মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
৬৫. যবেহ ও শিকারের বর্ণনা
مختصر صحيح البخاري
৬৫/১ পরিচ্ছেদঃ
শিকার করার সময় বিসমিল্লাহ্ বলা
১৯১৫
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عَدِي بْنِ حَاتِمٍ رَضِيَ الله عَنْهُ قَالَ : سَأَلْتُ النَّبِيَّ (ﷺ) عَنْ صَيْدِ الْمِعْرَاضِ، قال : ما أَصَابَ بِحَدِّهِ، فَكُلْهُ، وَما أَصَابَ بِعَرْضِهِ فَهُوَ وَقِيدٌ). وَسَأَلْتُهُ عَنْ صَيْدِ الْكَلْبِ، فَقَالَ : (ما أَمْسَكَ عَلَيْكَ فَكُلْ، فَإِنَّ أَخْذَ الْكَلْبِ ذَكَاةٌ، وَإِنْ وَجَدْتَ مَع كَلْبِكَ أَوْ كِلَابِكَ كَلْبًا غَيْرَهُ، فَخَشِيتَ أَنْ يَكُونَ أَخَذَهُ مَعَهُ، وَقَدْ قَتَلَهُ فَلاَ تَأْكُلْ، فَإِنَّمَا ذَكَرْتَ أَسْمَ اللَّهِ عَلَى كَلْبِكَ وَلَمْ تَذْكُرْهُ عَلَى غَيْرِهِ) .
আদী বিন হাতেম (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) কে পালকহীন তীরের শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ যদি তীরের ধারালো অংশ তা হত্যা করে তাহলে খাও। আর যদি তীরের পার্শ্বদেশের আঘাতে মরে, তাহলে ভারের আঘাত জণিত কারণে মৃত বলে গণ্য হবে। আর আমি তাঁকে কুকুরের শিকার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ সে যদি তা তোমার জন্য ধরে রাখে, তাহলে তুমি তা খেতে পার। কেননা কুকুরের পাকড়াও করাই যবেহ করা। আর যদি তোমার কুকুর বা কুকুরগুলোর সাথে অন্য কুকুর দেখতে পাও এবং তোমার আশংকা হয় যে, এ কুকুর ও তোমার কুকুরের সাথে শিকার হত্যায় অংশ নিয়েছে, তাহলে তুমি তা খাবে না। কেননা তুমি তো কেবল তোমার কুকুর ছাড়ার সময় বিমিল্লাহ্ পড়েছ। অন্য কুকুরের বেলায় তা পড়নি। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৮৬৫)
৬৫/২ পরিচ্ছেদঃ
ধনুক দ্বারা শিকারের বর্ণনা
১৯১৬
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الحُشَنِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قُلْتُ يَا نَبِيَّ اللَّهِ ، إِنَّا بِأَرْضِ قَوْم أَهْل كِتَابٍ أَفَنَأْكُلُ فِي آنِيَتِهِمْ؟ وَبِأَرْضِ صَيْدٍ، أَصِيدُ بِقَوْسِي، وَبِكَلْبِي الَّذِي لَيْسَ بِمُعَلَّم وَبِكَلْبِي المُعَلَّمٍ، فَمَا يَصْلُحُ لِي ؟ قَالَ : (أَمَّا مَا ذَكَرْتَ مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ : فَإِنْ وَجَدْتُمْ غَيْرَهَا فَلَا تَأْكُلُوا فِيهَا ، وَإِنْ لَمْ تَجِدُوا غَيْرَهَا فَاغْسِلُوهَا فِيهَا . وَما صِدْتَ بِقَوْسِكَ فَذَكَرْتَ اسم اللهِ فَكُلْ، وَمَا صِدْتَ بِكَلْبِكَ المُعَلَّم فَذَكَرْتَ اسْمَ اللَّهِ فَكُلْ، وَما صِدْتَ بِكَلْبِكَ غَيْرَ المُعَلَّم فَأَدْرَكْتَ ذَكَاتَهُ فَكُلْ).
