মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
৪৩. ঝগড়া-বিবাদ ও তা মীমাংসার বর্ণনা
مختصر صحيح البخاري
৪৩/১ পরিচ্ছেদঃ
প্রতিপক্ষকে পাকড়াও করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়া এবং ইহুদী ও মুসলমানের মধ্যকার ঝগড়ার বর্ণনা
১১০৭
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْن مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ : سَمِعْتُ رَجُلًا قَرَأَ آيَةً، سَمِعْتُ مِنَ النَّبِيِّ (ﷺ) خِلَافَهَا، فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ، فَأَتيتُ بِهِ رَسُولَ اللَّهِ (ﷺ) فَقَالَ: كِلاكُم) مُحْسِنُ لا تَخْتَلِفُوا ، فَإِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمُ اخْتَلَفُوا فَهَلَكُوا) .
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি জনৈক ব্যক্তিকে কুরআনের একটি আয়াত এমনভাবে পাঠ করেত শুনলাম যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট ভিন্নরূপে পড়তে শুনেছি। তার হাত ধরে তাকে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে গেলাম। তিনি (আমাদের উভয়ের পাঠ শুনে) বললেনঃ তোমরা উভয়েই ঠিক পড়েছ। তোমরা বাদানুবাদ করোনা। কেননা তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা বাদানুবাদ করেই ধ্বংস হয়েছে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৮০)
১১০৮
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ : اسْتَب رَجُلانِ : رَجُلٌ مِنَ المُسْلِمِينَ، وَرَجُلٌ مِنَ اليَهُودِ، قَالَ المُسْلِمُ : وَالَّذِي أَصْطَفَى مُحَمَّدًا عَلَى الْعَالَمِينَ، فَقَالَ اليَهُودِيُّ : وَالَّذِي أصْطَفَى مُوسى عَلَى الْعَالَمِينَ، فَرَفَعَ المُسْلِمُ يَدَهُ عِنْدَ ذلِكَ فَلَطَمَ وَجْهَ الْيَهُودِيِّ، فَذَهَبَ الْيَهُودِيُّ إِلَى النَّبِيِّ (ﷺ) فَأَخْبَرَهُ بِمَا كَانَ مِنْ أَمْرِهِ وَأَمْرِ المُسْلِمِ، فَدَعَا النَّبِيُّ (ﷺ) المُسْلِمَ، فَسَأَلَهُ عَنْ ذلِكَ فَأَخْبَرَهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ (ﷺ) : (لا تُخَيرُونِي عَلَى مُوسَى، فَإِنَّ النَّاسَ يَصْعَقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، فَأَصْعَقُ مَعَهُمْ، فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ يُفِيقُ، فَإِذَا مُوسَى بَاطِسُ جانِبَ الْعَرْشِ، فَلَا أَدْرِي : أَكَانَ فِيمَنْ صَعِقَ فَأَفاقَ قَبْلِي، أَوْ كَانَ مِمَّنْ أَسْتَثْنَى الله.
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ দু'ব্যক্তি পরস্পর গালাগালিতে লিপ্ত হল। তাদের একজন ছিল মুসলিম এবং অপরজন ছিল ইহুদী। মুসলিম বললঃ ঐ সত্তার শপথ! যিনি মুহাম্মাদকে বিশ্বজগতের জন্য নির্বাচন করেছেন। ইহুদী বললঃ ঐ সত্ত্বার শপথ! যিনি মুসাকে বিশ্বজগতের জন্য নির্বাচন করেছেন। এতে মুসলিম হাত উঠিয়ে ইহুদীর চেহারায় চপেটাঘাত করল। ইহুদী তখন নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে গিয়ে তার মাঝে ও মুসলিমের মাঝের ব্যাপারটি অবহিত করল। নবী (ﷺ) মুসলিম ব্যক্তিকে ডেকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে সেও ঘটনা খুলে বলল। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা আমাকে মুসার উপর প্রাধান্য দিওনা। কেননা লোকেরা কিয়ামতের দিন বেহুঁশ হয়ে পড়বে। আমিও তাদের সাথে বেহুঁশ হয়ে পড়ব। এরপর আমি সবার আগে চেতনা ফিরে পাবো। আমি তখন দেখতে পাবো যে মুসা আরশের এক পাশ ধরে আছেন। আমি জানিনা, তিনি বেহুঁশ হয়ে আমার পূর্বেই চেতনা ফিরে পেয়েছেন? না তিনি তাদের একজন যাদেরকে আল্লাহ তাআলা বেহুঁশ হওয়া থেকে পরিত্রাণ দিয়েছিলেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৮১)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ এতে প্রাধান্য লাভের বিশেষ কিছু নেই। আমাদের বিনয়ী নবী (ﷺ) উক্ত কথাকে বিনয়ে আরও অগ্রনী হওয়ার মাধ্যম বানিয়ে সমস্যা এড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
১১০৯
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : أَنَّ يَهُودِيًا رَضَ رَأْسَ جَارِيَةٍ بَيْنَ حَجَرَيْنِ، قِيلَ : مَنْ فَعَلَ هَذَا بك ، أَفُلانٌ، أَفُلانٌ؟ حَتَّى سُمِّيَ الْيَهُودِيُّ، فَأَوْمَتْ بِرَأْسِهَا ، فَأُخِذَ الْيَهُودِيُّ فَاعْتَرَفَ، فَأَمَرَ بِهِ النَّبِيُّ (ﷺ) فَرُضْ رَأْسُهُ بَيْنَ حَجَرَيْنِ .
