hadith book logo

মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী

৬১. কিতাবুত তালাক

مختصر صحيح البخاري

৬১/১ পরিচ্ছেদঃ

হায়েয অবস্থায় তালাক দিলে ঐ তালাক কার্যকর হবে

১৮৭৩
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
وَعَنْهُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : حُسِبَتْ عَلَيَّ بِتَعْلِيقَةٍ .
ইব্‌ন ‘উমার (রহঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ এটিকে আমার উপর এক ত্বলাক্ব গণ্য করা হয়েছিল। (আলোকিত প্রকাশনীঃ )
১৮৭৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا : أَنَّ ابْنَةَ الجَوْنِ، لَمَّا أُدْخِلَتْ عَلَى رَسُولِ الله (ﷺ) وَدَنَا مِنْهَا قَالَتْ : أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ، فَقَالَ لَهَا: (لَقَدْ عُذْتِ بِعَظِيمٍ، الْحَقِي بِأَهْلِكِ).
আয়েশা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
আল-যাওনের কন্যাকে যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট আনা হল এবং তিনি তার নিকটবর্তী হলেন তখন সে বললঃ আমি আপনার থেকে আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি। নবী (ﷺ) বললেনঃ যিনি সবচেয়ে বড় তুমি তাঁর আশ্রয় চেয়েছ। সুতরাং তুমি নিজের পরিবার পরিজনের নিকট চলে যাও। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৮২৫)
১৮৭৫
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
وَفِي رِوايَةٍ عَنْ أَبِي أُسَيْدٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ: أَنَّهَا أُدْخِلَتْ عَلَيْهِ وَ مَعَهَا دَايَتُهَا حَاضِنَةٌ لَهَا ، فَقَالَ النَّبِيُّ (ﷺ): (هَبِي نَفْسَكِ لِي). قالَتْ: وَهَلْ تَهَبُ المَلِكَةُ نَفْسَهَا لِلسُّوقَةِ؟ قَالَ : فَأَهْوَى بِيَدِهِ يَضَعُ يَدَهُ عَلَيْهَا لِتَسْكُنَ، فَقَالَتْ : أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْكَ، فَقَالَ: (قَدْ عُذْتِ بِمَعَادٍ). ثُمَّ خَرَجَ عَلَيْنَا فَقَالَ: (يَا أَبَا أُسَيْدٍ، أَكْسُهَا رَازِقِيَّيْنِ ، وَأَلْحِقْهَا بِأَهْلِهَا).
আবু উসায়েদ (রাঃ) হতে অপর বর্ণনায় এসেছে, আল-যাওনের কন্যাকে নবী (ﷺ)-এর নিকট প্রবেশ করানো হল। তখন তার সাথে তার পরিচর্যাকারী ধাত্রীও (দুধ মা) ছিল। তিনি মহিলাটিকে বললেনঃ তুমি নিজেকে আমার নিকট দান করে দাও। সে বললঃ কোন রাজকুমারী কি কোন বাজারী লোকের নিকট নিজেকে সোপর্দ করতে পারে? তার অন্তর শান্ত করার জন্য নবী (ﷺ) তার দিকে হাত বাড়ালে সে বললঃ আমি আপনার থেকে আল্লাহর আশ্রয় পার্থনা করছি। নবী (ﷺ) তখন বললেনঃ তুমি এমন এক মহান সত্তার আশ্রয় পার্থনা করেছ, যিনি আশ্রয় দিতে সক্ষম। অতঃপর তিনি বের হয়ে আমাদের নিকট এসে বললেনঃ হে আবু উসায়েদ! একে দুটি রাযাকী বস্ত্র প্রদান কর এবং তার পরিবারের নিকট পৌছিয়ে দাও। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৮২৬)
৬১/২ পরিচ্ছেদঃ

যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক দিবে সে কি তালাক দেয়ার কথা সামনা সামনি বলবে?

