মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
৩৪. কিতাবুল বুয়ূ (ক্রয়-বিক্রয়)
مختصر صحيح البخاري
৩৪/১ পরিচ্ছেদঃ
আল্লাহর বাণীঃ যখন জুমআর নামায সমাপ্ত হয়ে যাবে তখন তোমরা যমীনে ছড়িয়ে পড়বে
৯৮৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْن عَوْفٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: لَمَّا قَدِمْنَا المَدِينَةَ آخى رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) بَيْنِي وَبَيْنَ سَعْدِ بْنِ الربيع، فَقَالَ سَعْدُ بْنُ الرَّبِيعِ : إِنِّي أَكْثَرُ الأَنْصَارِ مَالًا، فَأَقْسِمُ لَكَ نِصْفَ مَالِي، وَانْظُرْ أَي زَوْجَتَيَّ هَوِيتَ نَزَلْتُ لَكَ عَنْهَا ، فَإِذَا حَلَّتْ تَزَوَّجْتَهَا، قَالَ : فَقَالَ عَبْدُ الرَّحْمنِ: لَا حَاجَةَ لِي فِي ذُلِكَ، هَلْ مِنْ سُوقٍ فِيهِ تِجَارَهُ؟ قَالَ : سُوقُ قينقاع، قَالَ : فَغَدًا إِلَيْهِ عَبْدُ الرَّحْمَنِ، فَأَتَى بِأَقِطٍ وَسَمْنٍ، ثُمَّ تَابَعَ الْعُدُو، فَمَا لَبِثَ أَنْ جَاءَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ عَلَيْهِ أَثَرُ الصُّفْرَة، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ (ﷺ) : (تَزَوَّجْتَ؟). قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: (وَمَنْ؟). قَالَ: أَمْرَأَةٌ مِنَ الْأَنْصَارِ، قَالَ: (كَمْ سُقْتَ إِلَيْها ؟). قَالَ : زِنَةَ نَوَاةٍ مِنْ ذَهَبٍ، أَوْ نَوَاةٌ مِنْ ذَهَبٍ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ (ﷺ): (أَوْ لِمْ وَلَوْ بِشَاةٍ) .
আব্দুর রাহমান বিন আওফ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমরা যখন মদীনায় আগমণ করলাম তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সা'দ বিন রবী এবং আমার মাঝে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন রচনা করে দিলেন। সা'দ বিন রবী বললেনঃ আমি আনসারদের মধ্যে সব চেয়ে ধনী লোক। আমি তোমাকে আমার অর্ধেক সম্পদ প্রদান করব। আমার দু'জন স্ত্রীর মধ্যে যাকে তোমার পছন্দ হয় তাকে আমি তোমার জন্য তালাক প্রদান করব। যখন তার ইদ্দত শেষ হবে তখন তুমি তাকে বিয়ে করে নাও। আব্দুর রাহমান তাকে বললেনঃ এ সবে আমার কোন প্রয়োজন নেই। ব্যবসা করার মত কোন বাজার আছে কি? তিনি বললেনঃ কায়নুকার বাজার আছে। আব্দুর রাহমান সেখানে গেলেন এবং পনির ও ঘি খরিদ করে আনলেন। এরপর প্রতিদিন সকালে যেতে থাকলেন। অল্প কিছু দিন পরেই আব্দুর রাহমান রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতে আগমণ করলেন। তার শরীরে ছিল হলুদের রং (সদ্য বিয়ে করার আলামত)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি বিয়ে করেছ কি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। আবার বললেনঃ কাকে? আব্দুর রাহমান বললেনঃ জনৈক আসনারী মহিলাকে। পুনরায় জিজ্ঞেস করলেনঃ মহর কত দিয়েছ? একটি খেজুরের আঁটি পরিমাণ স্বর্ণ। নবী (ﷺ) তখন বললেনঃ একটি বকরী জবাই করে হলেও অলীমার ব্যবস্থা কর। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯৬২)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ সামর্থ্য অনুযায়ী অলীমা করা বর পক্ষের উপর ওয়াজিব। কিন্তু কোন অবস্থাতেই কনে পক্ষের উপর তা মুস্তাহাবও নয়। আল্লাহ তাআলা যেন সবাইকে কুরআন-সুন্নাহর উপর আমল করার সুমতি দান করেন।
