মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
১২. সালাতুল খাওফ (ভয়কালীন) নামায
مختصر صحيح البخاري
১২/১ পরিচ্ছেদঃ
সালাতুল খাওফ (ভয়কালীন) নামায
৫২৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: غَزَوْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ (ﷺ) قِبَلَ نَجْدٍ، فَوَازَيْنَا الْعَدُوَّ ، فَصَافَفْنَا لَهُمْ، فَقَامَ رَسُول الله (ﷺ) يُصَلِّي لَنَا، فَقَامَتْ طَائِفَةٌ مَعَهُ وَأَقْبَلَتْ طَائِفَةٌ عَلَى الْعَدُوِّ ، وَرَكَعَ رَسُولُ اللهِ (ﷺ) بِمَن مَعَهُ وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ انْصَرَفُوا مَكَانَ الطَّائِفَةِ الَّتِي لَمْ تُصَلِّ، فَجَاؤُوا فَرَكَعَ رَسُولُ اللَّهِ بِهِمْ رَكْعَةً وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ، ثُمَّ سَلَّمَ، فَقَامَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ فَرَكَعَ لِنَفْسِهِ رَكْعَةٌ وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ .
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ একদা আমি নবী (ﷺ)-এর সাথে নজদ এলাকার দিকে কোন এক যুদ্ধে বের হলাম। সেখানে গিয়ে আমরা শত্রুবাহিনীর মুখোমুখি হয়ে তাদের সাথে যুদ্ধ করার জন্য কাতারবন্দী হলাম। তখন নবী (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে নামায পড়ার জন্য দাঁড়ালেন। একদল লোক তাঁর সাথে নামাযে দাঁড়াল এবং অপর একটি দল শত্রুর মুখোমুখি হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
যারা নবী (ﷺ)-এর সাথে নামাযে দাঁড়ালেন তাদেরকে নিয়ে তিনি একটি রুকূ করলেন এবং দু'টি সিজদা করলেন (এক রাকআত নামায আদায় করলেন)। নামায শেষে এই দলটি ঐ লোকদের স্থানে চলে গেল যারা এখনও নামায পড়েনি। তারা এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে যোগ দিলে তিনি তাদেরকে নিয়ে একটি রুকূ করলেন এবং দু'টি সিজদাহ করলেন (আর এক রাকআত নামায আদায় করলেন)। অতঃপর সালাম ফিরালেন। তারপর সকলেই দাঁড়িয়ে একটি করে রুকূ করলেন এবং দু'টি করে সিজদাহ করলেন। (বাকী এক রাকআত নামায আদায় করলেন) (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৫১৬)
যারা নবী (ﷺ)-এর সাথে নামাযে দাঁড়ালেন তাদেরকে নিয়ে তিনি একটি রুকূ করলেন এবং দু'টি সিজদা করলেন (এক রাকআত নামায আদায় করলেন)। নামায শেষে এই দলটি ঐ লোকদের স্থানে চলে গেল যারা এখনও নামায পড়েনি। তারা এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে যোগ দিলে তিনি তাদেরকে নিয়ে একটি রুকূ করলেন এবং দু'টি সিজদাহ করলেন (আর এক রাকআত নামায আদায় করলেন)। অতঃপর সালাম ফিরালেন। তারপর সকলেই দাঁড়িয়ে একটি করে রুকূ করলেন এবং দু'টি করে সিজদাহ করলেন। (বাকী এক রাকআত নামায আদায় করলেন) (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৫১৬)
১২/২ পরিচ্ছেদঃ
পায়ে হেঁটে ও আরোহী অবস্থায় ভয়কালীন নামায পড়া
৫২৫
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীوَعَنْهُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ في رواية قَالَ : عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ): (وَإِنْ كَانُوا أَكْثَرَ مِنْ ذلِكَ، فَلْيُصَلُّوا قِيَامًا وَرُكْبَانًا) .
ইবনে উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
ইবনে উমার (রাঃ) হতে এক বর্ণনায় এসেছে, নবী (ﷺ) বলেনঃ শত্রু সংখ্যা (ভয়) যদি অধিক হয় তাহলে পায়ে (হাঁটা অবস্থায়) দাঁড়িয়ে এবং আরোহী অবস্থায় নামায আদায় করবে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৫১৭)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ শত্রু সংখ্যা যদি প্রচুর হয় এবং ভয় যদি এত বেশী হয় যে, পূর্বোক্ত নিয়মে নামায পড়া সম্ভব না হয়, তাহলে চলন্ত অবস্থায় এবং আরোহী অবস্থায় অর্থাৎ যেভাবেই সম্ভব হয়, নামায আদায় করবে।
১২/৩ পরিচ্ছেদঃ
শত্রুকে ধাওয়াকারী অবস্থায় এবং শত্রু কর্তৃক ধাওয়াকৃত হয়ে আরোহী অবস্থায় ইঙ্গিতের মাধ্যমে নামায আদায় করা
৫২৬
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীوَعَنْهُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ (ﷺ) لَنَا لَمَّا رَجَعَ مِنَ الأَحْزَابِ : (لاَ يُصَلِّيَنَّ أَحَدٌ الْعَصْرَ إِلا في بَنِي قُرَيْظَةَ). فَأَدْرَكَ بَعْضَهُمُ الْعَصْرُ في الطَّرِيقِ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: لَا نُصَلِّي حَتَّى نَأْتِيَهَا ، وَقَالَ بَعْضُهُمْ : بَلْ نُصَلِّي، لَمْ يُرِدْ مِنَّا ذُلِكَ، فَذَكَرُوا لِلنَّبِيِّ (ﷺ) ، فَلَمْ يُعنف أَحَدًا مِنْهُمْ.
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
আহযাবের (খন্দকের) যুদ্ধ হতে ফেরত এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বলেনঃ বনী কুরায়যায় না গিয়ে কেউ যেন আসরের নামায না পড়ে। কোন কোন লোক রাস্তায় থাকতেই আসরের নামাযের সময় হয়ে গেল। কতিপয় লোক বললঃ সেখানে যাওয়ার পূর্বে আমরা নামায আদায় করবোনা। আবার কেউ বললঃ আমরা নামায পড়ে নিব। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উদ্দেশ্য এ ছিলনা যে, নামাযের সময় শেষ হয়ে গেলেও আমরা নামায থেকে বিরত থাকবো। নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে তারা যখন বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেন তখন তিনি কাউকে দোষারোপ করেন নি। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৫১৮)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ উক্ত হাদীছ দ্বারা মতানৈক্য করা সাব্যস্ত হয়না। তবে কোন বিষয়ে আলেমদের মতানৈক্য হয়ে যেতে পারে। সেখানে যদি উদ্দেশ্য সৎ হয় এবং পক্ষপাতিত্বমুক্ত মনোভাব থাকে তাহলে উভয় পক্ষই মুজতাহিদ বলে গণ্য হবেন। সুতরাং এহেন ঘটনা থেকে ইজতেহাদী মতানৈক্য সাব্যস্ত হয়; কিন্তু আদৌ মাজহাবী দলাদলী সাব্যস্ত হয়না। (আল্লাহই ভাল জানেন)।