মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
২৮. হজ্জ ও উমরার সফরে বাধা প্রাপ্ত হওয়া। মুহ্রিম ব্যক্তি শিকার করলে তার কাফ্ফারা
مختصر صحيح البخاري
২৮/১ পরিচ্ছেদঃ
উমরা পালন কারীকে বাধা দেয়া হলে
৮৭৯
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَدْ أُحْصِرَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) فَحَلَقَ رَأْسَهُ، وَجَامَعَ نِسَاءَهُ، ونَحَرَ هدْيَهُ، حَتَّى أَعْتَمَرَ عَامًا قَابِلا .
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
হুদায়বিয়ার বছর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বাধা দেয়া হয়েছিল। তখন তিনি যে স্থানে বাধা প্রাপ্ত হয়েছিলেন সেখানেই মাথা মুড়িয়ে নিলেন, স্ত্রীদের সাথে সহবাস করলেন এবং কোরবানীর পশু যবেহ করলেন এবং পরের বছর উক্ত উমরা কাযা করলেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৮৬৪)
২৮/২ পরিচ্ছেদঃ
হজ্জে বাধা প্রাপ্ত হওয়া
৮৮০
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ : أَلَيْسَ حَسْبُكُمْ سُنَّةَ رَسُولِ الله ؟ إِنْ حُبِسَ أَحَدُكُمْ عَنِ الحَجِّ طَافَ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالمَرْوَةِ، ثُمَّ حَلَّ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ، حَتَّى يَحُجَّ عَامًا قَابِلًا، فَيُهْدِي أَوْ يَصُومُ إِنْ لَمْ يَجِدْ هَدْيًا .
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সুন্নাতই যথেষ্ট নয় কি? তোমাদের কাউকে হজ্জ থেকে বাধা দেয়া হলে তার উচিত কাবা ঘরের তাওয়াফ করবে এবং সাফা-মারওয়ার সাঈ করবে। অতঃপর সম্পূর্ণরূপে ইহ্রাম থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। কিন্তু পরের বছর সে হজ্জ করবে। তখন সে কোরবানী করবে অথবা কোরবানীর জন্তু না পেলে রোযা রাখবে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৮৬৫)
২৮/৩ পরিচ্ছেদঃ
হজ্জে বা উমরায় বাধা প্রাপ্ত হলে মাথা কামানোর আগেই কোরবানী করা
৮৮১
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنِ المِسْوَرِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ (ﷺ) نَحَرَ قَبْلَ أَنْ يَحْلِقَ، وَأَمَرَ أَصْحَابَهُ بِذلِكَ .
মেসওয়ার বিন মাখরামাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (হুদায়বিয়ার বছর) মাথা কামানোর পূর্বেই কোরবানী করেছেন এবং তাঁর সাহাবীদেরকেও তা করার জন্য আদেশ দিয়েছেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৮৬৬)
২৮/৪ পরিচ্ছেদঃ
আল্লাহর বাণীঃ “অথবা সাদকা করবে” আর তা হল ছয়জন মিসকীনকে খাদ্য দান করা
৮৮২
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : وَقَفَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) بِالحُدَيْبِيَةِ وَرَأْسِي يَتَهَافَتُ قَمْلًا، فَقَالَ: (يُؤْذِيكَ هَوَامُّكَ؟). قُلْتُ : نَعَمْ، قَالَ: (فَأَخْلِقْ رَأْسَكَ، أَوْ قَالَ : أَخْلِقْ). قَالَ : فِيَّ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ : ﴿فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ إِلَى آخِرِهَا ، فَقَالَ النَّبِيُّ (ﷺ): (صُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ، أَوْ تَصَدَّقُ بِفَرَقٍ بَيْنَ سِتَّةٍ، أَوِ انْسُكْ بِمَا تَيَسَّرَ) .
কাব বিন উজরাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ হুদায়বিয়ার দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার পাশে দাঁড়ালেন। তখন আমার মাথা হতে উকুন ঝরে পড়ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তোমাকে এই পোকাগুলো কষ্ট দিচ্ছে কি? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি মাথা কামিয়ে ফেল। কাব বলেনঃ আমার ব্যাপারেই কুরআনের এই আয়াত নাযিল হয়ঃ
(فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِۦٓ أَذًۭى مِّن رَّأْسِهِۦ فَفِدْيَةٌۭ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍۢ)
“তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অথবা মাথায় যদি কোন কষ্ট থাকে তাহলে রোযা অথবা সাদকা অথবা কোরবানীর মাধ্যমে তার বিনিময় প্রদান করবে.......। (সূরা বাকারাঃ ১৯৬)
নবী (ﷺ) তখন আমাকে বললেনঃ তিন দিন রোযা রাখ অথবা ছয়জন মিসকীনকে এক ফারাক (নয় কেজী) পরিমাণ খাদ্য প্রদান কর অথবা সাধ্যানুযায়ী কোরবানী কর। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৮৬৭)
(فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوْ بِهِۦٓ أَذًۭى مِّن رَّأْسِهِۦ فَفِدْيَةٌۭ مِّن صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍۢ)
“তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অথবা মাথায় যদি কোন কষ্ট থাকে তাহলে রোযা অথবা সাদকা অথবা কোরবানীর মাধ্যমে তার বিনিময় প্রদান করবে.......। (সূরা বাকারাঃ ১৯৬)
নবী (ﷺ) তখন আমাকে বললেনঃ তিন দিন রোযা রাখ অথবা ছয়জন মিসকীনকে এক ফারাক (নয় কেজী) পরিমাণ খাদ্য প্রদান কর অথবা সাধ্যানুযায়ী কোরবানী কর। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৮৬৭)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ এগুলো হচ্ছে ইহরাম অবস্থায় যে কোন নিষিদ্ধ কাজ করলে তার কাফ্ফারা।