৩৪/২ পরিচ্ছেদঃ
হালাল সুস্পষ্ট, হারামও সুস্পষ্ট এবং এ দু'টির মাঝখানে রয়েছে সন্দেহযুক্ত
৯৮৫
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنِ النُّعْمَانِ بْنِ بَشِيرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُما قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ (ﷺ): (الحَلَالُ بَيْن والحَرَامُ بَيِّنٌ، وَبَيْنَهُمَا أُمُورٌ مُشْتَبِهَةٌ ، فَمَنْ تَرَكَ مَا شُبِّهَ عَلَيْهِ مِنَ الإِثْمِ كَانَ لِمَا اسْتَبانَ أَتْرَكَ، وَمَنِ اجْتَرَأَ عَلَى مَا يَشُكُ فِيهِ مِنَ الإِثْمِ أَوْشَكَ أَنْ يُوَاقِعَ مَا اسْتَبَانَ، وَالمَعَاصِي حِمَى اللَّهِ، مَنْ يَرْتَعْ حَوْلَ الْحِمَى يُوشِكُ أَنْ يُوَاقِعَهُ) .
প্রখ্যাত সাহাবী নু'মান বিন বাশীর (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, হালাল সুস্পষ্ট বাবাহ হারামও সুপষ্ট এবং উভয়ের মধ্যবর্তী স্থানে কিছু সন্দেহপূর্ণ বিষয় রয়েছে। সুতরাং গুনাহ হওয়ার সভাবনা আছে এমন বিষয় যে বর্জন করে সে প্রকাশ্য শুনাহের বিষয়গুলো সহজেই ছেড়ে দেবে। আর যে ব্যক্তি গুনাহের সন্দেহ আছে এখন কাজের দুঃসাহস করে সে প্রকাশ্য গুনাহের কাজে জড়িয়ে পড়বে। গুনাহের কাজসমূহ আল্লাহর নিষিদ্ধ চারণভূমি তুল্য। যে ব্যক্তি নিষিদ্ধ চারণ ভূমির চার পাশে বিচরণ করবে তার সেখানে প্রবেশের সম্ভাবনাই বেশী। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯৬৩)
৩৪/৩ পরিচ্ছেদঃ
সন্দেহযুক্ত জিনিষের ব্যাখ্যা
৯৮৬
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ : كَانَ عُتْبَةُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ، عَهِدَ إِلَى أَخِيهِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : أَنَّ ابْنَ وَلِيدَةِ زَمْعَةَ مِنِّي فَأَقْبِضَهُ، قَالَتْ : فَلَمَّا كَانَ عَامُ الْفَتْحِ أَخَذَهُ سَعْدُ ابْنُ أَبِي وَقَاصِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَقَالَ : ابْنُ أَخِي قَدْ عَهِدَ إِلَيَّ فِيهِ، فَقَامَ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةً فَقَالَ : أَخِي وَابْنُ وَلِيدَةِ أَبِي، وُلِدَ عَلَى فِرَاشِهِ، فَتَسَاوَقَا إِلَى النَّبِيِّ (ﷺ) ، فَقَالَ سَعْدٌ: يَا رَسُولَ اللهِ، ابْنُ أَخِي كَانَ قَدْ عَهِدَ إِلَيَّ فِيهِ. فَقَالَ عَبْدُ ابْنُ زَمْعَةَ : أَخِي وَابْنُ وَلِيدَةِ أَبِي وُلِدَ عَلَى فِرَاشِهِ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) : (هُوَ لَكَ يَا عَبْدُ بْنَ زَمْعَةَ). ثُمَّ قَالَ النَّبِيُّ (ﷺ) : (الْوَلَدُ لِلْفِرَاسُ وَلِلْعَاهِرِ الحَجَرُ). ثُمَّ قَالَ لِسَوْدَةَ بِنْتِ زَمْعَةَ، زَوْجِ النَّبِيِّ (ﷺ) : (أحْتَجِبِي مِنْهُ يَا سَوْدَةُ) لِمَا رَأَى مِنْ شَبَهِهِ بِعُتْبَةَ، فَمَا رَآهَا حَتَّى لَقِيَ اللَّهَ .