আনাস (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ জনৈক ইহুদী একটি বালিকার মাথাকে দু'টি পাথরের মাঝখানে রেখে থেঁতলে দিল। বালিকাকে বলা হল, কে তোমাকে এরূপ করেছে? অমুক ব্যক্তি? অমুক ব্যক্তি? যখন ইহুদীর নাম উল্লেখ করা হল তখন মাথা দিয়ে ইশারা করল। ইহুদীকে পাকড়াও করা হলে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করল। নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আদেশে তার মাথাকে দু'টি পাথরের মাঝে রেখে থেঁতলে দেয়া হল। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৮২)
৪৩/২ পরিচ্ছেদঃ
ঝগড়া রত ব্যক্তিদের পরস্পরের বাক্যালাপ
১১১০
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীحَديثُ الْأَشْعَثِ تَقَدَّمَ قَرِيبًا وذَكَرَ فِيهِ أَنَّهُ اخْتَصَمَ هُوَ وَرَجُلٌ مِنْ أَهْلِ حَضْرَمَوت وفي هذِهِ الرِّواية قَالَ : إِنَّهُ هُوَ وَيَهودِيِّ.
আশআছের হাদীছটি একটু পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। সেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তিনি এবং হাযরামাওতের একজন লোকের মাঝে ঝগড়া হয়েছিল। এই বর্ণনায় ঝগড়াকারী তিনি নিজে এবং একজন ইহুদীর কথা বলেছেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৮৩)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ আশআছের ঘটনাটি হচ্ছে এইঃ
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা শপথ করে সে এমন অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে যে, আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট থাকবেন। আশআছ (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! তিনি এ কথা আমার সম্পর্কেই বলেছেন। আমার এবং এক ইহুদীর যৌথ মালিকানায় এক খন্ড ভূমি ছিল। ইহুদী আমার মালিকানার অংশ অস্বীকার করে বসল। আমি তাকে নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে গেলাম।
নবী (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তোমার কি সাক্ষী আছে? আমি বললামঃ আমার কোন সাক্ষী নেই। অতঃপর তিনি ইহুদীকে বললেনঃ তুমি শপথ কর। আশআছ বলেনঃ আমি বললামঃ আল্লাহর শপথ! তাহলে সে কসম খেয়ে আমার মাল নিয়ে যাবে। তখন আল্লাহ তা'আলা এ ব্যাপারে অবতীর্ণ করেনঃ
(إِنَّ ٱلَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ ٱللَّهِ وَأَيْمَـٰنِهِمْ ثَمَنًۭا قَلِيلًا أُو۟لَـٰٓئِكَ لَا خَلَـٰقَ لَهُمْ فِى ٱلْـَٔاخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ ٱللَّهُ وَلَا يَنظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ )
“নিশ্চয়ই যারা সামান্য মূল্যের বিনিময়ে আল্লাহর নামে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকার বিক্রয় করে (আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করে দুনিয়ার) সামান্য সম্পদ অর্জন করে আখেরাতে তাদের কোন অংশ নেই। আর তাদের সাথে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না। তাদের প্রতি দৃষ্টি দিবেন না। আর তাদেরকে পবিত্রও করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি”। (সূরা আল-ইমরানঃ ৭৭)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা শপথ করে সে এমন অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে যে, আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট থাকবেন। আশআছ (রাঃ) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! তিনি এ কথা আমার সম্পর্কেই বলেছেন। আমার এবং এক ইহুদীর যৌথ মালিকানায় এক খন্ড ভূমি ছিল। ইহুদী আমার মালিকানার অংশ অস্বীকার করে বসল। আমি তাকে নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট নিয়ে গেলাম।
নবী (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তোমার কি সাক্ষী আছে? আমি বললামঃ আমার কোন সাক্ষী নেই। অতঃপর তিনি ইহুদীকে বললেনঃ তুমি শপথ কর। আশআছ বলেনঃ আমি বললামঃ আল্লাহর শপথ! তাহলে সে কসম খেয়ে আমার মাল নিয়ে যাবে। তখন আল্লাহ তা'আলা এ ব্যাপারে অবতীর্ণ করেনঃ
(إِنَّ ٱلَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ ٱللَّهِ وَأَيْمَـٰنِهِمْ ثَمَنًۭا قَلِيلًا أُو۟لَـٰٓئِكَ لَا خَلَـٰقَ لَهُمْ فِى ٱلْـَٔاخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ ٱللَّهُ وَلَا يَنظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ )
“নিশ্চয়ই যারা সামান্য মূল্যের বিনিময়ে আল্লাহর নামে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকার বিক্রয় করে (আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করে দুনিয়ার) সামান্য সম্পদ অর্জন করে আখেরাতে তাদের কোন অংশ নেই। আর তাদের সাথে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না। তাদের প্রতি দৃষ্টি দিবেন না। আর তাদেরকে পবিত্রও করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি”। (সূরা আল-ইমরানঃ ৭৭)