মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
৩৭. কিতাবুল ইজারা (শ্রমিক নিয়োগ, ভাড়া নেওয়া, দেয়া ইত্যাদি)
مختصر صحيح البخاري
৩৭/১ পরিচ্ছেদঃ
ইজারার বর্ণনা
১০৫৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : أَقْبَلْتُ إِلَى النَّبِيِّ (ﷺ) وَمَعِي رَجُلانِ مِنَ الأَشْعَرِيِّينَ، فَقُلْتُ : مَا عَلِمْتُ أَنَّهُمَا يَطلُبَانِ الْعَمَلَ ، فَقَالَ : لَنْ - أَوْ : لاَ - نَسْتَعْمِلُ عَلَى عَمَلِنَا مَنْ أَرَادَهُ) .
আবু মুসা আশআরী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ একদা আমি নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট গেলাম। আমার সাথে ছিল আশআরী গোত্রের আরো দু'জন লোক। তারা নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট চাকুরীর প্রার্থনা করল। আর আমি জানতাম না যে, তারা চাকুরী চাইবে। অতঃপর নবী (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের কোন পদে নিয়োজিত হওয়ার আবেদন করবে আমরা কখনই তাকে সে পদে নিয়োগ করবনা। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৩১)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ এখানে শুধু কাজ নয়; বরং পদের ব্যাপার জড়িত ছিল। তাই তা চাওয়া যাবেনা। এ কথা বুঝানোর জন্য উক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
৩৭/২ পরিচ্ছেদঃ
কয়েক কীরাতের বিনিময়ে ছাগল চরানো
১০৫৫
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: (مَا بَعَثَ اللَّهُ نَبِيًّا إِلَّا رَعَى الْغَنَمَ) فَقَالَ أَصْحَابُهُ: وَأَنْتَ؟ فَقَالَ : (نَعَم ، كُنْتُ أَرْعَاهَا عَلَى قَرَارِيطَ لأَهْلِ مَكَّةَ).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহ তাআলা দুনিয়াতে এমন কোন নবী পাঠান নি যিনি ছাগল চরান নি। সাহাবীগণ বললেনঃ আপনিও কি ছাগল চরিয়েছেন? উত্তরে তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, আমিও কয়েক কীরাতের (সামান্য মজুরীর) বিনিময়ে মক্কাবাসীদের ছাগল চরিয়েছি। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৩২)
৩৭/৩ পরিচ্ছেদঃ
আসরের সময় থেকে রাত পর্যন্ত শ্রমিক নিয়োগ করা
১০৫৬
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللَّهُ عنه عَن النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: مَثَلُ الْمُسْلِمِينَ وَالْيَهُودِ وَالنَّصَارَى، كَمَثَلِ رَجُلٍ اسْتَأْجَرَ قَوْمًا يَعْمَلُوْنَ لَهُ عَمَلَا يَوْمًا إِلَى اللَّيْلِ عَلَى أَجْرٍ مَعْلُومٍ، فَعَمِلُوا لَّهُ إِلَى نِصْفِ النَّهَارِ، فَقَالُوا : لَا حَاجَةَ لَنَا إِلَى أَجْركَ الَّذِي شَرَطْتَ لَنَا وَمَا عَمِلْنَا بَاطِل فَقَالَ لَهُمْ: لَا تَفْعَلُوا، أَكْمِلُوا بَقِيَّةَ عَمَلِكُمْ وَخُذُوا أَجْرَكُمْ كَامِلَا، فَأَبَوْا وَتَرَكُوا وَاسْتَأْجَرَ آخَرِيْنَ بَعْدَهُمْ، فَقَالَ : أَكْمِلُوا بَقِيَّةَ يَوْمِكُمْ هَذَا وَلَكُمْ الَّذِي شَرَطْتُ لَهُمْ مِنَ الآخِر فَعَمِلُوا حَتَّى إِذَا كَانَ حِيْنَ صَلَاةِ الْعَصْرِ ، قَالُوا: لَكَ مَا عَمِلْنَا بَاطِلٌ وَلَكَ الْأَجْرُ الَّذِي جَعَلْتَ، لَنَا فِيْهِ فَقَالَ لَهُمْ: أَكْمِلُوا بَقِيَّةَ عَمَلِكُمْ، فَإِنَّمَا بَقِيَ مِنَ النَّهَارِ شَيْءٌ يَسِيرٌ فَأَبَوْا، وَاسْتَأْجَرَ قَوْمًا يَعْمَلُوا لَهُ بَقِيَّةَ يَوْمِهِمْ فَعَمِلُوْا بَقِيَّةَ يَوْمِهِمْ حَتَّى غَابَتِ الشَّمْسُ ، وَاسْتَكْمَلُوْا أَجْرَ الْفَرِيقَيْنِ كِلَيْهِمَا فَذلِكَ مَثَلُهُمْ ، وَمَثَلُ مَا قَبِلُوا مِنَّ هَذَا النُّوْرِ .
