hadith book logo

মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী

২৯. ইহ্‌রাম অবস্থায় শিকার বা অনুরূপ কিছু করার বিনিময়

مختصر صحيح البخاري

২৯/১ পরিচ্ছেদঃ

ইহ্‌রাম বিহীন ব্যক্তি যদি কিছু শিকার করে এবং মুহরিম ব্যক্তিকে তা হাদিয়া স্বরূপ দান করে তাহলে সে তা খেতে পারে

৮৮৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : انْطَلَقْنَا مَعَ النَّبِيِّ (ﷺ) عَامَ الحُدَيْبِيَّةِ، فَأَحْرَمَ أَصْحَابُهُ وَلَمْ أَحْرِمْ أَنَا فَأَنْبِئْنَا بِعَدُو بِغَيْقَةَ، فَتَوَجَّهْنَا نَحْوَهُمْ، فَبَصُرَ أَصْحَابِي بِحِمَارِ وَحْشِ، فَجَعَلَ بَعْضُهُمْ يَضْحَكُ إِلَى بَعْضٍ، فَنَظَرْتُ فَرَأَيْتُهُ. فَحَمَلْتُ عَلَيْهِ الْفَرَسَ فَطَعَيْتُهُ فَأَثْبَتُهُ، فَاسْتَعَنْتُهُمْ فَأَبَوْا أَنْ يُعِينُونِي، فَأَكَلْنَا مِنْهُ، ثُمَّ لَحِقْتُ بِرَسُولِ اللَّهِ ، وَخَشِينَا أَنْ نُقْتَطَعَ ، أَرْفَعُ فَرَسِي شَأْرًا وَأَسِيرُ عَلَيْهِ شَأُوا، فَلَقِيتُ رَجُلًا مِنْ بَنِي غِفَارٍ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ، فَقُلْتُ : أَيْنَ تَرَكْتَ رَسُولَ اللهِ ؟ فَقَالَ: تَرَكْتُهُ بِتَعْهِنَ، وَهُوَ قَائِلُ السُّقْيَا، فَلَحِقْتُ بِرَسُولِ اللهِ (ﷺ) حَتَّى أَتَيْتُهُ، فَقُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّ أَصْحَابَكَ أَرْسَلُوا يَقْرَؤُونَ عَلَيْكَ السَّلَامَ وَرَحْمَةَ اللَّهِ، وَإِنَّهُمْ قَدْ خَشُوا أَنْ يَقْتَطِعَهُمُ الْعَدُو دُونَكَ فَانْظُرْهُمْ، فَفَعَلَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا أصَّدْنَا حِمَارَ وَحْشِ، وَإِنَّ عِنْدَنَا مِنْهُ فَاضِلَةٌ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) لِأَصْحَابِهِ : (كُلُوا) . وَهُمْ مُحْرِمُونَ .
আবু কাতাদা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ হুদায়বিয়ার বছর আমরা নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে বের হলাম। নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীগণ উমরার ইহরাম বাঁধলেন। কিন্তু আমি ইহ্‌রাম বাঁধিনি। অতঃপর আমাদের কাছে সংবাদ আসল যে ‘ঘায়কা' নামক স্থানে একদল শত্রু রয়েছে। আমরা তাদের দিকে অগ্রসর হলাম। আমার সাথীগণ পথিমধ্যে একটি জংলী গাধা অবলোকন করে একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগল। আমি তাকিয়েই সেটিকে দেখতে পেলাম এবং ঘোড়া ছুটিয়ে সেটির উপর আক্রমণ করে বর্শা বিধিয়ে ফেলে দিলাম। আমি সাথীদের নিকট সহযোগীতা চাইলাম। কিন্তু তারা আমাকে সহযোগীতা করতে অস্বীকার করল। আমরা গাধার গোশত খেলাম। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে মিলিত হলাম। আমরা আশঙ্কা করলাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে দূরে থাকার কারণে শত্রুরা আমাদেরকে তাঁর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। তাই কোন সময়ে ঘোড়া দ্রুত চালিয়ে আবার কোন সময়ে ঘোড়া স্বাভাবিক গতিতে চালিয়ে যেতে থাকলাম। মধ্যরাতে আমি গিফার গোত্রের একজন লোকের সাথে সাক্ষাৎ করলাম। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলামঃ আপনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে কোথায় রেখে এসেছেন? তিনি বললেনঃ আমি তাঁকে ‘তা'হেন' নামক ঝর্ণার কাছে রেখে এসেছি। তিনি উক্ত ঝর্ণার পাশে কায়লুলার (মধ্যাহ্ন নিদ্রার) ইচ্ছা পোষণ করছিলেন। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে সাক্ষাত করে বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনার সাহাবীগণ আপনাকে সালাম দিয়ে পাঠিয়েছেন এবং আপনার জন্য আল্লাহর রহমত ও বরকত কামনা করেছেন। তারা ভীত হয়ে পড়েছেন যে, শত্রুরা তাদেরকে আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে। সুতরাং আপনি তাদের জন্য অপেক্ষা করুন। নবী (ﷺ) তাই করলেন। অতঃপর আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা একটি জংলী গাধা শিকার করেছি। তার কিছু গোশত এখনও আমাদের কাছে রয়ে গেছে। নবী (ﷺ) তখন তাঁর সাহাবীদেরকে বললেনঃ তোমরা তা খাও। তাঁরা তখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৮৬৮)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ ইহরাম অবস্থায় ডাঙ্গার (স্থলের) প্রাণী শিকার করা নিষেধ। এমন কি ইঙ্গিতের মাধ্যমেও তাতে শরীক হওয়ার অনুমতি নেই। ফলে এ কাজ করলে কাফ্ফারা দিতে হবে, তবে অন্য কেউ তা শিকার করলে তার মাংস খাওয়া যাবে।
২৯/২ পরিচ্ছেদঃ

