hadith book logo

মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী

৩০. মদিনার ফজীলত

مختصر صحيح البخاري

৩০/১ পরিচ্ছেদঃ

মদীনার হারাম এলাকা

৯০২
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: (المَدِينَةُ حَرَمٌ مِنْ كَذَا إِلَى كَذَا ، لا يُقْطَعُ شَجَرُهَا ، وَلَا يُحْدَثُ فِيهَا حَدَتْ ، مَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ والمَلائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ) .
আনাস (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ মদীনার এখান থেকে ওখান পর্যন্ত হারাম। (নির্দিষ্ট একটা সীমা নির্ধারণ করে তিনি এ কথা বললেন) এখানকার বৃক্ষ কাটা যাবেনা। তাতে কোন প্রকার পাপের কাজে (বিদ্‌আতী কাজে) লিপ্ত হওয়া যাবেনা। যে ব্যক্তি তাতে কোন প্রকার বিদ্‌আতী কাজে লিপ্ত হবে তার উপর আল্লাহর, সকল ফেরেশতার এবং সমস্ত মানুষের অভিশাপ বর্ষিত হবে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৮৮৪)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ এত সুস্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কি কোন অযুহাতে এ কথা বলা যেতে পারে যে মদিনাতে কোন হারাম এরিয়া নেই? হ্যাঁ একটি কথা বলা হয়ে থাকে, যা ধুপে টিকেনা। সেটি হচ্ছে কুরআন বা মুতাওয়াতির হাদীছে তা আসেনি। এ কথার উত্তর হল বুখারীর মত কিতাবে যে হাদীছ এসেছে, সুন্নাহপন্থীদের জন্য সেটাই যথেষ্ট।
৯০৩
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ : (حُرِّمَ ما بَيْنَ لابَتَي المَدِينَةِ عَلَى لِسَانِي). قَالَ: وَأَتَى النَّبِيُّ (ﷺ) بَنِي حَارِثَةَ، فَقَالَ : أُرَاكُمْ يَا بَنِي حَارِثَةَ قَدْ خَرَجْتُمْ مِنَ الحَرَمِ). ثُمَّ الْتَفَتَ فَقَالَ: (بَلْ أَنْتُمْ فِيهِ) .
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ মদীনার উভয় কংকরময় ভূমির মধ্যবর্তী স্থানকে আমার জবান দ্বারা হারাম করা হয়েছে। বর্ণনাকারী বলেনঃ নবী (ﷺ) বনী হারেছার নিকট আগমণ করে বললেনঃ তোমরা তো হারামের বাইরে রয়ে গেছ। পরে তিনি এদিক চেয়ে বললেনঃ না, তোমরা হারামের অভ্যন্তরেই আছ। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৮৮৫)
৯০৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ عَلِيٌّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : مَا عِنْدَنَا شَيْءٌ إِلا كِتَابُ اللَّهِ وَهَذِهِ الصَّحِيفَةُ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: (المَدِينَةُ حَرَمٌ، مَا بَيْنَ عَائِرٍ إِلَى كَذَا، مَنْ أَحْدَثَ فِيهَا حَدَثًا، أو آوى مُحْدِثًا ، فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالمَلائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لَا يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلاَ عَدْلٌ وَقَالَ: ذِمَّةُ المُسْلِمِينَ وَاحِدَةٌ، فَمَنْ أَخْفَرَ مُسْلِمًا فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللهِ وَالمَلائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ ، لَا يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلاَ عَدْلٌ وَمَنْ تَوَلَّى قَوْمًا بِغَيْرِ إِذْنِ مَوَالِيهِ، فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ وَالمَلائِكَةِ وَالنَّاسِ أَجْمَعِينَ، لَا يُقْبَلُ مِنْهُ صَرْفٌ وَلاَ عَدْلٌ) .
আলী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমাদের নিকট আল্লাহর কিতাব আর নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত এই পুস্তিকাটি ছাড়া অন্য কিছু নেই। এতে বর্ণিত আছে মদীনা আইর নামক পাহাড় থেকে অমুক স্থান পর্যন্ত হারাম (সম্মানিত)। যে ব্যক্তি এখানে কোন বিদআতের প্রচলন করবে অথবা কোন বিদআতীকে আশ্রয় দিবে তার প্রতি আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সকল মানুষের অভিশাপ। তার কোন ফরয বা নফল আমল আল্লাহর কাছে কবুল হবেনা। নিরাপত্তা দানের ক্ষেত্রে সকল মুসলমানের অধিকার সমান। সুতরাং কেউ কোন মুসলমানের প্রদত্ত নিরপত্তায় ব্যাঘাত ঘটালে তার প্রতি আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সকল মানুষের অভিশাপ। তার কোন ফরয বা নফল আমল আল্লাহর কাছে কবুল হবেনা। আর যে ব্যক্তি তার মিত্র গোত্রের অনুমতি ব্যতীত অন্য কোন গোত্রের সাথে বন্ধুত্ব করল তার প্রতি আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সকল মানুষের অভিশাপ। তার কোন ফরয বা নফল আমল আল্লাহর কাছে কবুল হবেনা। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৮৮৬)
৯১০
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: سَمِعْتُ النَّبِيَّ (ﷺ) يَقُولُ : (لَا يَكِيدُ أَهْلَ المَدِينَةِ أَحَدٌ إِلا أَنْمَاعَ، كَمَا يَنْمَاعُ الْمِلْحُ فِي المَاءِ) .
সা'দ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি মদীনাবাসীদের সাথে প্রতারণা করবে, সে এমনভাবে বিগলিত (ধ্বংস) হবে যেমন লবণ পানিতে বিগলিত হয়। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৮৯২)
৩০/২ পরিচ্ছেদঃ