আয়েশা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ উত্তবা বিন আবু ওয়াক্কাস তার ভাই সা'দ বিন আবু ওয়াক্কাস (রাঃ) কে এই মর্মে অসীয়ত করলেন যে, যামআর দাসীর গর্ভজাত পুত্র আমার ঔরসজাত। তুমি তার নিকট থেকে নিয়ে আস। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ মক্কা বিজয়ের দিন সা বিন আবু ওয়াক্কাস তাকে নিয়ে নিলেন এবং বললেনঃ এটি আমার ভাতিজা। তার ব্যাপারে আমার ভাই আমাকে অসীয়ত করে গেছেন। আবদ ইবনে যামআ দাঁড়িয়ে বললেনঃ সে আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর সন্তান। আমার পিতার বিছানায় সে জন্ম গ্রহণ করেছে। ব্যাপারটি নিয়ে তারা উভয়েই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গেলেন। সান বললেনঃ এটি আমার ভাতিজা। তার ব্যাপারে আমার ভাই আমাকে অসীয়ত করে গেছেন। আবদ ইবনে যামত্মা বললেন। সে আমার ভাই এবং আমার পিতার দাসীর সন্তান। আমার পিতার বিছানায় সে জন গ্রহণ করেছে। তখন রাসূল (ﷺ) বললেনঃ হে আবদ ইবনে যামত্মা! সে তোমারই। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ যার বিছানায় জন্ম নিবে সন্তান তারই হবে। আর ব্যভিচারীকে পাথর মারতে হবে। তারপর নবী (ﷺ) তাঁর স্ত্রী সাওনাকে বললেনঃ তুমি তার সামনে পর্দা করবে। কেননা নবী (আ) তাঁর চেহারায় উত্তরার সাদৃশ্য দেখতে পেয়েছিলেন। এরপর মৃত্যু পর্যন্ত সে দার্সীর সন্তানটি আর সাওদা (রাঃ) কে দেখতে পায়নি। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯৬৪)
৩৪/৪ পরিচ্ছেদঃ
যারা ওয়াসওয়াসা এবং অনুরূপ বিষয়কে সন্দেহযুক্ত জিনিষ মনে করেন না
৯৮৭
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীوعَنْهَا رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ : إِنَّ قَوْمًا قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، إِنَّ قَوْمًا يَأْتُونَنَا بِاللَّحْمِ لَا نَدْرِي : أَذَكَرُوا اسْمَ اللهِ عَلَيْهِ أَمْ لَا؟ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) : (سَمُّوا اللَّهَ عَلَيْهِ وَكُلُوهُ) .
আয়েশা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন। কতিপয় লোক কালা হে আল্লাহর রাসূল! এক ন লোক আমাদের নিকট গোশত নিয়ে আসে। আমরা জানি না তারা বিপনিল্লাহ বলে জবাই করেছে না। রাসূল (ﷺ) তখন বললেনঃ তোমরা বিসমিল্লাহ বলে গেয়ে নাও। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯৬৫)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ এহেন অবকাশ থেকে বিদানগণ বলেছেন স্মরণ থাকাবস্থায় সমল্লাহ বলা রে গেলে তা ক্ষমাযোগ্য।