মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
২৩. কিতাবুল জানায়েয (জানাযার বিবরণ)
مختصر صحيح البخاري
২৩/১ পরিচ্ছেদঃ
যার সর্বশেষ কথা হবে لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ
৬৩৩
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي ذَرٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ): (أَتَانِي آتٍ مِنْ رِبي، فَأَخْبَرَنِي، أَوْ قَالَ: بَشَّرَنِي، أَنَّهُ مَنْ ماتَ مِنْ أُمَّتِي لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الجَنَّةَ. قُلْتُ : وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ؟ قَالَ : وَإِنْ زَنَى وَإِنْ سَرَقَ).
আবু যার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমার প্রভুর পক্ষ হতে একজন আগমণকারী আমার কাছে এসে আমাকে খবর দিয়েছে অথবা বর্ণনাকারী বলেন আমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন যে, আমার উম্মাতের কোন লোক আল্লাহর সাথে শরীক না করা অবস্থায় মৃত্যু বরণ করলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আবু যার বলেনঃ আমি বললামঃ যদিও সে চুরি করে এবং ব্যভিচার করে? তিনি বললেনঃ যদিও সে চুরি করে এবং ব্যভিচার করে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৬২৪)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের আকীদাহ হচ্ছে, তাওহীদের উপর কোন লোক মৃত্যু বরণ করলে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবেনা।
৬৩৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ): (مَنْ مَاتَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ) . وَقُلْتُ أَنَا : مَنْ مَاتَ لَا يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الجنَّةَ .
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করা অবস্থায় মারা যাবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আব্দুল্লাহ্ বিন মাসউদ বলেনঃ আর আমি বলেছিঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক না করা অবস্থার মৃত্যু বরণ করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৬২৫)
২৩/২ পরিচ্ছেদঃ
জানাযায় অংশগ্রহণ করার আদেশ
৬৩৫
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَن الْبَرَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : أَمَرَنَا النَّبِيُّ (ﷺ) بِسَبْعٍ وَنَهَانَا عَنْ سَبْعٍ : أَمَرَنَا بِاتِّبَاعِ الجَنَائِزِ، وَعِيَادَةِ المَرِيضِ، وَإِجَابَةِ الدَّاعِي، وَنَصْرِ المَظْلُومِ، وَإِبْرَارِ الْقَسَمِ. وَرَدُّ السَّلَامِ، وَتَشْمِيتِ الْعَاطِسِ وَنَهَانَا عَنْ آنِيَةِ الْفِضَّةِ، وَخَاتَمِ الذَّهَبِ، وَالحَرِيرِ، وَالدِّيبَاجِ، وَالْقَدِّيِّ، وَالإِسْتَبْرَقِ .
বারা বিন আযিব (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমাদেরকে নবী (ﷺ) সাতটি বিষয়ের আদেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয় হতে নিষেধ করেছেন। আমাদেরকে তিনি (১) জানাযায় অংশগ্রহণ করতে (২) রোগীর সেবা করতে (৩) দাওয়াত কবুল করতে (৪) মজলুমের সাহায্য করতে (৫) শপথ পূর্ণ করতে (৬) সালামের উত্তর দিতে এবং (৭) হাঁচি প্রদানকারীর উত্তর দিতে আদেশ দিয়েছেন এবং (১) রৌপ্যের পাত্র ব্যবহার করা হতে (২) স্বর্ণের আংটি ব্যবহার করা হতে (৩) পাতলা রেশমী কাপড় পরিধান করা হতে (৪) দীবাজ তথা এক প্রকার মোটা রেশমী কাপড় পরিধান করতে (৫) কাসী তথা এক প্রকার শক্ত রেশমী কাপড় পরিধান করতে এবং (৬) ইস্তাবরাক তথা কারুকার্যখচিত এক প্রকার রেশমী পোষাক পরতে নিষেধ করেছেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৬২৬)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ হাদীছে যে সপ্তম বিষয়টি হতে নিষেধ করা হয়েছে তা কিতাবুল লিবাসে বর্ণিত হয়েছে৷
২৩/৩ পরিচ্ছেদঃ
কাফনের ভিতরে প্রবেশ করানোর পরও মৃত ব্যক্তির কাছে গমণ করা
৬৩৬
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أُمِّ الْعَلَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا - امْرَأَةٍ مِنَ الْأَنْصَارِ بَايَعَتِ النَّبِيَّ (ﷺ) أَنَّهُ اقْتُسِمَ المُهَاجِرُونَ قُرْعَةٌ، فَطَارَ لَنَا عُثْمَانُ بْنُ مَطْعُونٍ، فَأَنْزَلْنَاهُ فِي أَبْيَاتِنَا، فَوَجِعَ وَجَعَهُ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ، فَلَمَّا تُوُفِّيَ وَغُسلَ وَكُفْنَ فِي أَثْوَابِهِ، دَخَلَ رَسُولُ الله (ﷺ) فَقُلْتُ : رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْكَ أَبَا السَّائِبِ، فَشَهَادَتِي عَلَيْكَ : لَقَدْ أَكْرَمَكَ الله . فَقَالَ النَّبِيُّ (ﷺ): (وَمَا يُدْرِيكِ أَنَّ الله أَكْرَمَهُ . فَقُلْتُ: بِأَبِي أَنْتَ يَا رَسُولَ اللهِ ، فَمَنْ يُكْرِمُهُ اللَّهُ؟ فَقَالَ: (أَمَّا هُوَ فَقَدْ جَاءَهُ الْيَقِينُ، وَاللَّهِ إِنِّي لأَرْجُو لَهُ الخَيْرَ، وَاللهِ مَا أَدْرِي، وَأَنَا رَسُولُ اللَّهِ، ما يُفْعَلُ بي). قَالَتْ: فَوَاللَّهِ لَا أُزَكِّي أَحَدًا بَعْدَهُ أَبَدًا .