মুহরিম ব্যক্তি অ-মুহরিমকে শিকারে সাহায্য করবে না

৮৮৫
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
وَعَنْهُ في رواية قَالَ : كُنَّا مَعَ النَّبى بِالْقَاحَةِ، مِنَ الْمَدِينَةِ عَلَى ثَلَاثٍ، وَمِنَّا الْمُحْرِمُ وَمِنَّا غَيْرُ الْمُحْرِم، فَذَكَرَ الحَديث ...
আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে অন্য একটি বর্ণনায় আরও বলেছেন: মাদীনাহ হতে তিন মারহালা দূরে অবস্থিত কাহা নামক স্থানে আমরা রসূল (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। নবী (ﷺ) ও আমাদের কেউ ইহরামধারী ছিলেন আর কেউ ছিলেন ইহরামবিহীন। তারপর তিনি উপরোক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন (উপরের হাদিস নং ৮৮৪)। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৮৬৮)
২৯/৩ পরিচ্ছেদঃ

মুহরিম ব্যক্তি শিকারের জন্তুর দিকে ইঙ্গিত করতে পারবেনা, যাতে অমুহরিম ব্যক্তি শিকার করতে পারে

৮৮৬
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
وَعَنْهُ فِي رواية : أَنَّهُم لَمَّا أَتَوْا رَسُولَ اللهِ (ﷺ) قَالَ: أَمِنْكُمْ أَحَدٌ أَمَرَهُ أَنْ يَحْمِلَ عَلَيْهَا أَوْ أَشَارَ إِلَيْهَا ؟ قَالُوا : لَا ، قَالَ: (فَكُلُوا مَا بَقِيَ مِنْ لَحْمِهَا).
আবু কাতাদা (রাঃ) থেকে অন্য একটি বর্ণনায় আছে, যখন তারা আল্লাহ্‌র রসূল (ﷺ) এর নিকট এলেন। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "তোমাদের কেউ কি এর উপর আক্রমণ করতে তাকে আদেশ বা ইঙ্গিত করেছ? তাঁরা বললেন, না, আমরা তা করিনি। আল্লাহ্‌র রসূল (ﷺ) বললেনঃ তাহলে বাকী গোশত তোমরা খেয়ে নাও।" (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৮৬৮)
২৯/৪ পরিচ্ছেদঃ

মুহরিম ব্যক্তিকে জংলী গাধা উপহার দিলে তা গ্রহণ করবেনা

৮৮৭
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، عَنِ الصَّعْبِ بْنِ جَنَّامَةَ اللَّيْني رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : أَنَّهُ أَهْدَى لِرَسُولِ اللَّهِ (ﷺ) حِمَارًا وَحْشِيَّا، وَهُوَ بِالأَبْوَاءِ أَوْ بِوَدَّانَ، فَرَدَّهُ عَلَيْهِ ، فَلَمَّا رَأَى مَا فِي وَجْهِهِ قَالَ : (إِنَّا لَمْ نَرُدَّهُ عَلَيْكَ إِلا أَنَّا حُرُمٌ).
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ সা'ব বিন জাছ্‌ছামা লাইছী (রাঃ) একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে একটি জংলী গাধা উপহার দিলেন। নবী (ﷺ) তখন আবওয়া অথবা ওয়াদ্দান নামক স্থানে ছিলেন। তিনি তা ফেরত দিলেন। এতে সা'ব বিন জাসামার মুখে অসন্তুষ্টির ভাব দেখে নবী (ﷺ) বললেনঃ দেখো, আমি ওটা ফেরত দিতামনা। শুধু এ কারণে ফেরত দিয়েছি যে, আমি এখন ইহরাম অবস্থায় আছি। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৮৬৯)