আবু মুসা আশআরী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ মুসলিম, ইহুদী এবং নাসারাদের দৃষ্টান্ত হল যেমন একজন লোক তার কোন একটি কাজ সম্পাদন করার জন্য কতিপয় লোক নিয়োগ করল। এই শর্তে যে, তারা রাত পর্যন্ত নির্দিষ্ট মজুরীর বিনিময়ে কাজ করবে। তারা দুপুর পর্যন্ত কাজ করার পর বললঃ আপনি আমাদেরকে যে মজুরী দিতে চেয়েছিলেন তাতে আমাদের কোন প্রয়োজন নেই। আর আমরা যা করেছি তাতে আমাদের কোন দাবীও নেই৷ নিয়োগকর্তা তাদেরকে বললেনঃ তোমরা এরূপ করোনা। তোমরা অবশিষ্ট কাজ সমাধা করে পূর্ণ পারিশ্রমিক নিয়ে যাও। তারা কাজ করতে অস্বীকার করল এবং কাজ ত্যাগ করল। তারা চলে গেলে অন্য দু'জন লোককে তিনি কাজে লাগালেন। তিনি তাদের দু'জন লোককে বললেনঃ তোমরা বাকী অংশ পূর্ণ কর। তাদেরকে যে মজুরী দিতে চেয়েছিলাম, তোমাদেরকে তাই দিব। তারা আসরের নামাযের সময় পর্যন্ত কাজ করার পর বললঃ আমরা আপনার জন্য যে কাজ করেছি তার কোন মজুরী দিতে হবে না। আর আপনি আমাদেরকে যে মজুরী দিতে চেয়েছিলেন তা আপনারই থাকল। তিনি তাদেরকে বললেনঃ তোমরা অবশিষ্ট কাজ পূর্ণ কর। কেননা দিনের মাত্র সামান্য সময় বাকী আছে। কিন্তু তারা অস্বীকার করল। পরে তিনি দিনের অবশিষ্ট অংশ কাজ করার জন্য আরেক দল লোক নিয়োগ করলেন। তারা তাঁর জন্য সূর্যাস্ত পর্যন্ত দিনের অবশিষ্ট অংশ কাজ করল এবং পূর্ববর্তী দু'দলের পূর্ণ মজুরী নিয়ে নিল। আর এটিই হল মুসলিম এবং তারা যে ইসলামের আলো কবুল করেছে তার উপমা। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৩৩)
৩৭/৪ পরিচ্ছেদঃ
যে ব্যক্তি কোন শ্রমিক নিয়োগ করল। অতঃপর শ্রমিক তার মূল্য ফেলে চলে গেল৷ পরে নিয়োগকর্তা তার মজুরীর টাকা কাজে খাটিয়ে বাড়িয়ে দিল৷
১০৫৭
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ (ﷺ) يَقُولُ : (انْطَلَقَ ثَلَاثَةُ رَهْطٍ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ، حَتَّى أَوَوُا المَبِيتَ إِلَى عَارٍ فَدَخَلُوهُ، فَأَنْحَدَرَتْ صَخْرَةٌ مِنَ الجَبَلِ فَسَدَّتْ عَلَيْهِمُ الْغَارَ، فَقَالُوا : إِنَّهُ لَا يُنْجِيكُمْ مِنْ هَذِهِ الصَّخْرَةِ إلا أَنْ تَدْعُوا اللَّهَ بِصَالِحٍ أَعْمَالِكُمْ، فَقَالَ رَجُلٌ مِنْهُمُ : اللَّهُمَّ كَانَ لِي أَبَوَانِ شَيْخَانِ كَبِيرَانِ، وَكُنْتُ لَا أَغْبِقُ قَبْلَهُمَا أَهْلًا وَلا مَالًا، فَنَاءَ بِي فِي طَلَبِ شَيْءٍ يَوْمًا، فَلَمْ أُرِحْ عَلَيْهِمَا