পরিচ্ছেদঃ ১৬
সুদব্যবস্থা নিষিদ্ধ করণ
সমাজ শোষণের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম সুদ। সুদের কারণেই সমাজের দরিদ্র শ্রেণী আরও দরিদ্র এবং ধনী শ্রেণী আরও ধনবান হয়, দরিদ্র ও অভাবগ্রস্থ মানুষ প্রয়োজনের সময় সাহায্যের কোন দরজা খোলা না পেয়ে সুদে ঋণ গ্রহণে বাধ্য হয়। [. মুহাম্মদ শরীফ হুসাইন, সুদ, সমাজ, অর্থনীতি, ইসলামিক ইকনমিকস রিচার্স ব্যুরো, ঢাকা খৃ. ১৯৯২, সংস্ক. ১, পৃ. ১৯]
সুদের টাকা ফেরত দেয়ার বাধ্য বাধকতার কারণে ঋণ গ্রহীতাকে অনেক সময় স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করে হলেও সুদসহ আসল টাকা পরিশোধ করতে হয়। এর ফলে ঋণগ্রহীতা পরনির্ভশীল ও নিঃস্ব হয়ে পড়ে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবির্ভবকালীন সময় আরব সমাজে এ ধরণের চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের প্রচলন ছিল।
সুদের এই ভয়াবহ ও জঘন্য কুফল থেকে মানবতাকে রক্ষার জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর বিধান অনুযায়ী সুদকে নিষিদ্ধ করে বিনিয়োগ ও উৎপাদনকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছানোর ব্যবস্থা করেছিলেন। [. মুফতী মুহাম্মদ শফী, ইসলামের অর্থ বন্টন ব্যবস্থা, অনু. ফরীদ উদ্দীন মাসউদ, ইফাবা, ঢাকা, খৃ. ১৯৮৩, পৃ.- ২৪।] সুদ নিষিদ্ধ হওয়ার ফলে অর্থবন্টণ ব্যবস্থায় সুসামঞ্জস্য ও ভারসাম্যের সৃষ্টি হয়। মদীনায় সুদমুক্ত অর্থনীতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় সুদজনিত মুদ্রাষ্ফীতি, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি, মন্দা ও অস্থিতিশীলতা থেকে অর্থ ব্যবস্থা রক্ষা পায়। বিনিয়োগ ও উৎপাদনের সুস্থ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। সুদের কারণে সৃষ্ট শোষণ ও বৈষম্যের অবসান ঘটে। ভোক্তাগণ সুদ জনিত ব্যয় হতে রেহাই পায়, স্বনির্ভরতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সুদ উচ্ছেদের ফলে বন্টন ক্ষেত্রে সৃষ্ট জুলুম ও বে-ইনসাফীর অবসান ঘটে।
বস্ত্তত সুদ ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা এমননি ধ্বংসাত্বক অর্থ ব্যবস্থা। ভোগবাদী পাশ্চাত্যেও যার বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি হয়েছে। মনীষী এরিস্টটল সুদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে বলেন ‘‘একটা টাকা আর একটা টাকার জন্মদান করতে পারে না। [. Aristotol’s polities, London. ১৯৮৭ চ. ২৩] মনীষী প্লেটোও সুদকে সমর্থন করেন নি। [. Plato, Law’s Book, V. London. ১৯৯০] মনীষী পেটাস বলেন, ‘‘অর্থ হল বন্ধ্যা এবং এর উপর সুদ ধার্য্য করা অযৌক্তিক [. Boom Bowark, Capital and Interest. London. 1999. Vol. 1. P. ১০-১১]।
সুদের প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আল্লাহ তা‘আলা ব্যবসা কে হালাল ও সুদকে হারাম করেছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সমাজ ব্যবস্থা ও অর্থনৈতিক কার্য্যাদির মাঝে যাবতীয় অসৎ কাজের ভেতর সুদকে সবচেয়ে গুরুতর পাপ হিসেবে গণ্য করেছেন। মূলত সুদের মতো সমাজ বিধ্বংসী অর্থনৈতিক হাতিয়ার আর নেই [. শাহ মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান, ইসলামী অর্থনীতি, নির্বাচিত প্রবন্ধ, স্কয়ার পাবলিকেশন , রাজশাহী, খৃ. ১৯৯৬, পৃ. ৫১]। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুদের ব্যাপারে এতই কঠোর ছিলেন যে তিনি বলেন,
« لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم آكل الربا وموكله وشاهديه وكاتبه »
সুদখোর সুদ দাতা এর লেখক ও সাক্ষী অভিশপ্ত। তারা সকলেই এক পর্যায়ভূক্ত [. সহীহ মুসলিম, কিতাবুল বুয়ু,’ হাদীস নং ১১২৭]।