মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
৭৯. কিতাবুল হুদুদ (দণ্ডবিধিসমূহের বর্ণনা)
مختصر صحيح البخاري
৭৯/১ পরিচ্ছেদঃ
জুতা ও খেজুর গাছের ডাল দ্বারা মার-ধর করা
২১৫৯
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : قالَ أُتِيَ النَّبِيُّ (ﷺ) بِرَجُلٍ قَدْ شَرِبَ، قال: (اضْرِبُوهُ). قالَ أَبُو هُرَيْرَةَ: فَمِنَّا الضَّارِبُ بِيَدِهِ، وَمِنَّا الضَّارِبُ بِنَعْلِهِ، وَمِنَّا الصَّارِبُ بِثَوْبِهِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ، قَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ: أَخْزَاكَ الله ، قال : (لاَ تَقُولُوا هَكَذَا ، لَا تُعِينُوا عَلَيْهِ الشَّيْطَانَ).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এক মদপানকারীকে আনয়ন করা হলে তিনি বললেনঃ তোমরা একে মার। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেনঃ আমাদের মধ্য থেকে কেউ হাত দ্বারা মারতে লাগলো, কেউ জুতা দিয়ে পেটাতে লাগলো আবার কেউ কাপড় দিয়ে মারতে লাগলো। অতঃপর সে যখন ফিরে যাচ্ছিল তখন কোন একজন বললঃ আল্লাহ্ তোমাকে অপমানিত করুক। নবী (ﷺ) তখন বললেনঃ তোমরা এরূপ বলো না। তোমরা তার বিরুদ্ধে শয়তানকে সাহায্য করোনা৷ (আলোকিত প্রকাশনীঃ ২১০৬)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ শয়তান যেহেতু অপমানের উদ্দেশ্যেই মানুষকে পাপে লিপ্ত করে। তাই পাপী ব্যক্তিকে অপমানের বদদুআ দিলে তাতে শয়তানকেই খুশী ও সহযোগিতা করা হয়। আর যেহেতু সে কাফের হয়ে যায়নি, তাই সে অভিশপ্ত নয়; বরং দুআ পাওয়ার হকদার৷
২১৬০
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : مَا كُنْتُ لِأُقِيمَ حَدًّا عَلَى أَحَدٍ فَيَمُوتَ ، فَأَجِدَ فِي نَفْسِي، إِلا صَاحِبَ الخَمْرِ، فَإِنَّهُ لَوْ مَاتَ لَوَدَيْتُهُ، وَذَلِكَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ (ﷺ) لَمْ يَسُنَّهُ .
আলী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি কারো উপর শরীয়তের শাস্তি প্রয়োগ করলে, সে যদি মারা যেত এ জন্য আমি কখনো দুঃখীত পেতামনা। কিন্তু মদ পানকারীর ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম হত। কখনও যদি মদপানকারী মারা যেত, তাহলে আমি তার দিয়ত (রক্তমূল্য পরিশোধ করতাম। আর তা এ জন্য যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শাস্তি নির্ধারণ করেন নি। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ২১০৭)
২১৬১
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عُمَرَ بْنِ الخَطَّابِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ : أَنَّ رَجُلًا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ (ﷺ) كانَ أَسْمُهُ عَبْدَ اللهِ، وَكَانَ يُلَقَّبُ حِمَارًا ، وَكانَ يُضْحِكُ رَسُولَ اللَّهِ ، وَكَانَ النَّبِيُّ (ﷺ) قَدْ جَلَدَهُ فِي الشَّرَابِ، فَأُتِيَ بِهِ يَوْمًا فَأَمَرَ بِهِ فَجُلِدَ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ : اللَّهُمَّ الْعَنْهُ، مَا أَكْثَرَ مَا يُؤْتَي بِهِ؟ فَقَالَ النَّبِيُّ (ﷺ): (لَا تَلْعَنُوهُ، فَوَاللَّهِ مَا عَلِمْتُ إِلا أَنَّهُ يُحِبُّ اللهَ وَرَسُولَهُ) .