حَتَّى نَامَا، فَحَلَبْتُ لَهُمَا غَبُوقَهُمَا فَوَجَدْتُهُمَا نَائِمَيْنِ، وَكَرِهْتُ أَنْ أَغْبِقَ قَبْلَهُمَا أَهْلًا أَوْ مالا ، فَلَبِثْتُ وَالْقَدَحُ عَلَى يَدَيَّ أَنْتَظِرُ اسْتِيقَاظَهُمَا حَتَّى بَرَقَ الْفَجْرُ، فَاسْتَيْقَظَا فَشَرِبَا غَبُوقَهُمَا ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتُ فَعَلْتُ ذلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَفَرِّجْ عَنَّا مَا نَحْنُ فِيهِ مِنْ هَذِهِ الصَّخْرَةِ، فَأَنْفَرَجَتْ شَيْئًا لا يَسْتَطِيعُونَ الخُرُوجَ، قَالَ النَّبِيُّ (ﷺ) : (وَقَالَ الآخَرُ : اللَّهُمَّ كَانَتْ لِي بِنْتُ عَم كانَتْ أَحَبَّ النَّاسِ إِلَيَّ، فَأَرَدْتُهَا عَنْ نَفْسِهَا فَامْتَنَعَتْ مِنِّي، حَتَّى أَلَمَّتْ بِهَا سَنَةٌ مِنَ السِّنِينَ، فَجَاءَتْنِي فَأَعْطَيْتُهَا عِشْرِينَ وَمِائَةَ دِينَارٍ عَلَى أَنْ تُخَلِّي بَيْنِي وَبَيْنَ نَفْسِهَا ، فَفَعَلَتْ حَتَّى إِذَا قَدَرْتُ عَلَيْهَا قَالَتْ : لَا أُحِلُّ لَكَ أَنْ تَفُضَّ الخَاتَمَ إِلا بِحَقِّهِ، فَتَحَرَّجْتُ مِنَ الْوُقُوعِ عَلَيْهَا ، فَانْصَرَفْتُ عَنْهَا وَهِيَ أَحَبُّ النَّاسِ إِلَيَّ وَتَرَكْتُ الذَّهَبَ الَّذِي أَعْطَيْتُهَا ، اللَّهُمَّ إِنْ كُنْتُ فَعَلْتُ ذلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَأَفْرُجْ عَنَّا مَا نَحْنُ فِيهِ، فَانْفَرَجَتِ الصَّخْرَةُ غَيْرَ أَنَّهُمْ لاَ يَسْتَطِيعُونَ الخُرُوجَ مِنْهَا)، قالَ النَّبِيُّ (ﷺ) (وَقَالَ الثَّالِثُ : اللَّهُمَّ إِنِّي اسْتَأْجَرْتُ أَجَرَاءَ فَأَعْطَيْتُهُمْ أَجْرَهُمْ غَيْرَ رَجُلٍ وَاحِدٍ تَرَكَ الَّذِي لَهُ وَذَهَبَ، فَتَمَّرْتُ أَجْرَهُ حَتَّى كَثُرَتْ مِنْهُ الأَمْوَالُ، فَجَاءَنِي بَعْدَ . فَقَالَ : يَا عَبْدَ اللَّهِ أَدُ حين، إِلَيَّ أَجْرِي، فَقُلْتُ لَهُ: كُلُّ مَا تَرَى مِنْ أَجْرِكَ، مِنَ الإِبِلِ وَالْبَقَرِ وَالغَنَمِ وَالرَّقِيقِ، فَقَالَ: يَا عَبْدَ اللَّهِ لاَ تَسْتَهْزِئُ بِي، فَقُلْتُ: إِنِّي لَا أَسْتَهْزِئُ بِكَ، فَأَخَذَهُ كُلَّهُ فَاسْتَاقَهُ فَلَمْ يَتْرُكُ مِنْهُ شَيْئًا ، اللَّهُمَّ فَإِنْ كُنْتُ فَعَلْتُ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ وَجْهِكَ فَاخْرُجْ عَنَّا مَا نَحْنُ فِيهِ، فَانْفَرَجَتِ الصَّخْرَةُ فَخَرَجُوا يَمْشُونَ) .
