গল্প পছন্দ করে না, ভালোবাসে না- এমন শিশু-কিশোর খুঁজে পাওয়া মুশকিল। শুধু শিশু-কিশোর কেনো? কমবেশি সবাই ভালোবাসে গল্প। বলতে পারো, অতীতের কোন স্মৃতিটা মানুষকে সবচে বেশি হাতছানি দিয়ে ডাকে, ডেকেই চলে অবিরত? জানি না, উত্তরে তুমি কী বলবে। তবে আমার মতে- সে হলো দাদী’র গল্পের আসর! আহা! কী মধুময় সেই স্মৃতি!! শৈশবকালে দাদীর কাছে গল্প শোনার সেই গাল-ফোলানো ও কপাল কুঁচকানো বায়নার কথা- কে ভুলতে পারে?
-‘এই দাদু! একটা গল্প বলো না”
-‘দূর! এখন কি গল্পের সময়?’
-‘কখন তাহলে? এতো এখন না তখন করো না তো! এক্ষুণি বলো, বলতেই হবে। নইলে আমি তোমার আঁচল ধরে ঝুলে থাকবো, ছাড়বো না! ছাড়বোই না!’
-“অমন করো না সোনামণি! দাদুর যে এখন অনেক কাজ। অন্য সময় বলবো। এখন যাও, পড়তে বসো।’
-‘না, এক্ষুণি বলতে হবে। না হলে আমি পড়তেও যাবো না, তোমাকে কোনো কাজও করতে দেবো না!’
অবশেষে দাদী-নাতি’র যুদ্ধে হার মানেন দাদী। হাসিমাখা হার। নাতিটিকে জড়িয়ে ধরে তার কপালে এঁকে দেন- একটা মিষ্টি চুমু। তারপর বলতে শুরু করেন–
‘এক দেশে ছিলো এক রাজা ...!’
‘সে অনেক অনেক দিন আগের কথা..।’
নাতির আনন্দ তখন দেখে কে! গল্প শুনতে শুনতে সে হারিয়ে যায় এক অজানা জগতে। আনন্দে, উত্তেজনায় চোখ বড় করে, কান খাড়া করে গিলতে থাকে সে গল্পের কাহিনী। কিন্তু কততক্ষণ আর! এক সময় তন্দ্রায় দুলতে থাকে নাতি। তবু ওঠার নাম নেই। গল্পের শেষ না শুনে কিসের আবার ঘুম? আহ! কী মজার সেই স্মৃতি!! তাই না?
শিশু হয় কিশোর, তারপর পরিণত যুবক। তবু সে ভুলতে পারে না চাদনি রাতের মায়াবী জোৎস্নায় দাদী’র গল্পের আসরের সেই স্মৃতি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে গল্পের প্রতি তার এই ঝোঁক ও আকর্ষণ। তার কেবলই ছুটে যেতে ইচ্ছে করে- সেই হারানো শৈশবে, মাদুরপাতা উঠানে, দাদীর কাছে, চাঁদনি রাতের সেই গল্পের আসরে।
পাঠক! আমার বড়ো কষ্ট লাগে যখন গল্পের প্রতি শিশু-কিশোরদের এই ঝোঁক ও আকর্ষণকে আমরা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হই। আর আমাদের ব্যর্থতায় দুশমনরা আমাদের গল্পপ্রিয় শিশু-কিশোরদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়- গল্প নামের বিষ! আমাদের এই গাফিলতির জন্যে আল্লাহ কি আমাদেরকে ক্ষমা করবেন?
হ্যাঁ পাঠক! এই দায়বোধ থেকেই আমি প্রিয় শিশু-কিশোর বন্ধুদের জন্যে লিখেছি এই গল্প সিরিজ- ইতিহাসের সত্য কাহিনী অবলম্বনে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, আমি ইতিহাসের রসকসহীন কোনো পাঠ খুলে বসেছি তোমার সামনে। আমি বরং ইতিহাসকে অবিকৃত ও অক্ষুন্ন রেখে শুধু গল্পের জামাটা পরিয়ে দিয়েছি ইতিহাসের গায়ে।
আশা করি ওরা বেশ মজা করে এই গল্পগুলো পড়বে এবং আমাদের সোনালী যুগের সোনালী ইতিহাস থেকে আত্মপরিচয় খুঁজে নেবে।
হে আল্লাহ! সাহায্য চাই শুধু তোমার কাছে। বিনিময়ও চাই শুধু তোমারই কাছে।
-আলী তানতাভী