hadith book logo

মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী

৪২. ঋণ চাওয়া এবং এ প্রসঙ্গে অন্যান্য বিষয়

مختصر صحيح البخاري

৪২/১ পরিচ্ছেদঃ

পরিশোধ বা নষ্ট করার নিয়তে মানুষের সম্পদ গ্রহণ করা

১১০২
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: مَنْ أَخَذَ أَمْوَالَ النَّاسِ يُرِيدُ أَدَاءَهَا أَدَّى اللَّهُ عَنْهُ، وَمَنْ أَخَذَ يُرِيدُ إِتْلَافَهَا أَتْلَفَهُ اللَّهُ) .
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি পরিশোধের নিয়তে মানুষের সম্পদ গ্রহণ করে আল্লাহ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে ব্যক্তি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে মানুষের সম্পদ গ্রহণ করে আল্লাহ তাকে ধ্বংস করে দেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৭৫)
৪২/২ পরিচ্ছেদঃ

ঋণ পরিশোধ করা প্রসঙ্গে

১১০৩
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ أَبِي ذَرِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : كُنْتُ مَعَ النَّبِي ، فَلَمَّا أَبْصَرَ - يَعْنِي أُحُدًا - قَالَ : (مَا أُحِبُّ أَنَّهُ يُحَوِّلُ لِي ذَهَبًا ، يَمْكُتُ عِنْدِي مِنْهُ دِينَارٌ فَوْقَ ثَلاثِ إِلا دِينَارًا أَرْصُدُهُ لِدَيْنِ). ثُمَّ قَالَ : (إِنَّ الأَكْثَرِينَ هُمُ الأَقَلُّونَ، إِلا مَنْ قالَ بِالمَالِ هَكَذَا وَهُكَذَا وَقَلِيلٌ مَا هُمْ) . وَقَالَ : ( مَكَانَكَ) وَتَقَدَّمَ غَيْرَ بَعِيدٍ فَسَمِعْتُ صَوْنًا، فَأَرْدْتُ أَنْ آتِيَهُ، ثُمَّ ذَكَرْتُ قَوْلَهُ : مَكَانَكَ حَتَّى آتِيَكَ). فَلَمَّا جَاءَ قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ الَّذِي سَمِعْتُ؟، أَوْ قَالَ: الصَّوْتُ الَّذِي سَمِعْتُ؟ قَالَ: (وَهَلْ سَمِعْتَ؟). قُلْتُ : نَعَمْ، قَالَ: (أَتَانِي جِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلامُ، فَقَالَ : مَنْ مَاتَ مِنْ أُمَّتِكَ لاَ يُشْرِكُ بِاللَّهِ شَيْئًا دَخَلَ الجَنَّةَ . قُلْتُ : وَإِنْ فَعَلَ كَذَا وَكَذَا؟ ، قَالَ : نَعَمْ).
আবু যার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ একদা আমি নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ছিলাম। তিনি উহুদ পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ আমি পছন্দ করিনা যে, এই পাহাড়টি আমার জন্য স্বর্ণে পরিণত করা হোক এবং তা থেকে তিন দিনের বেশী আমার নিকট একটি স্বর্ণমুদ্রা অবশিষ্ট থাকুক। তবে সেই দীনার ব্যতীত যদ্বারা আমি ঋণ পরিশোধ করব। তারপর তিনি বললেনঃ যারা বেশী সম্পদশালী তারাই কম ছাওয়াব পেয়ে থাকে। তবে তারা ব্যতীত যারা এভাবে এভাবে ব্যয় করে থাকে। কিন্তু এরকম লোক খুবই কম। অতঃপর নবী (ﷺ) বললেনঃ আমি ফেরত না আসা পর্যন্ত তুমি নিজ স্থানে অবস্থান কর। এই বলে তিনি কিছু দূর অগ্রসর হলেন। এ সময় আমি একটি আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি সে দিকে যেতে চাইলাম। কিন্তু নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কথা মনে পড়ে গেল, “আমি ফেরত না আসা পর্যন্ত তুমি নিজ স্থানে অবস্থান কর”। তিনি যখন আসলেন তখন আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি এটি কিসের আওয়াজ শুনলাম? তিনি বললেনঃ তুমি শুনেছ কি? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ আমার নিকট জিবরীল (আঃ) আগমণ করে বললেনঃ আপনার উম্মাতের যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে মৃত্যু বরণ করবে সে বেহেশতে প্রবেশ করবে। আমি বললামঃ যদিও সে এরকম এরকম (গুনাহ) করে? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, তবুও। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৭৬)
৪২/৩ পরিচ্ছেদঃ

উত্তম রূপে ঋণ পরিশোধ করা

১১০৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ: أَتَيْتُ النَّبِيَّ (ﷺ) وَهُوَ فِي المَسْجِدِ ضُحًى، فَقَالَ: (صَلَّ رَكْعَتَيْنِ) وَكَانَ لِي عَلَيْهِ دَيْنٌ، فَقَضَانِي وَزَادَنِي .
জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ চাশতের সময় আমি নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আগমণ করলাম। তিনি বললেনঃ দু'রাকআত নামায পড়। তাঁর কাছে আমার কিছু পাওনা ছিল। তিনি আমার পাওনা পরিশোধ করলেন এবং পাওনার চেয়ে বেশী দান করলেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৭৭)
৪২/৪ পরিচ্ছেদঃ

ঋণী ব্যক্তির জানাযা পড়া

১১০৫
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : أَنَّ النَّبِيَّ (ﷺ) قَالَ: (مَا مِنْ مُؤْمِنٍ إِلا وَأَنَا أولى بِهِ فِي الدُّنْيَا وَالآخِرَةِ، أَقْرَؤُوا إِنْ شِئْتُمْ : النَّبِيُّ (ﷺ) أُولَى بِالْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنْفُسِهِمْ . فَأَيُّمَا مُؤْمِنٍ مَاتَ وَتَرَكَ مَالًا فَلْيَرِثُهُ عَصَبَتُهُ مَنْ كَانُوا، وَمَنْ تَرَكَ دَيْنًا أَوْ ضَيَاعًا فَلْيَأْتِنِي، فَأَنَا مَوْلَاهُ).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ আমি দুনিয়া ও আখেরাতে প্রত্যেক মুমিনের অধিক নিকটবর্তী। তোমরা চাইলে আল্লাহর এই বাণী পাঠ কর।

(ٱلنَّبِىُّ أَوْلَىٰ بِٱلْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَنفُسِهِمْ)

অর্থাৎ নবী মুমিনদের নিকট তাদের প্রাণ অপেক্ষা অধিক ঘনিষ্ট। (সূরা আহযাবঃ ৬)

কাজেই কোন মুমিন মারা গেলে তার আত্মীয়-স্বজন তার সম্পদের মালিক হবে। আর যে ব্যক্তি ঋণ অথবা নাবালেগ সন্তান রেখে যায় তারা (নাবালেগ সন্তানেরা বা পাওনাদারগণ) যেন আমার নিকট আসে। কারণ আমি তাদের অভিভাবক। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৭৮)