পরিচ্ছেদঃ ৯
হাদীসটি থেকে শিক্ষা ও মাসায়েলঃ
এক. এটি একটি দীর্ঘ হাদীসের অংশ বিশেষ। রোমান সাম্রাজ্যের পূর্বাঞ্চলীয় সম্রাট হেরাক্লিয়াসের কাছে যখন ইসলামের দাওয়াত নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দূত সিরিয়ায় তার দরবারে উপস্থিত হল, তখন সেখানে উপস্থিত ছিল আবু সুফিয়ান। সে তখন ইসলাম গ্রহণ করেনি। রোম সম্রাট রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে জানতে আবু সুফিয়ানকে দরবারে তলব করল। রোম সম্রাট তাকে অনেকগুলো প্রশ্ন করল। আবু সুফিয়ান তার সঠিক উত্তর দিয়েছিল। সঠিক উত্তর না দিয়ে তার উপায় ছিল না।
দুই. ইবাদত করতে হবে শুধু মাত্র আল্লাহর। ইবাদত হতে হবে সম্পূর্ণ শিরকমুক্ত
তিন. আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিপরীতে বাপ-দাদার কথা, সমাজের প্রচলিত নিয়ম-কানুন, দেশজ সংস্কৃতি সব কিছুই পরিত্যাজ্য।
চার. সালাত বা নামাজ ইসলামের একটি মূল বিষয়।
পাঁচ. সত্যবাদিতা একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী চরিত্র। এ বিষয়টির সাথে আলোচ্য শিরোনামের সম্পর্ক।
ছয়. ‘মানুষের কাছে কোন কিছু না চাওয়া, ভিক্ষা না করা, নিজের অভাবের কথা অন্যকে না বলা’ একটি মর্যাদা সম্পন্ন ইসলামী চরিত্র। আরবীতে যাকে বলা হয়, আফাফ, তাআফফুফ বা ইফফাত। এর আভিধানিক অর্থ হল, নিজেকে পবিত্র রাখা।
সাত. আত্নীয়তার সম্পর্ক অটুট রাখতে যত্নবান হওয়া, আতণীয়-স্বজনের সাথে সুন্দর আচার-আচরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী চরিত্র।
আট. হাদীসটিতে বর্ণিত বিষয়গুলো : তাওহীদ, শিরক প্রত্যাখান, নামাজ, সততা-সত্যবাদিতা, আফাফ, আত্নীয়তায়তার সম্পর্ক অটুট রাখা ইত্যাদি বিষয়গুলো এত গুরুত্বপূর্ণ যে, ইসলামের যাত্রা যখন শুরু তখন থেকেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এগুলোর প্রতি দাওয়াত দিয়েছেন।