পরিচ্ছেদঃ ৩৯
৫৬। জাহেলী যুগের আহলে কিতাবদের একটি খারাপ নীতি এই ছিল যে, তারা ইসলামের অনুসরণ করাকে শির্ক নামে অভিহিত করত। (যাতে করে মানুষদেরকে তা থেকে ঘৃণার মাধ্যমে দূরে রাখতে পারে) যেমন আল্লাহর বাণী,
﴿مَا كَانَ لِبَشَرٍ أَن يُؤۡتِيَهُ ٱللَّهُ ٱلۡكِتَٰبَ وَٱلۡحُكۡمَ وَٱلنُّبُوَّةَ ثُمَّ يَقُولَ لِلنَّاسِ كُونُواْ عِبَادٗا لِّي مِن دُونِ ٱللَّهِ وَلَٰكِن كُونُواْ رَبَّٰنِيِّۧنَ بِمَا كُنتُمۡ تُعَلِّمُونَ ٱلۡكِتَٰبَ وَبِمَا كُنتُمۡ تَدۡرُسُونَ ٧٩ وَلَا يَأۡمُرَكُمۡ أَن تَتَّخِذُواْ ٱلۡمَلَٰٓئِكَةَ وَٱلنَّبِيِّۧنَ أَرۡبَابًاۗ أَيَأۡمُرُكُم بِٱلۡكُفۡرِ بَعۡدَ إِذۡ أَنتُم مُّسۡلِمُونَ ٨٠ ﴾ [ ال عمران : ٧٩، ٨٠ ]
“কোনো ব্যক্তির জন্য সঙ্গত নয় যে, আল্লাহ্ তাকে কিতাব, হেকমত ও নবুওয়াত দান করার পর তিনি মানুষকে বলবেন, ‘আল্লাহর পরিবর্তে তোমরা আমার দাস হয়ে যাও’, বরং তিনি বলবেন, ‘তোমরা রববানী হয়ে যাও, যেহেতু তোমরা কিতাব শিক্ষা দাও এবং যেহেতু তোমরা অধ্যয়ন কর।’ অনুরূপভাবে ফেরেশ্তাগণ ও নবীগণকে রবরূপে গ্রহণ করতে তিনি তোমাদেরকে নির্দেশ দেন না। তোমাদের মুসলিম হওয়ার পর তিনি কি তোমাদেরকে কুফরীর নির্দেশ দেবেন?”। [সূরা আলে ইমরান, ৭৯, ৮০]
কারণ, এ আয়াতদ্বয়ের শানে নুযুল বা অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হিসেবে এসেছে যে, আহলে কিতাবরা বলতে আরম্ভ করল যে, মুহাম্মাদ তার নিজের ইবাদতের দিকে আমাদের আহ্বান করছে। [ইবন ইসহাক, দেখুন, মুখতাসারু সীরাতিন নবুবিয়্যাহ, ইবন হিশাম, ১/৫৫৪; ইবন জারীর তাবারী, আত-তাফসীর, ৩/৩২৫; ইবন আবী হাতেম, তাফসীর, ২/৩৬৯, ৩৭০; বায়হাকী, দালায়েলুন নাবুওয়াহ, ৫/৩৮৪।]
৫৭। আল্লাহর বাণীর বাক্যসমূহকে তার (শব্দ, অবস্থান কিংবা অর্থগত) স্থানচ্যুত করে বিকৃত করা।
৫৮। কিতাবের আয়াতসমূহকে মুখ বাঁকিয়ে পড়া।
৫৯। হক ও হেদায়াতপন্থীদেরকে ধর্মত্যাগী কিংবা নির্বোধ ইত্যাদি উপাধি প্রদান।
৬০। আল্লাহর উপর মিথ্যা রটনা করা।
৬১। হকের উপর মিথ্যারোপ করা।