উমার বিন খাত্তাব (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় এক লোকের নাম ছিল আব্দুল্লাহ্। তার উপাধি ছিল হিমার। সে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে কথার মাধ্যমে হাসাতো। আর নবী (ﷺ) তাকে মদ পান করার কারণে শাস্তিও দিয়েছিলেন। তাকে একদিন পাকড়াও করে নিয়ে আসা হলো এবং তার উপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হুকুমে শাস্তি প্রয়োগ করা হলো। উপস্থিত এক লোক বললঃ হে আল্লাহ্! তুমি তার উপর লা'নত বর্ষণ করো। কত বারই তাকে একই অপরাধে গ্রেফতার করা হলো! নবী (ﷺ) তখন বললেনঃ তার উপর অভিশাপ করোনা। আল্লাহর কসম! সে আল্লাহ্ এবং তাঁর রাসূলকে ভালবাসে বলেই জানি। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ২১০৮)
৭৯/২ পরিচ্ছেদঃ
চোরকে লা'নত করা সম্পর্কে
২১৬২
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: (لَعَنَ اللهُ السَّارِقَ يَسْرِقُ الْبَيْضَةَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ، وَيَسْرِقُ الحَبْلَ فَتُقْطَعُ يَدُهُ) .
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ্ তাআলা ঐ চোরকে অভিশাপ করেন, যে ডিম চুরি করে এবং এ কারণে তার হাত কাটা হয়। আর যে রশি চুরি করে এবং এ কারণে তার হাত কাটা হয়। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ২১০৯)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ এখানে অভিশাপ এ জন্য হল যে, তার লোভ এতই বেশী, যার ফলে সামান্য বস্তু থেকেও নিজেকে সংবরণ করতে পারলনা। আরও বুঝার বিষয় যে, উক্ত হাদীছের প্রথমাংশ ভীতি প্রদর্শনমূলক। যেমন তার শেষাংশ সতর্কতামূলক। ফলে এখানে হুবহু অভিশাপ উদ্দেশ্য নয়। যেমন হুবহু হাত কাটাও উদ্দেশ্য নয়। কেননা এ কথা সর্বজন বিধিত যে ডিম বা রশি চুরি করলে ভাতে সাধারণ শাস্তি থাকলেও হাত কাটার শাস্তি বর্তায়না।
৭৯/৩ পরিচ্ছেদঃ
কি পরিমাণ সম্পদ চুরি করলে হাত কাটা হবে?
২১৬৩
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قال : (تُقْطَعُ الْيَدُ فِي رُبع دِينَارٍ فَصَاعِدًا).
আয়েশা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ এক চতুর্থাংশ দিনার বা তার চেয়ে বেশী পরিমাণ চুরি করলে হাত কাটা হবে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ২১১০)
২১৬৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীوَعَنْهَا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا : أَنَّ يَدَ السَّارِقِ لَمْ تُقْطَعْ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ (ﷺ) إِلَّا في ثَمَنِ مِجَنٌ، حَجَفَةٍ أَوْ تُرْسٍ.
আয়েশা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় চামড়ার তৈরী ঢাল কিংবা সাধারণ ঢালের মূল্যের চেয়ে কম বস্তু চুরির দায়ে চোরের হাত কাটা হতো না। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ২১১১)
২১৬৫
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ الله عَنْهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ (ﷺ) قَطَعَ فِي مِجَنٍّ ثَمَنُهُ ثَلَاثَةُ دَرَاهِمَ.
আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) একটি ঢাল চুরির কারণে হাত কেটেছেন, যার মূল্য ছিল তিন দিরহাম। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ২১১২)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ চুরির জন্য হাত কাটতে গেলে যে নেসাবের পরিমাণ নির্ধারিত রয়েছে সেখানে বিভিন্ন বর্ণনা ও মতামত পরিলক্ষিত হয়, তবে সর্বপেক্ষা শক্তিশালী হচ্ছে স্বর্ণমূদ্রার এক চতুর্থাংশ।