মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
৮৮. কিতাবুত্ তাওহীদ
مختصر صحيح البخاري
৮৮/১ পরিচ্ছেদঃ
নবী (ﷺ) তাঁর উম্মাতকে তাওহীদের প্রতি আহবান করেছেন
২২২০
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا زوج النَّبِيِّ (ﷺ) : أَنَّ النَّبِيَّ (ﷺ) بَعَثَ رَجُلًا عَلَى سَرِيَّةٍ، وَكَانَ يَقْرَأُ لِأَصْحَابِهِ في صَلاتِهِ فَيَخْتِمُ بِـ «قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ». فَلَمَّا رَجَعُوا ذَكَرُوا ذلِكَ لِلنَّبِيِّ (ﷺ) فَقَالَ : سَلُوهُ) لِأَيِّ شَيْءٍ يَصْنَعُ ذَلِكَ). فَسَأَلُوهُ فَقَالَ : لِأَنَّهَا صِفَةُ الرَّحْمَنِ، وَأَنَا أُحِبُّ أَنْ أَقْرَأَ بِهَا ، فَقَالَ النَّبِيُّ (ﷺ): (أَخْبِرُوهُ أَنَّ اللهَ يُحِبُّهُ ) .
আয়েশা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে একটি সেনাদলের অধিনায়ক করে পাঠালেন। তিনি তার সাথীদেরকে নিয়ে যখন নামাযের ইমামতি করতেন, তখন সূরা ফাতিহা পড়ার পর অন্য একটি সূরা পাঠ করে আবার সূরা এখলাস পাঠ করে নামায শেষ করতেন। তারা ফেরত এসে কথাটি নবী (ﷺ) কে জানাল। তিনি বললেনঃ সে কেন এরূপ করে তোমরা তাঁকে জিজ্ঞেস করো। সবাই তাকে জিজ্ঞেস করলো। সে বললঃ এ সূরাতে আল্লাহর গুণাবলী বর্ণিত হয়েছে। তাই আমি তা পাঠ করতে ভালবাসি। নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তাঁকে জানিয়ে দাও যে, আল্লাহ্ও তাকে ভালবাসেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ২১৬৬)
৮৮/২ পরিচ্ছেদঃ
আল্লাহর বাণীঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ্ রিযিক দাতা ও প্রবল শক্তির অধিকারী
২২২১
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي مُوسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قالَ النَّبِيُّ (ﷺ): ما أَحَدٌ أَصْبَرُ عَلَى أَذِى سَمِعَهُ مِنَ اللَّهِ، يَدَّعُونَ لَهُ الْوَلَدَ ، ثُمَّ يُعَافِيهِمْ وَيَرْزُقُهُمْ).
আবু মুসা আশআরী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ কষ্টদায়ক কথা শুনে আল্লাহর চাইতে অধিক ধৈর্য্য ধারণকারী আর কেউ হতে পারে না। তারা আল্লাহর জন্য সন্তান নির্ধারণ করে। এসব সত্ত্বেও তিনি তাদেরকে কল্যাণ ও রিযিক প্রদান করেন (আলোকিত প্রকাশনীঃ ২১৬৭)
৮৮/৩ পরিচ্ছেদঃ
আল্লাহর বাণীঃ তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়, আল্লাহর বাণীঃ তোমার রব পবিত্র ও মর্যাদার অধিকারী ঐ সমস্ত গুণাবলী থেকে, যা তারা বর্ণনা করে থাকে। আল্লাহর বাণীঃ সত্যিকারের মর্যাদা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের জন্যই নির্ধারিত
২২২২
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا : أَنَّ النَّبِيَّ (ﷺ) كَانَ يَقُولُ : (أَعُوذُ بِعِزَّتِكَ، الَّذِي لَا إِلَهَ إِلا أَنْتَ الَّذِي لَا يَمُوتُ، وَالْجِنُّ وَالإِنْسُ يَمُوتُونَ).
আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলতেনঃ হে আল্লাহ্! আমি তোমার ইজ্জতের আশ্রয় প্রার্থনা করছি। তুমি ব্যতীত কোন সত্য মাবুদ নেই। তুমি এমন মাবুদ, যার কোন মৃত্যু নেই। অথচ জিন ও ইনসান সবাই মৃত্যু বরণ করবে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ২১৬৮)
২২২৩
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: لَمَّا خَلَقَ اللهُ الخَلْقَ، كَتَبَ فِي كِتَابِهِ، وَهُوَ يَكْتُبُ عَلَى نَفْسِهِ، وَهُوَ وَضْعٌ عِنْدَهُ عَلَى الْعَرْشِ : إِنَّ رَحْمَتِي تَغْلِبُ غَضَبِي).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ্ যখন সকল মাখলুক সৃষ্টি করলেন, তখন তিনি তার নিকট আরশে রক্ষিত কিতাবে তার নফসের উপর এটা লিখে দিয়েছেন যে, আমার রহমত আমার ক্রোধের উপর জয়লাভ করেছে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ২১৬৯)
২২২৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীوَعَنْهُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ: قالَ النَّبِيُّ (ﷺ): (يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى : أَنَا عِنْدَ ظَنُّ عَبْدِي بِي، وَأَنَا مَعَهُ إِذَا ذَكَرَنِي، فَإِنْ ذَكَرَنِي فِي نَفْسِهِ ذَكَرْتُهُ فِي نَفْسِي ، وَإِنْ ذَكَرَنِي فِي مَلَإٍ ذَكَرْتُهُ فِي مَلَا خَيْرٍ مِنْهُمْ، وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ شِبْرًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ ذِرَاعًا، وَإِنْ تَقَرَّبَ إِلَيَّ ذِرَاعًا تَقَرَّبْتُ إِلَيْهِ بَاعًا، وَإِنْ أَتَانِي يَمْشِي أَتَيْتُهُ هَرْوَلَةٌ).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেরূপ ধারণা করে আমি তার জন্য ঐ রূপই। যখন সে আমাকে স্মরণ করে আমি তখন তার সাথে থাকি। সে যদি আমাকে তার নফসের মধ্যে স্মরণ করে, আমিও তাকে আমার নফসের মধ্যে স্মরণ করি। যখন সে আমাকে কোন জন সমাজে স্মরণ করে, আমি তাদের চেয়ে উত্তম সমাজে স্মরণ করি। আর যে আমার দিকে এক বিঘত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে একগজ অগ্রসর হই। আর যখন সে আমার দিকে এক হাত অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দুই হাত অগ্রসর হই। আর যখন সে আমার দিকে হেটে অগ্রসর হয়, আমি তার দিকে দৌড়ে অগ্রসর হই। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ২১৭০)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ বান্দা যত বেশী আল্লাহর দিকে অগ্রসর হয়, তখন আল্লাহ্ তাআলা বান্দার দিকে শুধু দ্বিগুণই নয়; আরও বহুগুণ বেশী অগ্রসর হন।
৮৮/৪ পরিচ্ছেদঃ