ইবনে উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি রাসূল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, তোমাদের পূর্ব যুগে তিনজন লোক পথ চলছিল। পথিমধ্যে রাত্রি যাপন কারার জন্য তারা একটি পাহাড়ের গুহায় ঢুকে পড়ল। উপর থেকে বিশাল আকারের একটি পাথর গড়িয়ে এসে গুহার মুখ বন্ধ করে দিল। তাদের জন্য বের হওয়ার কোন সুযোগ অবশিষ্ট রইলনা। তাদের একজন অপরজনকে বলতে লাগল, তোমরা প্রত্যেকেই আপন আপন সৎআমল আল্লাহর দরবারে তুলে ধরে তার উসীলা দিয়ে জিকির">দু'আ করা ব্যতীত এই পাথর থেকে রেহাই পাওয়ার কোন উপায় নেই৷
তাদের একজন বললঃ হে আল্লাহ! আমার পিতা-মাতা অতি বৃদ্ধাবস্থায় উপনীত হয়েছিল। আমি তাদের পূর্বে আমার পরিবার-পরিজন কিংবা দাস-দাসীকে দুধ পান করাতাম না। একদিন ঘাসের সন্ধানে আমি অনেক দূরে চলে গেলাম। তারা ঘুমিয়ে পড়ার পূর্বে আমি ফেরত আসতে পারলাম না। আমি তাদের জন্য দুধ দোহন করলাম। অতঃপর আমি তাদেরকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। আমি তাদের পূর্বে পরিবার-পরিজন কিংবা দাস-দাসীকে দুধ পান করানো অপছন্দ করলাম। দুধের পেয়ালা হাতে নিয়ে আমি দাঁড়িয়ে তাদের জাগ্রত হওয়ার অপেক্ষা করতে থাকলাম। এভাবে সারা রাত কেটে গিয়ে ফজর উদীত হল। আমার পিতা-মাতা ঘুম থেকে জেগে দুধ পান করলেন।
হে আল্লাহ! আমি এ কাজটি যদি একমাত্র আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সম্পাদন করে থাকি তাহলে এই পাথরটির কারণে আমরা যে বিপদে পড়েছি তা থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করুন। এভাবে দু'আ করার সাথে সাথে পাথরটি একটু সরে গেল, কিন্তু তখনও বের হওয়ার মত রাস্তা হয়নি।
নবী (ﷺ) বলেনঃ দ্বিতীয় ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহ! আমার একজন চাচতো বোন ছিল। সে ছিল আমার কাছে অত্যন্ত প্রিয়। আমি তার কাছে আমার মনোবাসনা পেশ করলাম। সে অস্বীকার করল। অবশেষে একবছর খুব দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। তখন সে (খাদ্যাভাবে পড়ে সাহায্যের জন্য ) আমার নিকট আসল। আমি তাকে একশত বিশ দীনার দিলাম এই শর্তে যে, সে আমার সাথে নির্জনে বাস করবে। সে এতে রাজি হয়ে গেল। কিন্তু আমি যখন সম্পূর্ণ সুযোগ লাভ করলাম তখন সে বলতে লাগলঃ আমি তোমাকে অন্যায়ভাবে মোহর ভাঙ্গার অনুমতি দিতে পারি না। (অন্যায়ভাবে তুমি আমার সতীত্ব হরণ করতে পারনা) ফলে আমি তার সাথে সহবাস করাকে পাপের কাজ মনে করলাম। সুতরাং সে আমার সবচেয়ে পছন্দের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও আমি তার কাছ থেকে চলে আসলাম। আর আমি তাকে যেই স্বর্ণ দিয়েছিলাম তাও ছেড়ে দিলাম
