hadith book logo

মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী

৪১. কিতাবুল মুসাকাত (পরস্পর পানি পান করানো এবং উৎপন্ন ফলের নির্দিষ্ট অংশ। প্রদানের শর্তে বাগানের গাছ অন্যকে পরিচর্যা করতে দেয়া)

مختصر صحيح البخاري

৪১/১ পরিচ্ছেদঃ

পানি পান করা (করানো) প্রসঙ্গে

১০৮৮
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ سَهْلِ بْن سَعْدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : أُتِيَ النَّبِيُّ (ﷺ) بِقَدَحٍ فَشَرِبَ مِنْهُ، وَعَنْ يَمِينِهِ غُلَامٌ أَصْغَرُ الْقَوْمِ، وَالأَشْيَاحُ عَنْ يَسَارِهِ، فَقَالَ: (يَا غُلَامُ، أَتَأْذَنُ لِي أَنْ أُعْطِيَهُ الأَشْيَاخَ). قَالَ: مَا كُنتُ لأُوثِرَ بِفَضْلِي مِنْكَ أَحَدًا يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَأَعْطَاهُ إِيَّاهُ .
সাহল বিন সা'দ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট একটি পানির পাত্র আনয়ন করা হল। তিনি তা হতে পান করলেন। তাঁর ডান পাশে ছিল একটি ছেলে। উপস্থিত লোকদের মধ্যে সে ছিল সবচেয়ে ছোট। তাঁর বাম পাশে ছিলেন বয়স্ক লোকগণ। নবী (ﷺ) বললেনঃ হে বালক! তুমি কি অবশিষ্ট পানীয় বয়স্কদেরকে দেয়ার অনুমতি দিচ্ছ? সে বললঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনার নিকট থেকে অর্জিত কল্যাণের ব্যাপারে (আপনার মুখ লাগানো পানি পানীয় পান করার ব্যাপারে) নিজের উপরে অন্য কাউকে প্রাধান্য দিবনা সুতরাং নবী (ﷺ) বালককেই দিয়ে দিলেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৬২)
১০৮৯
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ أَنَّهُ قَالَ : حُلِبَتْ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شَاةَ دَاجِنِ، فِي دَارِي، وَشِيبَ لَبَنُهَا بِمَاءٍ مِنَ الْبِثْرِ الَّتِي فِي دَارِي، فَأَعْطَى رَسُولَ اللهِ (ﷺ) الْقَدَحَ فَشَرِبَ مِنْهُ، حَتَّى إِذَا نَزَعَ الْقَدَحَ مِنْ فِيهِ، وَعَلَى يَسَارِهِ أَبُو بَكْرٍ، وَعَنْ يَمِينِهِ أَعْرَابِيُّ، فَقَالَ عُمَرُ، وَخَافَ أَنْ يُعْطِيَهُ الأَعْرَابِيَّ : أَعْطِ أَبَا بَكْرٍ يَا رَسُولَ اللَّهِ عِنْدَكَ، فَأَعْطَاهُ الأَعْرَابِيَّ الَّذِي عَلَى يَمِينِهِ، ثُمَّ قَالَ : الأَيْمَنَ فَالأَيْمَنَ).
আনাস বিন মালেক (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ একদা আমার বাড়ীতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর জন্য একটি গৃহপালিত বকরীর দুধ দোহন করা হল। সেই দুধের সাথে আমার বাড়ীর কূপের পানি মেশানো হল। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে পেয়ালাটি দেয়া হল। তিনি তা থেকে পান করলেন। তিনি যখন তাঁর মুখ থেকে পেয়ালাটি নামালেন তখন তাঁর বাম পাশে ছিলেন আবু বকর (রাঃ) এবং ডান পাশে ছিল একজন গ্রাম্য লোক। উমর (রাঃ)- এর ভয় হল যে, তিনি পাত্রটি গ্রাম্য লোকটিকে দিয়ে দেন কি না। তাই তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আবু বকর আপনার পাশেই। তাঁকে পেয়ালাটি দিন। কিন্তু নবী (ﷺ) তাঁর ডান পাশের গ্রাম্য লোকটিকেই পেয়ালাটি দিলেন। অতঃপর বললেনঃ ডান পাশের লোককে দিতে হবে। অতঃপর ডান পাশের লোককে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৬৩)
৪১/২ পরিচ্ছেদঃ

