাকতে পারে না। চিন্তা নিয়ে যারা গবেষণা করেন, তারা চিন্তার উৎস ও লক্ষ্য উদ্দেশ্য নিয়ে নানা কথা বলেন। তবে যারা সত্যিকার মুসলমান, তরা চিন্তাকে মনে করেন আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে পাওয়া একটি বিশেষ দান।
আল্লাহ মানুষকে এই সম্পদ দান করেছেন যাতে তা ব্যবহার করে মানুষ আল্লাহ সম্পর্কে জানতে পারে, পৃথিবী গড়তে পারে এবং নববী আদর্শ অনুসারে সভ্যতার প্রাসাদ নির্মাণ করতে পারে। সুতরাং মানুষের ব্যক্তিজীবন, সামাজিক-জীবন, ধর্মীয় ও পার্থিব-জীবন, বুদ্ধিবৃত্তিক ও বাস্তব কর্মজীবনে চিন্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সুতরাং চিন্তার ক্ষেত্রেও আমাদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা জরুরি।
বর্তমানের প্রথাগত চিন্তার যে পদ্ধতি তা নিয়ে আমাদের পুণরায় ভাবতে হবে। আমাদের পরীক্ষা করতে হবে চিন্তার যে মূল-লক্ষ্য তা এই পদ্ধতিতে অর্জন হওয়ার মতো কিনা। অর্থাৎ দেখতে হবে তা উবুদিয়াতের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে কতটা সহায়ক । যদি তা এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়, তাহলে আমাদের চিন্তার এই প্রচলিত পদ্ধতির অবকাঠামো ভেঙ্গে নতুন চিন্তা-পদ্ধতি ও চিন্তা কাঠামো তৈরি করতে হবে। এই ভ্রান্ত পদ্ধতি, মানসিক দাসত্ব-শৃংখল এবং যেসব বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধকতা সঠিক-সুস্থ চিন্তাকে প্রতিহত করে, বা স্বতঃস্ফূর্ত সৃষ্টিশীলতার পথ রুদ্ধ করে, সেগুলো ভেংগে চিন্তার নতুন পদ্ধতি- কাঠামো দাঁড় করাতে হবে।
বাস্তবতার নিরিখে, আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক, মনস্তাত্বিক ও সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক পরিবেশ-পরিস্থিতির বিচারে চিন্তা একটি জটিল বিষয়। প্র্রকৃতপক্ষে চিন্তা, নিরর্থক-অন্তঃসারশূন্য, প্রচলিত কোনো পদ্ধতির নাম নয়, তা বরং এমন এক নিয়ম-নীতির নাম যা চিন্তার সঠিক দিশারি, বিবেক-বুদ্ধির আলোকবর্তিকা, চিন্তাপ্রসূত-দূরদর্শী বিভিন্ন দৃষ্টিভংগিসম্পন্ন সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী মনকে মোহকারী হিসেবে কাজ করে ।
চিন্তা নিয়ে ভাবলে বেশকিছু প্রশ্ন সৃষ্টি হয়, যার সঠিক জওয়াব আসা অপরিহার্য, যাতে চিন্তার দিকগুলো বিশুদ্ধকরণ, পরিপূর্ণ মানসিক সুস্থতার পুনরুদ্ধার, অভিষ্ট লক্ষ্যসমূহ সমৃদ্ধকরণ ও সৃজিত বিষয়াদির সম্পাদনার গুণগত মান উৎকৃষ্টকরণ সম্ভবপর হয়।
বেশকিছু গুরুতপূর্ণ প্রশ্ন নিম্নে উল্লেখ করা হল
- চিন্তা কী ? মানুষ কিভাবে চিন্তা করে ?
-চিন্তাকে পরিপক্ক ও উৎকৃষ্টকারী উপাদান কি কি ?
- চিন্তাকে নষ্ট ও লক্ষ্যচ্যূতকারী উপাদান কি কি ?
- এক বিষয়ে ব্যস্ততা অন্য বিষয়ে উদাসীনতা কেন হয় ? কোন বিষয়কে এক সময়ে গুরুত্ব দেওয়া অন্য সময়ে অবহেলা কেন করা হয় ?
- চিন্তা ও ভাষার সম্পর্ক কি ? নির্দিষ্ট ভাষা ব্যতীত চিন্তা করা সম্ভব কি-না?
- ইন্দ্রিয়শক্তিগুলো আমাদেরকে চিন্তা কর্মের পূর্বে অনুভূতি প্রক্রিয়ায় প্রতারিত করে কি না ?
-পরিবেশ চিন্তা প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক বা নেতিবাচক প্রভাব ফেলে কি ?
-চিন্তা মানুষকে কিভাবে সফল করে ?
- শেখা ও চর্চার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক চিন্তা অর্জন করা সম্ভব কি না ? নাকি এটা সৃষ্টি ও স্বভাবগত বিষয়?
- প্রচলিত চিন্তা বৈজ্ঞানিক চিন্তার সাথে সঙ্গতি রাখে কি না ?
- মাঝে মাঝে সম্মিলিত চিন্তায় আমরা লাভবান হই না কেন ?
- সৃজনশীল চিন্তা কি ? মানুষ কি সৃজনশীল বা আবিষ্কারক হতে পারে ?
মোটামুটি সংক্ষেপে উল্লেখিত প্রশ্নগুলীর ব্যবহারিক উদাহরণসহ সুস্পষ্ট জওয়াব নিচে দেওয়া হল।