১৮৭৬
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَنَّ امْرَأَةَ رِفَاعَةَ الْقُرَظِي جَاءَتْ إِلَى رَسُولِ اللهِ (ﷺ) فَقَالَتْ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ رِفاعَةَ طَلَّقَنِي فَبَتْ طَلاقِي، وَإِنِّي نَكَحْتُ بَعْدَهُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ الرَّبِيرِ الْقُرَظِيَّ، وَإِنَّمَا مَعَهُ مِثْلُ الْهُدْبَةِ، قَالَ رَسُولُ اللهِ (ﷺ): (لَعَلَّكِ تُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلَى رِفاعَةَ؟ لا، حَتَّى يَذُوقَ عُسَيْلَتَكِ وَتَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ) .
আয়েশা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রিফাআ আল-কুরাযী (রাঃ) এর স্ত্রী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসুল! রিফাআ আমাকে বাত্তা (চুড়ান্ত) তালাক দিয়েছে। এরপর আমি আদুর রাহমান বিন জুবাইর আল কুরাযীকে বিয়ে করি। কিন্তু তার সাথে আছে কাপড়ের একটি পুটলির মত জিনিস। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ সম্ভবতঃ তুমি রিফাআর কাছে ফিরে যেতে চাও? না, ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি প্রথম স্বামীর নিকট যেতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তোমার স্বাদ গ্রহণ করে এবং তুমিও তার স্বাদ গ্রহণ কর। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৮২৭)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ দাম্পত্য জীবন অতিষ্ট হয়ে উঠলে যদি সমাধানের কোন পথ না থাকে, তবে নিয়ম তান্ত্রিকভাবে তিন তালাক দ্বারা সংসার ভেঙ্গে দেয়াতে কোন বাধা নেই। এ ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম হচ্ছে তিন মাসে পবিত্রাবস্থার পৃথক পৃথক তিন তালাক দেয়া।
৬১/৩ পরিচ্ছেদঃ

যারা তিন তালাক দেয়া ভায়্যে মনে করেন

৬১/৪ পরিচ্ছেদঃ

আল্লাহ্ যা তোমার জন্য হালাল করেছেন, তা ভূমি হারাম করবে কেন?

