hadith book logo

মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী

৩২. সালাতুত্ তারাবীহ

مختصر صحيح البخاري

৩২/১ পরিচ্ছেদঃ

রামাযান মাসে তারাবীর নামাযের ফজীলত

৯৭২
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ (ﷺ) خَرَجَ لَيْلَةٌ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ، فَصَلَّى فِي المَسْجِدِ، وَصَلَّى رِجَالٌ بِصَلَاتِهِ. تَقَدَّم هذا الحديث في كِتابِ الصَّلاة، وبَيْنَهُما مُخالَفَة فِي اللَّفْظِ ، وقَالَ فِي آخِرِ هَذِهِ الرّواية : فَتُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) وَالْأَمْرُ عَلَى ذَلِكَ .
আয়েশা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) গভীর রাতে ঘর হতে বের হয়ে মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করলেন। কতিপয় লোক তাঁর পিছনে নামায আদায় করল। এই হাদীছ সালাত অধ্যায়ে অতিক্রান্ত হয়েছে। এই বর্ণনা এবং পূর্বের বর্ণনার মধ্যে শব্দের পার্থক্য আছে। এই বর্ণনার শেষের দিকে আছে, আর বিষয়টি এ রকম রেখেই নবী (ﷺ) মৃত্যু বরণ করলেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯৫১)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ হাদীছের বিস্তারিত বিবরণ এই যে, সকালে লোকেরা এ নিয়ে আলোচনা করতে লাগল। দ্বিতীয় দিন প্রথম দিনের চেয়ে অধিক মানুষ একত্রিত হয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে নামায আদায় করল। এদিনেও সকাল বেলা লোকেরা বিষয়টি আলোচনা করল তৃতীয় রাতে মসজিদে লোক সংখ্যা খুব বেড়ে গেল। এবারও রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঘর হতে বের হয়ে তাদেরকে নিয়ে নামায পড়লেন। চতুর্থ রাতে লোক এত বেড়ে গেল যে, তাদের সংখ্যা মসজিদের ধারণ ক্ষমতার চেয়েও অধিক হয়ে গেল। তিনি ফজরের নামায পড়তে বের হলেন। নামায শেষে তিনি লোকদের দিকে মুখ ফিরিয়ে আল্লাহর একত্ববাদ বর্ণনা করার পর বললেনঃ অতঃপর আমার নিকট তোমাদের অবস্থা গোপন নয়। তবে আমার ভয় হচ্ছে তোমাদের উপর এ নামায (তারাবীর নামায) ফরয হয়ে যায় কি না। আর তোমরা তা আদায় করতে অক্ষম হয়ে পড়বে। বিষয়টি এরকম রেখেই নবী (ﷺ) মৃত্যু বরণ করলেন।
৩২/২ পরিচ্ছেদঃ

রামাযান মাসের শেষ সাত রজনীতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা

৯৭৩
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا : أَنَّ رِجالًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ (ﷺ) أَرُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي المَنَامِ فِي السَّبْع الأَوَاخِرِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ): (أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ، فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيَهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ).
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ রামাযান মাসের শেষ সাত দিনের রাত্রিসমূহে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একদল সাহাবীকে স্বপ্নযোগে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ আমি দেখছি তোমাদের শেষ সাত রজনীতে লাইলাতুল কদর হওয়ার ব্যাপারে তোমাদের স্বপ্ন পরস্পরের সাথে মিলে যাচ্ছে। সুতরাং যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করতে চায় সে যেন শেষ সাত রাতেই তা অনুসন্ধান করে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯৫২)
৯৭৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : اعْتَكَفْنَا مَعَ النَّبِيِّ (ﷺ) الْعَشْرَ الأَوْسَطَ مِنْ رَمَضَانَ، فَخَرَجَ صَبِيحَةَ عِشْرِينَ فَخَطَبَنَا ، وَقَالَ : (إِنِّي أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، ثُمَّ أُنْسِيتُهَا ، أَوْ : نُسِّيتُهَا، فَالْتَمِسُوهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فِي الْوِتْرِ، وَإِنِّي رَأَيْتُ أَنِّي أَسْجُدُ فِي مَاءٍ وَطِينٍ، فَمَنْ كَانَ اعْتَكَفَ مَعَ رَسُولِ اللهِ (ﷺ) فَلْيَرْجِعُ . فَرَجَعْنَا وَمَا نَرَى فِي السَّمَاءِ قَزَعَةٌ، فَجَاءَتْ سَحَابَةٌ فَمَطَرَتْ حَتَّى سَالَ سَقْفُ المَسْجِدِ، وَكَانَ مِنْ جَرِيدِ النَّخْلِ، وَأُقِيمَتِ الصَّلَاةُ، فَرَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ (ﷺ) يَسْجُدُ فِي المَاءِ وَالطِّينِ، حَتَّى رَأَيْتُ أَثَرَ الطِّينِ فِي جَبْهَتِهِ .
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে রামাযান মাসের মধ্যের দশ দিন ই'তেকাফ করলাম। অতঃপর বিশ তারিখের ভোরে তিনি বের হয়ে আমাদের সামনে এসে ভাষণ দিলেন এবং বললেনঃ আমাকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছে। তারপর আমি তা ভুলে গেছি। অথবা তিনি বলেছেনঃ আমাকে ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। সুতরাং তোমরা রামাযানের শেষ দশ দিনের বেজোড় তারিখে লাইলাতুল কদর তালাশ কর। কেননা আমি দেখতে পেয়েছি যে, আমি স্বয়ং পানি ও কাদায় সিজদা করছি। তাই যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে ই'তেকাফ করেছে সে যেন ফিরে আসে। সুতরাং আমরা ফিরে এলাম। আমরা আকাশে এক টুকরা মেঘও দেখতে পেলামনা। হঠাৎ এক খন্ড মেঘ দেখা দিল এবং তা থেকে বর্ষণ হল। এমন কি মসজিদের ছাদ বেয়ে পানি ঝরতে লাগল। আর মসজিদের ছাদ ছিল খেজুর গাছের শাখা দিয়ে নির্মিত। অতঃপর (ফজরের) নামাযের একামত দেয়া হল। আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে পানি ও কাঁদায় সিজদা করতে দেখেছি। এমন কি আমি তাঁর কপালে কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯৫৩)
৩২/৩ পরিচ্ছেদঃ

রামাযান মাসের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান করা

৯৭৫
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا : أَنَّ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: الْتَمِسُوهَا) فِي الْعَشْرِ الْأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ، لَيْلَةَ الْقَدْرِ، فِي تَاسِعَةٍ تَبْقَى، فِي سَابِعَة تَبْقَى فِي خَامِسَةٍ تَبْقَى).
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ তোমরা রামাযান মাসের শেষ দশ দিনে লাইলাতুল কদর তালাশ কর। নয় রাত বাকী থাকতে, সাত রাত বাকী থাকতে এবং পাঁচ রাত বাকী থাকতে। অর্থাৎ ২১, ২৩ এবং ২৫ তারিখে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯৫৪)
৯৭৬
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
وَعَنْهُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، فِي رواية، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) : (هِيَ فِي الْعَشْرِ الْآواخِرِ فِي تِسْعِ يَمْضِينَ، أَوْ فِي سَبْعِ يَبْقَيْنَ). يَعْنِي لَيْلَةَ الْقَدْرِ .
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস হতে অন্য বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ লাইলাতুল কদর রামাযানের শেষ দশ দিনে রয়েছে। যখন নয় রাত কিংবা সাত রাত কিংবা পাঁচ রাত বাকী থাকে। অর্থাৎ ২১ কিংবা ২৩ কিংবা ২৫ তারিখে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯৫৪)
৩২/৪ পরিচ্ছেদঃ

রামাযান মাসের শেষ দশ দিনের আমলের বর্ণনা

৯৭৭
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : كَانَ النَّبِيُّ (ﷺ) إِذَا دَخَلَ الْعَشْرُ شَدَّ مِثْزَرَهُ، وَأَحْيَا لَيْلَهُ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ.
আয়েশা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ যখন রামাযানের শেষ দশ দিন এসে যেত তখন নবী (ﷺ) পরনের কাপড় শক্ত করে পরিধান করতেন (এবাদতের জন্য ভালভাবে প্রস্তুতি নিতেন)। রাত্রি জাগরণ করতেন এবং পরিবারের লোকদেরকেও জাগাতেন৷ (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯৫৫)