পরিতৃপ্ত না হওয়া পর্যন্ত পানির মালিক পানির বেশী হকদার

১০৯০
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ (ﷺ) قَالَ: (لَا يُمْنَعُ فَضْلُ المَاءِ لِيُمْنَعَ بِهِ الْكَلأُ).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূল (ﷺ) বলেনঃ উদ্বৃত্ত ঘাস খেতে বাঁধা দেয়ার জন্য উদ্বৃত্ত পানি নিতে নিষেধ করা যাবেনা। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৬৪)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ মনে করুন কোন লোকের একটি কূপ ছিল। কূপে তার প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি আছে। কূপের আশেপাশেই রয়েছে চারণভূমি। তাতে রয়েছে প্রচুর ঘাস। সেখানে সকলের পশু চরানোর অধিকার আছে। কিন্তু কূপের মালিক তার কূপ থেকে কারো পশুকে পানি পান করতে দিচ্ছে না। যাতে করে কূপের নিকটের চারণভূমিতে কেউ পশু চরাতে না আসে। ফলে কূপের মালিক একাই ঘাসগুলো থেকে উপকৃত হতে পারে। এরূপ করা জায়েয নয়৷
১০৯১
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
وعَنْهُ في رواية : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ قال : (لَا تَمْنَعُوا فَضْلَ المَاءِ لِتَمْنَعُوا بِهِ فَضْلَ الْكَلَإِ).
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে অন্য বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ উদ্বৃত্ত ঘাস থেকে জীব- জন্তুকে বাধা দেয়ার জন্য উদ্বৃত্ত পানি পান করতে বাধা দিওনা। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৬৪)
৪১/৩ পরিচ্ছেদঃ

কূপের পানি নিয়ে ঝগড়া ও তার মীমাংসা

১০৯২
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ : عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: (مَنْ حَلَفَ عَلَى يَمِينِ يَقْتَطِعُ بِهَا مَالَ أَمْرِي مُسْلِم، هُوَ عَلَيْهَا فَاجِرٌ، لَقِيَ اللَّهَ وَهُوَ عَلَيْهِ غَضْبَانُ. فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: ﴿إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا. الآيَةَ، فَجَاءَ الأَشْعَثُ فَقَالَ : مَا يُحَدِّثُكُمْ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ؟ فِي أُنْزِلَتْ هذِهِ الآيَةُ، كَانَتْ لِي بِثْرٌ فِي أَرْضِ ابْنِ عَمْ لِي، فَقَالَ لِي: (شُهُودَكَ) . قُلْتُ: مَا لِي شُهُودٌ، قَالَ: (فَيَمِينُهُ) قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِذًا يَحْلِفَ، فَذَكَرَ النَّبِيُّ (ﷺ) هذَا الحَدِيثَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ ذَلِكَ تَصْدِيقًا لَهُ.
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য মিথ্যা শপথ করে সে এমন অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে যে, আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট থাকবেন। কেননা আল্লাহ তাআলা এ ব্যাপারে অবতীর্ণ করেনঃ

(إِنَّ ٱلَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ ٱللَّهِ وَأَيْمَـٰنِهِمْ ثَمَنًۭا قَلِيلًا أُو۟لَـٰٓئِكَ لَا خَلَـٰقَ لَهُمْ فِى ٱلْـَٔاخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ ٱللَّهُ وَلَا يَنظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ )

“নিশ্চয়ই যারা সামান্য মূল্যের বিনিময়ে আল্লাহর নামে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকার বিক্রি করে (আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করে দুনিয়ার সামান্য সম্পদ অর্জন করে) আখেরাতে তাদের কোন অংশ নেই। আর তাদের সাথে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না। তাদের প্রতি দৃষ্টি দিবেন না। আর তাদেরকে পবিত্রও করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি”। (সূরা আল-ইমরানঃ ৭৭)

