পরিচ্ছেদঃ ২৯
২৬. আবু সুফিয়ান আল্লাহর দুশমন
মাররুজ জাহরানে অবতরণের পর হযরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূল (সাঃ) এর সাদা খচ্চরের পিঠে আরোহণ করে ঘোরাফেরা করতে বের হলেন। তিনি চাচ্ছিলেন যে, কাউকে পেলে মক্কায় খবর পাঠাবেন, যাতে করে রাসূল (সাঃ)-এর মক্কায় প্রবেশের আগেই কোরাইশরা তাঁর কাছে এসে নিজেদের নিরাপত্তার আবেদন জানায়। এদিকে আল্লাহ তায়ালা, কোরাইশদের কাছে কোন প্রকার খবর পৌঁছা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এ কারণে মক্কাবাসীরা কিছুই জানতে পারেনি। তবে তারা ভীতি-বিহ্বলতার মধ্যে এবং আশঙ্কার মধ্যে দিন যাপন করছিল। আবু সুফিয়ান বাইরে এসে কোন নতুন খবর জানা যায় কিনা সে চেষ্টা করছিল। সে সময় তিনি হাকিম বিন হাজাম এবং বুদাইল বিন ওরাকাকে সঙ্গে নিয়ে নতুন খবর সংগ্রহের চেষ্টায় বের হয়ে পড়লেন।
হযরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি হযরত রাসূল (সাঃ)-এর খচ্চরের পিঠে সওয়ার হয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ আবু সুফিয়ান এবং বুদাইল ইবনে ওরাকার কথা শুনতে পেলাম। আবু সুফিয়ান বলছিলেন, আল্লাহ শপথ! আমি আজকের মতো আগুন এবং সৈন্যবাহিনী অতীতে আর কখনো দেখিনি। বুদাইল ইবনে ওরাকা বলল, আল্লাহ শপথ! ওরা হচ্ছে বনু খোযাআ। যুদ্ধ ওদের লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। আবু সুফিয়ান বললেন, এতো আগুন এবং এতো বিরাট বাহিনী বনু খোয়াআর থাকতেই পারে না। হযরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি আবু সুফিয়ানের কণ্ঠস্বর শুনে বললাম, আবু হানজালা নাকি? আবু সুফিয়ান আমার কণ্ঠস্বর চিনে বললেন, আবুল ফযল নাকি? আমি বললাম, হ্যাঁ।
আবু সুফিয়ান বললেন, কি ব্যাপার? আমার পিতামাতা তোমার জন্যে কোরবান হোক। আমি বললাম, রাসূল (সাঃ) সদলবলে এসেছেন। হায়রে কোরাইশদের সর্বনাশা অবস্থা। সুফিয়ান বললেন, এখন কি উপায়? আমার পিতামাতা তোমার জন্যে কোরবান হোক। আমি বললাম, ওরা তোমাকে পেলে তোমার গর্দান উড়িয়ে দেবে। তুমি এই খচ্চরের পিছনে উঠে বস। আমি তোমাকে রাসূল (সাঃ)-এর কাছে নিয়ে যাব। তোমার নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে দেব। আবু সুফিয়ান তখন খচ্চরে উঠে আমার পিছনে বসলেন। তার অন্য দুজন সাথী ফিরে গেল। হযরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আমি আবু সুফিয়ানকে নিয়ে চললাম, কোন জটলার কাছে গেলে লোকেরা বলতো, কে যায়? কিন্তু রাসূল (সাঃ)-এর খচ্চরের পিঠে আমাকে দেখে বলত, ইনি রাসূল (সাঃ)-এর চাচা, তারই খচ্চরের পিঠে রয়েছেন। ওমর ইবনে খাত্তাবের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম তিনি বললেন, কে? একথা বলেই আমার দিকে এগিয়ে এলেন। আমার পিছনে আবু সুফিয়ানকে দেখে বললেন, আবু সুফিয়ান? আল্লাহর দুশমন? আল্লাহ প্রশংসা করি, কোন প্রকার সংঘাত ছাড়াই আবু সুফিয়ান আমাদের কব্জায় এসে গেছে। একথা বলেই ওমর রাসূল (সাঃ)-এর কাছে ছুটে গেলেন।
আমিও খচ্চরকে জোরে তাড়িয়ে নিলাম। খচ্চর থেকে নেমে রাসূল (সাঃ) এর কাছে গেলাম। ইতিমধ্যে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এলেন। তিনি এসেই বললেন, হে রাসূল (সাঃ) ওই দেখুন আবু সুফিয়ান। আমাকে অনুমতি দিন, আমি তার গর্দান উড়িয়ে দেই। হযরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি বললাম, হে রাসূল (সাঃ) আমি সুফিয়ানকে নিরাপত্তা দিয়েছি। পরে আমি রাসূল (সাঃ)-এর মাথা স্পর্শ করে বললাম, আল্লাহ শপথ! আজ রাতে আমি ছাড়া আপনার সাথে কেউ গোপন কথা বলতে পারবে না। আবু সুফিয়ানকে হত্যা করার অনুমতির জন্যে ওমর বারবার আবেদন জানালে আমি বললাম, থামো ওমর। আবু সুফিয়ান যদি বনি আদী ইবনে কা’ব এর লোক হতো, তবে এমন কথা বলতে না। ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, আব্বাস থাম। আল্লাহর শপথ! তোমার ইসলাম গ্রহণ আমার কাছে আমার পিতা খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণের চেয়ে অধিক পছন্দনীয় এবং এর একমাত্র কারণ এই যে, রাসূল (সাঃ)-এর কাছে তোমার ইসলাম গ্রহণ আমার পিতা খাত্তাবের ইসলাম গ্রহণের চেয়ে অধিক পছন্দনীয়। (আস সীরাতুন নাবুবিয়্যাহ লি আবি ফারিস, পৃঃ ৫১৯-৫২০)