হে আল্লাহ! আমি যদি এ কাজটি একমাত্র আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সম্পাদন করে থাকি তাহলে এই পাথরটির কারণে আমরা যে বিপদে পড়েছি তা থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করুন৷ এভাবে দু'আ করার সাথে সাথে পাথরটি একটু সরে গেল, কিন্তু তখনও বের হওয়ার মত রাস্তা হয়নি।
নবী (ﷺ) বলেনঃ তৃতীয়জন বললঃ হে আল্লাহ! নির্ধারিত মজুরীর বিনিময়ে আমি কয়েকটি শ্রমিক নিয়োগ করলাম। কাজ শেষে আমি তাদেরকে পারিশ্রমিক প্রদান করলাম। কিন্তু একজন লোক মজুরী গ্রহণ না করেই চলে গেল। আমি তার প্রাপ্য টাকা বাড়াতে থাকলাম। এক পর্যায়ে তা প্রচুর সম্পদে পরিণত হল। কিছুকাল পর সে আমার নিকট এসে বললঃ হে আল্লাহর বান্দা! আমার মজুরী দিয়ে দাও। আমি তাকে বললামঃ এসব উট, গরু, ছাগল এবং গোলাম যা তুমি দেখতে পাচ্ছ তা সবই তোমার। সে বললঃ হে আল্লাহর বান্দা! আমার সাথে বিদ্রুপ করো না৷ আমি বললামঃ আমি তোমার সাথে বিদ্রুপ করছি না (এগুলো তোমারই)। অতঃপর সে সমস্ত সম্পদ নিয়ে চলে গেল। একটিও রেখে যায় নি।
হে আল্লাহ! আপনি যদি মনে করেন যে, আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য একাজটি করেছি, তাহলে আজ আমাদেরকে এখান থেকে বের হওয়ার ব্যবস্থা করে দিন। সাথে সাথে পাথরটি সম্পূর্ণরূপে সরে গেল। তারা নিরাপদে সেখান থেকে বের হয়ে এল। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৩৪)
তাদের একজন বললঃ হে আল্লাহ! আমার পিতা-মাতা অতি বৃদ্ধাবস্থায় উপনীত হয়েছিল। আমি তাদের পূর্বে আমার পরিবার-পরিজন কিংবা দাস-দাসীকে দুধ পান করাতাম না। একদিন ঘাসের সন্ধানে আমি অনেক দূরে চলে গেলাম। তারা ঘুমিয়ে পড়ার পূর্বে আমি ফেরত আসতে পারলাম না। আমি তাদের জন্য দুধ দোহন করলাম। অতঃপর আমি তাদেরকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। আমি তাদের পূর্বে পরিবার-পরিজন কিংবা দাস-দাসীকে দুধ পান করানো অপছন্দ করলাম। দুধের পেয়ালা হাতে নিয়ে আমি দাঁড়িয়ে তাদের জাগ্রত হওয়ার অপেক্ষা করতে থাকলাম। এভাবে সারা রাত কেটে গিয়ে ফজর উদীত হল। আমার পিতা-মাতা ঘুম থেকে জেগে দুধ পান করলেন।