ইতিমধ্যে আশআছ (রাঃ) এসে বললেনঃ আবু আব্দুর রাহমান তথা ইবনে মাসউদ তোমাদের কাছে কি বর্ণনা করছেন? এই আয়াতটি আমার ব্যাপারেই নাযিল হয়েছে। আমার চাচাতো ভাইয়ের যমীনে আমার একটি কূপ ছিল। কূপটির মালিকানা নিয়ে ঝগড়া হলে নবী (ﷺ) আমাকে বললেনঃ তোমার সাক্ষী কোথায়? আমি বললামঃ আমার কোন সাক্ষী নেই। তিনি বললেনঃ তাহলে সে কসম খাবে। আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! সে তো সহজেই কসম খাবে। এ সময় নবী (ﷺ) হাদীছটি বললেন এবং তাঁকে সত্যায়ন করে আয়াতটি নাযিল হয়। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৬৫)
৪১/৪ পরিচ্ছেদঃ

পথিককে পানি না দেয়ার শাস্তি

১০৯৩
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ): (ثَلَاثَةٌ لاَ يَنْظُرُ اللَّهُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ : رَجُلٌ كَانَ لَهُ فَضْلُ مَاءٍ بِالطَّرِيقِ فَمَنَعَهُ مِنِ ابْنِ السَّبِيلِ، وَرَجُلٌ بَايَعَ إِمَامًا لا يُبَايِعُهُ إِلا لِدُنْيَا، فَإِنْ أَعْطَاهُ مِنْهَا رَضِيَ وَإِنْ لَمْ يُعْطِهِ مِنْهَا سخط ، وَرَجُلٌ أَقَامَ سِلْعَتَهُ بَعْدَ الْعَصْرِ فَقَالَ: واللهِ الَّذِي لَا إِلَهَ غَيْرُهُ، لَقَدْ أَعْطَيْتُ بهَا كَذَا وَكَذَا، فَصَدَّقَهُ رَجُلٌ). ثُمَّ قَرَأَ هَذِهِ الآيَةَ : ﴿إِنَّ الَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَأَيْمَانِهِمْ ثَمَنًا قَلِيلًا)
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ “তিন ব্যক্তির সাথে আল্লাহ কথা বলবেন না, তাদের দিকে করুণার দৃষ্টিতে তাকাবেন না এবং তাদেরকে গুনাহ থেকে পবিত্রও করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। (১) এমন ব্যক্তি যে কোন ময়দানে বসবাস করে, তার কাছে রয়েছে অতিরিক্ত পানি। অথচ সে মুসাফিরদেরকে তা ব্যবহার করতে নিষেধ করে থাকে। (২) এমন ব্যক্তি যে দুনিয়ার স্বার্থে কোন শাসকের হাতে বায়আত করে। শাসক যদি কিছু দেয়, তবে সন্তুষ্ট হয় আর না দিলে অসন্তোষ প্রকাশ করে। (৩) এমন ব্যক্তি যে কারও কাছে আসরের নামাযের পরে শপথ করে কোন জিনিষ বিক্রি করে। সে বলেঃ আল্লাহর কসম! আমি জিনিষটি এত টাকা দিয়ে ক্রয় করেছি। আর লোকেরা তার কথা বিশ্বাস করে। অতঃপর নবী (ﷺ) কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করলেনঃ

(إِنَّ ٱلَّذِينَ يَشْتَرُونَ بِعَهْدِ ٱللَّهِ وَأَيْمَـٰنِهِمْ ثَمَنًۭا قَلِيلًا أُو۟لَـٰٓئِكَ لَا خَلَـٰقَ لَهُمْ فِى ٱلْـَٔاخِرَةِ وَلَا يُكَلِّمُهُمُ ٱللَّهُ وَلَا يَنظُرُ إِلَيْهِمْ يَوْمَ ٱلْقِيَـٰمَةِ وَلَا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌۭ )

“নিশ্চয়ই যারা সামান্য মূল্যের বিনিময়ে আল্লাহর নামে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকার বিক্রি করে (আল্লাহর নামে মিথ্যা শপথ করে দুনিয়ার সামান্য সম্পদ অর্জন করে) আখেরাতে তাদের কোন অংশ নেই। আর তাদের সাথে আল্লাহ কিয়ামতের দিন কথা বলবেন না। তাদের প্রতি দৃষ্টি দিবেন না। আর তাদেরকে পবিত্রও করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি”। (সূরা আল- ইমরানঃ ৭৭) (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৬৬)