মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
৮৪. কিতাবুল ফিতান
مختصر صحيح البخاري
৮৪/১ পরিচ্ছেদঃ
নবী (ﷺ)-এর বাণীঃ আমার পর তোমরা অচিরেই এমন সব কাজ দেখতে পাবে, যা তোমরা অপছন্দ করবে
২১৮৭
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ : مَنْ كَرِهَ مِنْ أَمِيرِهِ شَيْئًا فَلْيَصْبِرُ، فَإِنَّهُ مَنْ خَرَجَ مِنَ السُّلْطَانِ شِبْرًا مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةٌ). وَعَنْهُ في رواية أخرى قال : (مَنْ رَأَى مِنْ أَمِيرِهِ شَيْئًا يَكْرَهُهُ فَلْيَصْبِرْ عَلَيْهِ فَإِنَّهُ مَنْ فَارَقَ الجَمَاعَةَ شِبْرًا فَمَاتَ إِلا مَاتَ مِيتَةً جَاهِلِيَّةٌ).
আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ কোন ব্যক্তি যদি তার আমীরের পক্ষ হতে অপছন্দনীয় কিছু দেখে তাহলে সে যেন ধৈর্য ধারণ করে। কেননা যে ব্যক্তি আমীরের কর্তৃত্ব থেকে এক বিঘত পরিমাণও বের হয়ে যাবে, সে জাহেলী মৃত্যু বরণ করবে। অন্য বর্ণনায় আছে, যে ব্যক্তি তার আমীরের ভিতরে অপছন্দনীয় কিছু দেখে সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং জামাআত বদ্ধ থাকে। কেননা যে ব্যক্তি জামাআত থেকে এক বিঘত পরিমাণ দূরে সরে গিয়ে মৃত্যু বরণ করবে তার মৃত্যু হবে জাহেলী যুগের লোকদের মৃত্যু বরণ করার মত”। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ২১৩৪)
২১৮৮
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قالَ : دَعَانَا النَّبِيُّ (ﷺ) فَبَايَعْنَاهُ، فَقَالَ فِيمَا أَخَذَ عَلَيْنَا : أَنْ بَايَعَنَا عَلَى السَّمْع وَالطَّاعَةِ، فِي مَنْشَطَنَا وَمَكْرَهِنَا، وَعُسْرِنَا وَيُسْرِنَا وَأَثَرَةٍ عَلَيْنَا، وَأَنْ لَا تنازع الأَمْرَ أَهْلَهُ، إِلا أَنْ تَرَوْا كُفْرًا بَوَاحًا، عِنْدَكُمْ مِنَ اللهِ فِيهِ بُرْهَانٌ.
উবাদা বিন সামেত (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন। আমরা তাঁর কাছে বায়আত করলাম। তিনি যেসব বিষয়ের বায়আত নিলেন তার মধ্যে এও ছিল যে, প্রিতিকর-অপ্রিতিকর, সুখে-দুঃখে সকল অবস্থায় (তাঁর কথা, শ্রবণ করব এবং আনুগত্য করব। অন্যদেরকে নিজেদের উপর প্রাধান্য দেয়ার কথা মেনে নিব। আরো বায়আত নিলেন যে, আমরা যেন দায়িত্বশীল ও শাসকদের আনুগত্য বর্জন না করি। তিনি বলেনঃ শাসক শ্রেণীর মধ্যে সুস্পষ্ট কুফরী দেখা দিলে এবং সে ব্যাপ্যারে আল্লাহর পক্ষ হতে তোমাদের নিকট কোন দলীল থাকলে তোমরা তাদের আনুগত্য বর্জন করতে পার”। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ২১৩৫)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ আহলুস্ সুন্নাতের সকল ইমামের বক্তব্য এই যে, শাসকের পক্ষ হতে কুফরী প্রকাশ পাওয়ার শুধু এমন পরিস্থিতিতে তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করা বৈধ যখন তার মুকাবেলা করার মত শক্তি থাকবে এবং পরিস্থিতি মন্দ না হয়ে ভাল হবে।
৮৪/২ পরিচ্ছেদঃ
ফিতনা প্রকাশ হওয়া
২১৮৯
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : سَمِعْتُ النَّبِيَّ (ﷺ) يَقُولُ : (مِنْ شِرَارِ النَّاسِ مَنْ تُدْرِكُهُمْ السَّاعَةُ وَهُمْ أَحْيَاء) .
আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি নবী (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, ঐ সমস্ত লোক সবচেয়ে হতভাগ্য, যাদের জীবদ্দশায় কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ২১৩৬)
৮৪/৩ পরিচ্ছেদঃ
আগত প্রতিটি যামানা তার পূর্ববর্তী যামানার চেয়ে অধিক নিকৃষ্ট হবে
২১৯০
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنِ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَقَدْ شُكِيَ إِلَيْهِ مَا لَقِيَ النَّاسُ مِنَ الحَجَّاجِ ، فَقَالَ : أَصْبِرُوا ، فَإِنَّهُ لَا يَأْتِي عَلَيْكُمْ زَمَانٌ إِلا والَّذِي بَعْدَهُ شَرٌّ مِنْهُ، حَتَّى تَلْقَوْا رَبَّكُمْ، سَمِعْتُهُ مِنْ نَبِيِّكُمْ (ﷺ).
আনাস বিন মালেক (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
হাজ্জাজ বিন ইউসুফের পক্ষ থেকে মানুষ যে জুলুমের শিকার হচ্ছে, সে ব্যাপারে তার নিকট অভিযোগ করা হলে তিনি বললেনঃ সবুর করো। কেননা প্রতিটি যামানা তার পূর্ববর্তী যামানার চেয়ে অধিক নিকৃষ্ট হবে। যে পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের প্রভুর সাথে সাক্ষাত করো। এই কথা আমি তোমাদের নবীর মুখ থেকে শুনেছি। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ২১৩৭)
৮৪/৪ পরিচ্ছেদঃ
নবী (ﷺ)-এর বাণীঃ যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবে, সে আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়
২১৯১
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قال: (لاَ يُشِيرُ أَحَدُكُمْ عَلَى أَخِيهِ بِالسَّلاحِ، فَإِنَّهُ لَا يَدْرِي، لَعَلَّ الشَّيْطَانَ يَنزِعُ فِي يَدِهِ، فَيَقَعُ في حُفْرَةٍ مِنَ النَّارِ).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমাদের কেউ যেন তার ভাইয়ের দিকে অস্ত্র দ্বারা ইশারা না করে। কেননা সে জানেনা, শয়তান হয়ত তার হাতে খোঁচা দিয়ে অস্ত্র চালিয়ে দিবে। ফলে সে জাহান্নামের গর্তে নিক্ষিপ্ত হবে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ২১৩৮)