উম্মে আলা (রাঃ) নামক জনৈক আনসারী মহিলা নবী (ﷺ)-এর নিকট বায়আত গ্রহণ করলেন। তিনি বলেনঃ মুহাজিরদেরকে লটারীর মাধ্যমে মদীনার আনসারদের মাঝে ভাগ করে দেয়া হয়েছিল। তখন উছমান বিন মাযউন আমাদের ভাগে পড়লেন। আমরা তাঁকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসলাম। পরে তিনি রোগাক্রান্ত হয়ে গেলেন এবং সে রোগেই তিনি ইন্তেকাল করলেন। মৃত্যু বরণ করার পর তাঁকে গোসল দেয়া হল এবং কাফনের কাপড়ও পরিধান করানো হল। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রবেশ করলেন। বর্ণনাকারী বলেনঃ আমি বললামঃ হে আবু সায়েব! (উছমানের উপাধি) আপনার উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আমি আপনার ব্যাপারে এ সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ আপনাকে অবশ্যই সম্মানিত করেছেন। নবী (ﷺ) এ কথা শুনে বললেনঃ তুমি কিভাবে জানতে পারলে যে, আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করেছেন? আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গ হোক। (তিনি যদি সম্মানিত না হয়ে থাকেন) তাহলে আল্লাহ আর কাকে সম্মানিত করবেন? নবী (ﷺ) বললেনঃ তিনি তো মৃত্যু বরণ করেছেন। আল্লাহর শপথ! আমি তাঁর জন্য কল্যাণ কামনা করি। আল্লাহর শপথ! আমি জানিনা যে আমার সাথে কিরূপ আচরণ করা হবে? অথচ আমি আল্লাহর রাসূল। উম্মে আলা বলেনঃ আল্লাহর শপথ! এ কথা শুনার পর আমি আর কারো ব্যাপারে পবিত্রতা ও নিষ্পাপ হওয়ার সাক্ষ্য প্রদান করিনা। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৬২৭)
৬৩৭
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: لَمَّا قُتِلَ أَبِي، جَعَلْتُ أَكْشِفُ الثَّوْبَ عَنْ وَجْهِهِ، أَبْكِي وَيَنْهَوْنَنِي عَنْهُ، وَالنَّبِيُّ (ﷺ) لَا يَنْهَانِي، فَجَعَلَتْ عَمَّتِي فَاطِمَةُ تَبْكِي، فَقَالَ النَّبِيُّ (ﷺ) : تَبْكِينَ أَوْ لَا تَبْكِينَ، مَا زَالَتِ المَلائِكَةُ تُظِلُّهُ بِأَجْنِحَتِهَا حَتَّى رَفَعْتُمُوهُ).
জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ উহুদ যুদ্ধে যখন আমার পিতা নিহত হলেন তখন আমি তাঁর চেহারার উপর থেকে বার বার কাপড় উঠাচ্ছিলাম এবং ক্রন্দন করছিলাম। লোকেরা আমাকে বারণ করছিল। কিন্তু নবী (ﷺ) আমাকে নিষেধ করছিলেন না। অতঃপর আমার ফুফু ফাতেমাকে কাঁদতে দেখে নবী (ﷺ) তাঁকে বললেনঃ তুমি কাঁদ আর না-ই কাঁদ, তোমরা তাঁকে না উঠানো পর্যন্ত ফেরেশতাগণ স্বীয় পাখাসমূহ দ্বারা তাঁর উপর ছায়াদান করে আছেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৬২৮)
২৩/৪ পরিচ্ছেদঃ
মৃত ব্যক্তি আপন জনের কাছে মৃত্যু সংবাদ ঘোষণা করা
৬৩৮
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ (ﷺ) نَعَى النَّجَاشِي فِي الْيَوْمِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ، خَرَجَ إِلَى المُصَلَّى ، فَصَفَّ بِهِمْ، وَكَبَّرَ أَرْبَعًا.
৬৩৯
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ (ﷺ): (أَخَذَ الرَّايَةَ زَيْدٌ فَأَصِيبَ، ثُمَّ أَخَذَهَا جَعْفَرٌ فَأُصِيبَ ثُمَّ أَخَذَهَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ فَأُصِيبَ . وَإِنَّ عَيْنَيْ رَسُولِ اللَّهِ (ﷺ) لَتَشْرِفانِ - ثُمَّ أَخَذَهَا خَالِدُ بْنُ الْوَلِيدِ مِنْ غَيْرِ إِمْرَةٍ فَفُتِحَ له) .
আনাস বিন মালেক (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ (মুতার যুদ্ধে) যায়েদ (রাঃ) পতাকা ধারণ করলেন। তিনি শহীদ হয়ে গেলেন। অতঃপর জা'ফর (রাঃ) পতাকা ধরলেন। তিনিও শহীদ হলেন। অতঃপর আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা পতাকা ধারণ করলে তিনিও শহীদ হলেন। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর চোখ থেকে অশ্রু প্রবাহিত হচ্ছিল। অবশেষে নেতা হিসেবে নির্ধারিত না হয়েই খালেদ বিন ওয়ালিদ যুদ্ধের পতাকা ধারণ করলেন। তাঁর হাতেই বিজয় অর্জিত হল। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৬৩০)