পরিচ্ছেদঃ ৬
ইসলামি বিষয়বস্তু পাঠদানে সফলতার ক্ষেত্রে আরো কিছু গুণাবলী
ইসলামি বিষয়বস্তু পাঠদানে সফলতার ক্ষেত্রে আরো কিছু গুণাবলীর কথা উল্লেখ যায়, আর তা হল:
১. ইখলাস তথা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য হিসেবে সাব্যস্ত করা এবং এ বিষয়ে হৃদয়ে জাগ্রত অনুভূতি রাখা।
২. ইসলামি শরিয়া এবং শরিয়া সংক্রান্ত যাবতীয় জ্ঞান সর্বোচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন জ্ঞান হিসেবে গভীর বিশ্বাস রাখা; কারণ আল্লাহ প্রদত্ত শরিয়া ও বিধান সকল ত্রুটি থেকে মুক্ত। আল কুরআন এর মূল উৎস, বাতিল যার সম্মুখ দিয়ে ও পশ্চাত দিয়ে আসতে অক্ষম। ছাত্রদের মাঝে এ বিশ্বাস গভীর থেকে গভীরতর করা এবং উলুমে শরিয়ার জন্য তাদেরকে নিবেদিতপ্রাণ হতে উৎসাহ দেওয়া।
৩. তাকওয়া অর্থাৎ গোপনে ও প্রকাশ্যে, সকল অবস্থায় আল্লাহর ভয় হৃদয়ে জাগ্রত রাখা। আল্লাহর নির্দেশমালা যথার্থরূপে বাস্তবায়ন করা। শিক্ষক তাকওয়াপূর্ণ হৃদয়ের অধিকারি হলে, ক্লাসে উপস্থিতি, পাঠপ্রস্তুতি, পাঠদান, পরীক্ষা নেয়া ও উত্তরপত্র নিরীক্ষা এসব কিছুই সম্পন্ন হবে আল্লাহ-ভীতির বলয়ে। কর্মকর্তা অথবা নিয়ম-কানুনের ভীতি নয়, আল্লাহ-ভীতিই বরং একজন শিক্ষককে করতে পারে শিক্ষকতার সকল পর্যায়ে সফল। আল্লাহ তাআলা বলেন,
﴿ أَتَخۡشَوۡنَهُمۡۚ فَٱللَّهُ أَحَقُّ أَن تَخۡشَوۡهُ إِن كُنتُم مُّؤۡمِنِينَ ١٣ ﴾ [ التوبة : ١٣ ].
“তোমরা কি তাদেরকে ভয় পাচ্ছ, আল্লাহ তো অধিক হকদার যে তোমরা তাকে ভয় করবে, যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাক”। [সূরা আততাওবা, আয়াত : ১৩]
৪. সত্যবাদিতা: উলুমে শরিয়ার শিক্ষকদের জন্য সত্যবাদিতা একটি মৌলিক গুণ। কেননা তারা যে কেবল ছাত্রদের কাছেই কুদওয়া বা উত্তম আদর্শ তা নয়, তারা বরং সাধারণ মানুষের কাছেও ইসলামি আদর্শের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত। তাই উলুমে শরিয়ার কোনো শিক্ষক কখনো মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিতে পারে না। আল কুরআনে মুমিনদেরকে তাকওয়া অবলম্বন ও সত্যবাদীদের সাথে থাকার যে নির্দেশ এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন,
﴿ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَكُونُواْ مَعَ ٱلصَّٰدِقِينَ ١١٩ ﴾ [ التوبة : ١١٩ ] .
“হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক”। [সূরা আততাওবা, আয়াত : ১১৯ ] তা উলুমে শরিয়ার শিক্ষকের ক্ষেত্রে আরও কঠিনভাবে বর্তায়। আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
«إِنَّ الصِّدْقَ يَهْدِي إِلَى البِرِّ، وَإِنَّ البِرَّ يَهْدِي إِلَى الجَنَّةِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَصْدُقُ حَتَّى يَكُونَ صِدِّيقًا» .
“সত্যবাদিতা কল্যাণের পথ দেখায়, আর কল্যাণ জান্নাতে নিয়ে যায়। আর যখন একজন ব্যক্তি সত্যানুবর্তী হয়ে চলতে থাকে, তাকে সত্যবাদী হিসেবে লিপিবদ্ধ করে নেয়া হয়”। (সহীহ বুখারি, হাদীস নং ৬০৯৪) সে হিসেবে একজন মুদাররিস থেকে কখনোই কোনো মিথ্যা কথা বা আচরণ আশা করা যায় না।
এবার আসা যাক পাঠদানের ক্ষেত্রে কলাকৌশল কী হওয়া উচিত সে আলোচনায়। ছাত্রের চরিত্রগঠন, মনোগঠন, জীবনযুদ্ধে সফলতা অর্জনের পথ নির্মাণ, জীবনের সুবিস্তৃত ক্ষেত্রে নেতৃত্ব প্রদানের যোগ্যতা অর্জনে উৎসাহ প্রদান ইত্যাদির পাশাপাশি একজন মুদাররিসকে যে বিষয়ে সব থেকে বেশি গুরুত্ব প্রদান করতে হবে তা হল যথার্থরূপে পাঠদান। যথার্থরূপে পাঠদান কীভাবে সম্ভব তার কিছু কৌশল নিম্নে বর্ণনা করা হল: