পরিচ্ছেদঃ ৬
কপিরাইট আইন বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশে ইতিপূর্বে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে তা নিম্নে দেয়া হলো -
১। কপিরাইট অফিসের প্রতিষ্ঠা :
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কপিরাইট আইনের গুরুত্ব অনুধাবন করে বিদ্যমান বিশ্ব কপিরাইট চুক্তি/কনভেনশনের সামঞ্জস্য বিধান করে সরকার কপিরাইট আইন, ২০০০ (২০০০ সনের ২৮ নং আইন) প্রণয়ন করেছেন। এই আইন জারির ফলে পুরাতন কপিরাইট অধ্যাদেশ ১৯৬২ (অধ্যাদেশ নম্বর ৩৪, ১৯৬২) রহিত করা হয়েছে এবং এই আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে একটি কপিরাইট অফিস, রেজিস্ট্রার অব কপিরাইটস্ ও কপিরাইট বোর্ড গঠন, বোর্ডের ক্ষমতা ও কার্য পদ্ধতির বিধান প্রণীত হয় (কপিরাইট আইন ২০০০, অধ্যায়-২ ধারা ৯, ১০, ১১ ও ১২)। সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা ১লা নভেম্বর ২০০০ ই. সালে কপিরাইট আইন কার্যকর করা হয়। কপিরাইট অফিস গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে একটি সংযুক্ত দপ্তর। সরকারের জাতীয় পর্যায়ের একটি আধা-বিচার বিভাগীয় (Quasi-judicial) প্রতিষ্ঠান।
২। কপিরাইট অফিসের পটভূমি :
কপিরাইট আইন ব্রিটিশ আমলে এই দেশে প্রবর্তিত হয়। ১৭০৯ সালে ইংল্যান্ডে এই আইন প্রথম প্রণীত হয়। পরবর্তীকালে একাধিকবার এর সংশোধন করা হয়। ১৯১৪ ই. সালে এক সংশোধনীর মাধ্যমে এই উপমহাদেশকে কপিরাইট আইনের আওতাভুক্ত করা হয়। ভারত বিভক্তির পর তদানীন্তন পাকিস্তান সরকার ১৯১৪ সালের কপিরাইট আইন বাতিল করত ১৯৬২ সালের ২রা জুন কপিরাইট অধ্যাদেশ নামে একটি অধ্যাদেশ জারি করে করাচীতে একটি কেন্দ্রীয় অফিস প্রতিষ্ঠা করে। পরে ঢাকায় একটি আঞ্চলিক কপিরাইট অফিস স্থাপন করা হয়। স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশক্রমে ১৯৭৪ সালে সংসদে অনুমোদিত একটি অ্যাক্টের মাধ্যমে ১৯৬২ সালের অধ্যাদেশের কতিপয় ধারা সংশোধন পূর্বক উক্ত আঞ্চলিক অফিস জাতীয় পর্যায়ের একটি সংযুক্ত দপ্তরের মর্যাদায় উন্নীত করা হয় এবং তখন হতে কপিরাইট অফিস শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি সংযুক্ত দপ্তর হিসেবে কার্যরত।
কপিরাইট আইন ২০০০ (২০০০ সনের ২৮ নং আইন) ১লা নভেম্বর কার্যকর হওয়ার ফলে উক্ত আইনে ১০৫ ধারা অনুযায়ী রহিত করণ, হেফাজত এবং ক্রান্তিকালীন বিধান ১৯৬২ সনের কপিরাইট অধ্যাদেশ নং ৩৪ (সংশোধিত ১৯৭৪, ১৯৭৮), এ দ্বারা রহিত করা হয়।
৩। কপিরাইট আইন, ২০০০ এর আওতায় নিম্নবর্ণিত বিষয়বস্ত্ত অন্তর্ভূক্ত :
সকল জ্ঞান ভান্ডারের বই পুস্তক, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, নাট্যকর্ম, সংগীত কর্ম, শব্দ রেকর্ডিং, শিল্পকর্ম, ভিডিও ছবি, কম্পিউটার, সফট্ওয়্যার প্রোগ্রাম, আলোকচিত্র, সম্পাদনকারীর অধিকার। বেসরকারিভাবে কপিরাইট সমিতি/সোসাইটি পরিচালনার উদ্দেশ্যে নিবন্ধন, নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন ইত্যাদি। এই সকল মৌলিক সৃজনশীল কর্মের প্রণেতা অর্থে গ্রন্থকার/ লেখক/ সুরকার/ রচয়িতা/ নির্মাতা, চিত্রগ্রাহক, প্রযোজক, কর্মটির সৃষ্টিকারী ব্যক্তির কতিপয় অধিকার/ বা এক গুচ্ছ স্বত্বের স্বত্বাধিকারী হিসেবে জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কপিরাইট আইনে স্বীকৃত। প্রচলিত কপিরাইট আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে উল্লেখিত কর্মের স্বত্ব সমূহের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করত সৃজনশীল প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে শিক্ষা ও সংস্কৃতি উন্নয়ন কপিরাইটের মূল উদ্দেশ্য।
এই কারণে জ্ঞান ও বিজ্ঞানের বিনিময়ে কপিরাইট আইনের প্রয়োগ, বিদেশি বই পুস্তক, পুনঃ প্রকাশ, পুন মুদ্রণ/পূণরুৎপাদন, পুনঃমুদ্রন, কপিরাইট সফট্ওয়্যার/প্রোগ্রামের ব্যবহার হস্তান্তর, ইত্যাদি কার্যাবলী কপিরাইট আইনের অন্তর্ভুক্ত বিধায় কপিরাইট সম্পর্কযুক্ত মামলা মোকদ্দমা ও অভিযোগের নিষ্পত্তি এ অফিসের কর্মের অন্যতম দিক। কপিরাইট আইনের মূখ্য উদ্দেশ্য হল গ্রস্থকার/লেখক, রচয়িতা, নির্মাতা, প্রযোজক, কর্মটির সৃষ্টিকারী ব্যক্তির সর্বপ্রকার স্বত্ব রক্ষা করা এবং জাতীয় ও আস্তর্জাতিক পর্যায়ে কপিরাইট আইনের বাস্তবায়ন করা।