মদীনার ফজীলত, মদীনা খারাপ লোকদের বহিস্কার করে দেয়

৯০৫
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) : (أُمِرْتُ بِقَرْيَةٍ تَأْكُلُ الْقُرَى، يَقُولُونَ يَثْرِبُ، وَهِيَ المَدِينَةُ ، تَنْفِي النَّاسَ كَمَا يَنْفِي الْكِيرُ خَبَثَ الحَدِيدِ).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমাকে এমন একটি জনপদে হিজরত করতে বলা হয়েছে যা সকল জনপদকে পরাজিত করবে। লোকেরা উহাকে ইয়াছরিব বলে থাকে। অথচ তার প্রকৃত নাম মদীনা। মদীনা খারাপ লোকদেরকে বের করে দিবে যেমনভাবে কামারের হাপর লোহার মরিচাকে দূর করে দেয়৷ (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৮৮৭)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ এ অবস্থা হবে দাজ্জালের বহিঃপ্রকাশের সময়। যেহেতু সেই মুহূর্তে দাজ্জালের ফিতনা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মক্কা ও মদীনা তথা উভয় হারামকে ফেরেশতাগণ পাহারা দিবেন। তাই এহেন পাহারাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে মন্দ লোক থাকতে পারেনা।
৩০/৩ পরিচ্ছেদঃ

মদীনার আরেক নাম তাবা

৯০৬
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ أَبِي حُمَيْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : أَقْبَلْنَا مَعَ النَّبِيِّ (ﷺ) مِنْ تَبُوكَ . حَتَّى أَشْرَفْنَا عَلَى الْمَدِينَةِ، فَقَالَ: (هَذِهِ طانة).
আবু হুমায়েদ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমরা নবী (ﷺ)-এর সাথে তাবুক থেকে ফিরে আসার সময় যখন মদীনার নিকটবর্তী হলাম তখন তিনি বললেনঃ এই তো তাবা (পবিত্র মদীনা)। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৮৮৮)
৩০/৪ পরিচ্ছেদঃ