হে আল্লাহ! আমি এ কাজটি যদি একমাত্র আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সম্পাদন করে থাকি তাহলে এই পাথরটির কারণে আমরা যে বিপদে পড়েছি তা থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করুন। এভাবে দু'আ করার সাথে সাথে পাথরটি একটু সরে গেল, কিন্তু তখনও বের হওয়ার মত রাস্তা হয়নি।
নবী (ﷺ) বলেনঃ দ্বিতীয় ব্যক্তি বললঃ হে আল্লাহ! আমার একজন চাচতো বোন ছিল। সে ছিল আমার কাছে অত্যন্ত প্রিয়। আমি তার কাছে আমার মনোবাসনা পেশ করলাম। সে অস্বীকার করল। অবশেষে একবছর খুব দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। তখন সে (খাদ্যাভাবে পড়ে সাহায্যের জন্য ) আমার নিকট আসল। আমি তাকে একশত বিশ দীনার দিলাম এই শর্তে যে, সে আমার সাথে নির্জনে বাস করবে। সে এতে রাজি হয়ে গেল। কিন্তু আমি যখন সম্পূর্ণ সুযোগ লাভ করলাম তখন সে বলতে লাগলঃ আমি তোমাকে অন্যায়ভাবে মোহর ভাঙ্গার অনুমতি দিতে পারি না। (অন্যায়ভাবে তুমি আমার সতীত্ব হরণ করতে পারনা) ফলে আমি তার সাথে সহবাস করাকে পাপের কাজ মনে করলাম। সুতরাং সে আমার সবচেয়ে পছন্দের মানুষ হওয়া সত্ত্বেও আমি তার কাছ থেকে চলে আসলাম। আর আমি তাকে যেই স্বর্ণ দিয়েছিলাম তাও ছেড়ে দিলাম
হে আল্লাহ! আমি যদি এ কাজটি একমাত্র আপনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সম্পাদন করে থাকি তাহলে এই পাথরটির কারণে আমরা যে বিপদে পড়েছি তা থেকে আমাদেরকে উদ্ধার করুন৷ এভাবে দু'আ করার সাথে সাথে পাথরটি একটু সরে গেল, কিন্তু তখনও বের হওয়ার মত রাস্তা হয়নি।
নবী (ﷺ) বলেনঃ তৃতীয়জন বললঃ হে আল্লাহ! নির্ধারিত মজুরীর বিনিময়ে আমি কয়েকটি শ্রমিক নিয়োগ করলাম। কাজ শেষে আমি তাদেরকে পারিশ্রমিক প্রদান করলাম। কিন্তু একজন লোক মজুরী গ্রহণ না করেই চলে গেল। আমি তার প্রাপ্য টাকা বাড়াতে থাকলাম। এক পর্যায়ে তা প্রচুর সম্পদে পরিণত হল। কিছুকাল পর সে আমার নিকট এসে বললঃ হে আল্লাহর বান্দা! আমার মজুরী দিয়ে দাও। আমি তাকে বললামঃ এসব উট, গরু, ছাগল এবং গোলাম যা তুমি দেখতে পাচ্ছ তা সবই তোমার। সে বললঃ হে আল্লাহর বান্দা! আমার সাথে বিদ্রুপ করো না৷ আমি বললামঃ আমি তোমার সাথে বিদ্রুপ করছি না (এগুলো তোমারই)। অতঃপর সে সমস্ত সম্পদ নিয়ে চলে গেল। একটিও রেখে যায় নি।
হে আল্লাহ! আপনি যদি মনে করেন যে, আমি আপনার সন্তুষ্টির জন্য একাজটি করেছি, তাহলে আজ আমাদেরকে এখান থেকে বের হওয়ার ব্যবস্থা করে দিন। সাথে সাথে পাথরটি সম্পূর্ণরূপে সরে গেল। তারা নিরাপদে সেখান থেকে বের হয়ে এল। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৩৪)