১৮৭৭
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
وعَنْها رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : كانَ رَسُولُ اللهِ (ﷺ) يُحِبُّ الْعَسَلَ وَالْحَلْوَاءَ، وَكَانَ إِذَا انْصَرَفَ مِنَ الْعَصْرِ دَخَلَ عَلَى نِسَائِهِ، فَيَدْنُو مِنْ إِحْدَاهُنَّ، فَدَخَلَ عَلَى حَفْصَةَ بِنْتِ عُمَرَ، فَاحْتَبَسَ أَكْثَرَ مَا كَانَ يَحْتَبِسُ، فَعِرْتُ، فَسَأَلْتُ عَنْ ذلِكَ، فَقِيلَ لِي: أَهْدَتْ لَهَا امْرَأَةٌ مِنْ قَوْمِهَا عُدَّةٌ مِنْ عَسَلٍ، فَسَقَتِ النَّبِيَّ (ﷺ) مِنْهُ شَرْبَةٌ، فَقُلْتُ: أَمَا وَاللَّهِ لَنَحْتَالَنَّ لَهُ، فَقُلْتُ لِسَوْدَةَ بِنْتِ زَمْعَةَ : إِنَّهُ سَيَدْنُو مِنْكِ، فَإِذَا دَنَا مِنْكِ فَقُولِي : أَكَلْتَ مَغَافِيرَ؟ فَإِنَّهُ سَيَقُولُ لَكِ : لا، فَقُولِي لَهُ : مَا هَذِهِ الرِّيحُ الَّتِي أَجِدُ مِنْكَ ؟ فَإِنَّهُ سَيَقُولُ لَكِ : سَقَتْنِي حَفْصَةُ شَرْبَةَ عَسَلٍ، فَقُولِي لَهُ : جَرَسَتْ نَحْلُهُ الْعُرْفُط، وَسَأَقُولُ ذَلِكَ، وَقُولِي أَنْتِ يَا صَفيَّةُ ذَاكِ . قالَتْ : تَقُولُ سَوْدَةُ : فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلا أَنْ قامَ عَلَى الْبَابِ، فَأَرَدْتُ أَنْ أُبَادِيَهُ بِمَا أَمَرْتِنِي بِهِ فَرَقًا مِنْكِ، فَلَمَّا دَنَا مِنْهَا قَالَتْ لَهُ سَوْدَةُ : يَا رَسُولَ اللهِ ، أَكَلْتَ مَغَافِيرٌ؟ قال: (لا). قالَتْ : فَمَا هذِهِ الرِّيحُ الَّتِي أَجِدُ مِنْكَ؟ قَالَ: (سَقَتْنِي حَفْصَةُ شَرْبَةَ عَسَلٍ). فَقَالَتْ : جَرَسَتْ نَحْلُهُ الْعُرْفُط، فَلَمَّا دَارَ إِلَيَّ قُلْتُ لَهُ نَحْوَ ذَلِكَ، فَلَمَّا دَارَ إِلَى صَفِيَّةَ قالَتْ لَهُ مِثْلَ ذَلِكَ، فَلَمَّا دَارَ إِلَى حَفْصَةَ قالَتْ : يَا رَسُولَ الله، أَلا أَسْقِيكَ مِنْهُ؟ قالَ : (لاَ حَاجَةَ لِي فِيهِ). قَالَتْ : تَقُولُ سَوْدَةُ: وَاللَّهِ لَقَدْ حَرَمْنَاهُ، قُلْتُ لَهَا : أَسْكُتِي.
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মধু ও মিষ্টি পছন্দ করতেন তিনি আসরের নামায সমাপনান্তে স্ত্রীদের নিকট সাসতেন এবং তাদের কোন একজনের নিকট অবস্থান করতেন। তিনি একদা হাফসা বিনতে উমারের নিকট প্রবেশ করলেন এবং সাধারণ অভ্যাসের চেয়ে বেশী সময় অবস্থান করলেন। এতে আমার ক্রোধ এসে গেল। আমি এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। আমাকে বলা হলঃ তাঁর গোত্রের জনৈক মহিলা তাকে চামড়ার একটি ডিবা ভর্তি মধু উপঢৌকন দিয়েছে। তা থেকে তিনি নবী (ﷺ) কে কিছু মধু পান করালেন। আমি মনে মনে বললামঃ আল্লাহর শপথ! আমি একটি ফন্দি আটব। অতএব আমি সাওদা বিনতে হামজাকে বললামঃ তিনি অচিরেই আপনার নিকট আসবেন এবং আসলে বলবেন? আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন? তিনি অবশ্যই বলবেনঃ না, তখন আপনি বলবেন? তাহলে এ কিসের গন্ধ পাচ্ছি? তখন তিনি বলবেনঃ হাফসা আমাকে মধুর শরবত পান করিয়েছে। আপনি বলবেনঃ তাহলে মধু পোকা সম্ভবতঃ বাবলা ফুলের রস শোষণ করেছে। আমিও তাই বলব। হে সাফিয়্যা তুমিও তাই বলবে।

আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ পরে সাওদা বলেনঃ তিনি দরজার কাছে আসার সাথে সাথেই আমি তোমার সাথে মনোমালিন্যের আশঙ্কায় তোমার শেখানো কথাগুলো বলতে প্রস্তুত হলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তার নিকট আসলেন তখন সাওদা বললেনঃ হে আয়াহর রাসূল! আপনি কি মাগাফীর খেয়েছেন? তিনি বললেনঃ না, সাওদা বললেনঃ তাহলে আমি আপনার কাছ থেকে কিসের গন্ধ পাচ্ছি। তিনি বললেনঃ হাফসা আমাকে মধুর শরবত পান করিয়েছে। সাওদা বললেনঃ তাহলে মধু পোকা সম্ভবতঃ বাবলা ফুলের রস শোষণ করেছে। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ তিনি আমার নিকট আসলে আমিও একই কথা বললাম। সাফিয়্যার কাছে গেলে তিনিও একই কথা বললেন। পরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাফসার ঘরে গেলে তিনি বললেনঃ আমি কি আপনাকে যধু পান করাবো না? তিনি বললেনঃ দরকার নেই। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ সাওদা শপথ করে বললেনঃ আমরা তাকে বঞ্চিত করলাম। আয়েশা বলেনঃ আমি বললাম চুপ কর। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১৮২৮)