আবু ছা'লাবা আল-খুশানী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহর নবী! আমরা ইহুদী- নাসারাদের দেশে বাস করি। আমরা কি তাদের পাত্রে খেতে পারি? আর আমরা এমন অঞ্চলে বাস করি, যেখানে প্রচুর শিকার পাওয়া যায়। আমি তীর-ধনুক এবং প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও প্রশিক্ষণহীন কুকুর দ্বারাও শিকার করি। অতএব আমার জন্য কোনটি সঠিক হবে? নবী (ﷺ) বললেনঃ আহলে কিতাবদের পাত্র সম্পর্কে তোমার প্রশ্নের উত্তর এই যে, তোমরা যদি তাদের পাত্র ছাড়া অন্য কোন বাসন পাও তাহলে তাদের পাত্রে খেয়ো না। আর যদি না পাও তাহলে তা ধৌত করে তাতে খেতে পার। ধনুক দিয়ে শিকার করার সময় বিসমিল্লাহ্ বলে থাকলে তা ক্ষেতে পার। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর প্রেরণের সময় যদি বিস্মিল্লাহ্ বলে থাক তাহলে তা খাও। আর প্রশিক্ষণহীন কুকুর দিয়ে শিকার করলে তা যদি জীবিত পাওয়া যায় তাহলে যবেহ করে খাও। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৮৬৬)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ শিকার বিষয়ক সবকয়টি হাদীছের সার কথা হচ্ছে, এহেন শিকার মালিকের জন্য হতে হবে। শিকারী কুকুর ছাড়ার সময় বিসমিল্লাহ বলতে হবে। জীবিত অবস্থায় শিকার পাওয়া গেলে বিসমিল্লাহ বলে আবার জবাই করবে৷
৬৫/৩ পরিচ্ছেদঃ
আঙ্গুল দিয়ে পাথর নিক্ষেপ ও গুলি মারার বর্ণনা
১৯১৭
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ : أَنَّهُ رَأَى رَجُلًا يَخْذِفُ، فَقَالَ لَهُ لاَ تَخْذِفْ، فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ (ﷺ) نَهٰى عَنِ الخَذْفِ، أَوْ كانَ يَكْرَهُ الخَذْفَ، وَقالَ : (إِنَّهُ لَا يُصَادُ بِهِ صَيْدٌ وَلَا يُنْكَأُ عَدُوٌّ ، وَلَكِنَّهَا قَدْ تَكْسِرُ السِّنَ، وَتَفْقَأُ الْعَيْنَ). ثُمَّ رَآهُ بَعْدَ ذلِكَ يَحْذِفُ، فَقَالَ لَهُ : أَحَدِّثُكَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ (ﷺ) أَنَّهُ نَهَى عَنْ الخَذْفِ أَو كَرِهَ الخَذْفِ وَأَنْتَ تَخْذِفُ لَا أُكَلِّمُكَ كَذَا وَكَذَا.
আব্দুল্লাহ্ বিন মুগাফ্ফাল (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি দেখলেন যে, এক লোক আঙ্গুল দিয়ে ছোট ছোট পাথর নিক্ষেপ করছে। তিনি তাকে বললেনঃ এভাবে পাথর নিক্ষেপ করো না। কেননা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আঙ্গুল দিয়ে পাথর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন, কিংবা অপছন্দ করেছেন। আর তিনি আরো বলেনঃ এতে না কোন শিকার ধরা যায় আর না কোন দুশমনকে আঘাত করা যায়। তবে কারো দাঁত ভেঙ্গে দিতে পারে, কিংবা চোখ ফুড়ে ফেলতে পারে। তিনি এরপরও তাকে পাথর নিক্ষেপ করতে দেখে বললেনঃ আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীছ শুনাচ্ছি যে, তিনি আঙ্গুল দিয়ে পাথর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন, কিংবা অপছন্দ করেছেন। আর তুমি তা করছো! আমি তোমার সাথে কথা বলব না৷ (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৮৬৭)
৬৫/৪ পরিচ্ছেদঃ
যে ব্যক্তি শিকার কিংবা গবাদী পশু পাহারা দানের উদ্দেশ্য ব্যতীত কুকুর পোষে
১৯১৮
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: (مَنِ أقْتَنى كَلْبًا ، لَيْسَ بِكَلْبِ مَاشِيَةٍ أَوْ ضَارِيَةٍ، نَقَصَ كُلَّ يَوْمٍ مِنْ عَمَلِهِ قِيرَاطَانِ).
আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি গৃহপালিত পশু পাহারাদানের কিংবা শিকার করার উদ্দেশ্য ব্যতীত কুকুর পোষে প্রতিদিন তার নেক আমল থেকে দুই কিরাত করে কমতে থাকবে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৮৬৮)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ একটি বিশাল পাহাড়ের সম পরিমাণকে এক কিরাত বলা হয়। অন্য হাদীছে এসেছে এর দ্বারা উহুদ পাহাড় বুঝানো হয়েছে।
১৯১৯
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীحديث عَدِيِّ بْنِ حَاتِمٍ : تَقَدَّمَ قريبا ، وزاد في هذِهِ الرِّوايَة : ( . . وَإِنْ رَمَيْتَ الصَّيْدَ فَوَجَدْتَهُ بَعْدَ يَوْمٍ أَوْ يَوْمَيْنِ لَيْسَ بِهِ إِلا أَثَرُ سَهْمِكَ فَكُلْ، وَإِنْ وَقَعَ في المَاءِ فَلاَ تَأْكُلْ .
আদী বিন হাতিম (রাঃ) এর হাদীছটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এখানে এতটুকু অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে যে, তুমি যদি শিকারের প্রতি তীর ছুঁড়ে থাক, আর তা যদি একদিন বা দুই দিন পরে পাও, তাহলে তাতে একমাত্র তোমার তীরের চিহ্ন থাকলে তুমি তা খেতে পার। কিন্তু তা পানিতে পাওয়া গেলে খেতে পারবেনা। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৮৬৯)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ যেহেতু পানিতে ডুবে মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাতে হালাল হওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তাই তা খেতে নিষেধ করা হল।