যে ব্যক্তি মদীনায় বসবাস করতে অপছন্দ করবে

৯০৭
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ (ﷺ) يَقُولُ : (يَتْرُكُونَ المَدِينَةَ عَلَى خَيْرِ مَا كَانَتْ، لَا يَغْشَاهَا إِلا الْعَوَافِ - يُرِيدُ عَوَافِيَ السَّبَاعِ وَالطَّيْرِ - وَآخِرُ مَنْ يُحْشَرُ رَاعِيَانِ مِنْ مُزَيْنَةَ، يُرِيدَانِ المَدِينَةَ، يَنْعِقَانِ بِغَنَمِهِمَا فَيَجِدَانِهَا وُحُوسًا، حَتَّى إِذَا بَلَغَا ثَنِيَّةَ الْوَدَاعِ خَرًّا عَلَى وُجُوهِهِمَا ) .
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, (এক সময়) মদীনা উত্তম থাকা সত্ত্বেও তোমরা তা ছেড়ে চলে যাবে। তখন হিংস্র পশু-পাখি ছাড়া তথায় আর কেউ বসবাস করবেনা। সর্বশেষে যে দু'জন লোক মদীনায় আসবে তারা হলো মুযায়না গোত্রের দু'জন রাখাল। তারা ছাগলের পাল হাঁকিয়ে নিয়ে মদীনার দিকে আসতে থাকবে। মদীনার কাছে এসে দেখবে তা হিংস্র পশু-পাখিতে ভরে গেছে। ‘ছানিয়াতুল ওয়াদা’ নামক স্থানে পৌছার পর তারা মুখ থুবড়ে পড়ে যাবে”। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৮৮৯)
৯০৮
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ سُفْيَانَ بْنِ أَبِي زُهَيْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ (ﷺ) يَقُولُ: (تُفْتَحُ الْيَمَنُ ، فَيَأْتِي قُوْمٌ يَبِسُّونَ، فَيَتَحَمَّلُونَ بِأَهْلِيهِمْ وَمَنْ أَطَاعَهُمْ، وَالمَدِينَةُ خَيْرٌ لَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ. وَتُفْتَحُ الشَّامُ، فَيَأْتِي قَوْمٌ يَبِسُونَ، فَيَتَحَمَّلُونَ بِأَهْلِيهِمْ وَمَنْ أَطَاعَهُمْ، وَالمَدِينَةُ خَيْرٌ لَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ. وَتُفْتَحُ الْعِرَاقُ، فَيَأْتِي قَوْمٌ يَبِسُونَ، فَيَتَحَمَّلُونَ بِأَهْلِيهِمْ وَمَنْ أَطَاعَهُمْ، وَالمَدِينَةُ خَيْرٌ لَهُمْ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ).
সুফিয়ান বিন আবু যুহাইর (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, অচিরেই ইয়ামান জয় করা হবে। তখন কতিপয় লোক উট হাঁকিয়ে তাদের পরিবার-পরিজন ও অনুগতদেরকে বহন করে তথায় নিয়ে যাবে। অথচ মদীনাই তাদের জন্য উত্তম হবে৷ যদি তারা তা অবগত হতে পারত। অনুরূপভাবে অচিরেই শাম (সিরিয়া) জয় করা হবে। তখন কতিপয় লোক উট হাঁকিয়ে তাদের পরিবার-পরিজন ও অনুগতদেরকে বহন করে তথায় নিয়ে যাবে। অথচ মদীনাই তাদের জন্য উত্তম হবে। যদি তারা তা অবগত হতে পারত। অনুরূপভাবে অচিরেই ইরাক বিজিত হবে। তখন কতিপয় লোক উট হাঁকিয়ে তাদের পরিবার- পরিজন ও অনুগতদেরকে বহন করে তথায় নিয়ে যাবে। অথচ মদীনাই তাদের জন্য উত্তম হবে। যদি তারা তা অবগত হতে পারত। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৮৯০)