মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
৪৬. অংশীদারত্বের বর্ণনা
مختصر صحيح البخاري
৪৬/১ পরিচ্ছেদঃ
খাদ্য, পাথেয় এবং দ্রব্যসামগ্রীতে অংশীদারিত্ব
১১৩১
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : خَفَّتْ أَزْوَادُ الْقَوْمِ وَأَمْلَقُوا، فَأَتَوُا النَّبِيَّ (ﷺ) فِي نَحْرِ إِبِلِهِمْ فَأَذِنَ لَهُمْ، فَلَقِيَهُمْ عُمَرُ فَأَخْبَرُوهُ فَقَالَ : مَا بَقَاؤُكُمْ بَعْدَ إِبِلِكُمْ ، فَدَخَلَ عَلَى النَّبِيِّ (ﷺ) فَقَالَ : يَا رَسُولَ اللهِ مَا بَقَاؤُهُمْ بَعْدَ إِبِلِهِمْ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ : نَادِ في النَّاسِ، يَأْتُونَ بِفَضْلِ أَزْوَادِهِمْ) فَبُسِطَ لِذلِكَ نِطَع وَجَعَلُوهُ عَلَى النِّطَعِ، فَقَامَ رَسُولُ الله (ﷺ) فَدَعَا وَبَرَّكَ عَلَيْهِ، ثُمَّ دَعاهُمْ بِأَوْعِيتِهِمْ ، فَاحْتَشَى النَّاسُ حَتَّى فَرَغُوا ، ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ): (أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلا اللَّهُ، وَأَنِّي رَسُولُ اللَّهِ ) .
সালামা বিন আকওয়া (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ একদা এক সফরে মানুষের খাদ্যসামগ্রী কম হয়ে গেল এবং তারা মুখাপেক্ষী হয়ে পড়লেন। তারা নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে তাদের উট যবাই করার অনুমতি চাইলেন। তিনি তাদেরকে অনুমতি দিলেন। তারপর তাদের সাথে উমর (রাঃ) এর সাক্ষাত হল। তারা তাঁকে এ সংবাদ দিলেন। তিনি বললেনঃ উট নিঃশেষ হওয়ার পর তোমাদের বাঁচার উপায় কি? অতঃপর উমার (রাঃ) নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দরবারে প্রবেশ করে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! উট নিঃশেষ হওয়ার পর তাদের বাঁচার উপায় কি হবে? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন বললেনঃ মানুষের মধ্যে ঘোষণা করে দাও, তারা যেন অতিরিক্ত খাদ্য নিয়ে আসে। অতঃপর চামড়ার একটি দস্ত রখান বিছিয়ে দেয়া হল। তারা সেই চামড়ার উপর তা রাখতে লাগল। নবী (ﷺ) দাঁড়িয়ে তাতে বরকতের জন্য জিকির">দু'আ করলেন। অতঃপর তিনি তাদেরকে পাত্র নিয়ে আসতে বললেন। লোকেরা অঞ্জলি ভর্তি করে নিতে লাগলেন। যখন সবার নেয়া শেষ হল তখন তিনি বললেনঃ আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নেই এবং আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি আল্লাহর রাসূল। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১০৪)
১১৩২
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي مُوسَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ (ﷺ): (إِنَّ الأَشْعَرِيِّينَ إِذَا أَرْمَلُوا فِي الْغَزْو، أَوْ قَلَّ طَعَامُ عِبَالِهِمْ بِالمَدِينَةِ، جَمَعُوا مَا كَانَ عِنْدَهُمْ فِي ثَوْبِ وَاحِدٍ، ثُمَّ اقْتَسَمُوهُ بَيْنَهُمْ فِي إِنَاءٍ وَاحِدٍ بِالسَّوِيَّةِ، فَهُمْ مِنِّي وَأَنَا مِنْهُمْ) .
আবু মুসা আশআরী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ আশআরী গোত্রের লোকগণ যখন জিহাদে গিয়ে অভাবগ্রস্ত হয়ে পড়ে কিংবা মদীনাতেই তাদের পরিবার-পরিজনের খাবার কম হয়ে যায় তখন তারা তাদের যা কিছু থাকে তা একটা কাপড়ে জমা করে। তারপর একটা পাত্র দিয়ে তা নিজেদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে নেয়। অতএব তারা আমার অন্তর্ভূক্ত এবং আমিও তাদের অন্তর্ভূক্ত। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১০৫)
৪৬/২ পরিচ্ছেদঃ
ছাগল-ভেড়া বণ্টন করা
১১৩৩
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ: كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ (ﷺ) بِذِي الحُلَيْفَةِ، فَأَصَابَ النَّاسَ جُوعٌ، فَأَصَابُوا إيلا وَغَنَمًا ، قَالَ : وَكَانَ النَّبِيُّ (ﷺ) فِي أُخْرَياتِ الْقَوْمِ، فَعَجِلُوا وَذَبَحُوا وَنَصَبُوا الْقُدُورَ، فَأَمَرَ النَّبِيُّ (ﷺ) بِالْقُدُورِ فَأُكْفِتَتْ، ثُمَّ قَسَمَ، فَعَدَلَ عَشْرَةٌ مِنَ الْغَنَم بَعِيرٍ، فَنَدَّ مِنْهَا بَعِيرٌ، فَطَلَبُوهُ فَأَعْيَاهُمْ، وَكَانَ فِي الْقَوْمِ خَيْلٌ يَسِيرَةٌ، فَأَهْوَى رَجلٌ مِنْهُمْ بِسَهُم فَحَبَسَهُ اللَّهُ، ثُمَّ قَالَ : (إِنَّ لِهَذِهِ الْبَهَائِمِ أَوَابِدَ كَأَوَابِدِ الْوَحْشِ، فَمَا غَلَبَكُمْ مِنْهَا فَأَصْنَعُوا بِهِ هَكَذَا فَقُلْتُ: إِنَّا نَرْجُو الْعَدُوَّ غَدًا وَلَيْسَتْ مَعَنَا مُدَى، أَفَنَذْبَحُ بِالْقَصَبِ؟ قالَ : مَا أَنْهَرَ الدَّمَ، وَذُكِرَ اسْمُ اللهِ عَلَيْهِ فَكُلُوهُ، لَيْسَ السِّنَّ وَالظُّفُرَ، وَسَأَحَدُتُكُمْ عَنْ ذلِكَ : أَمَّا السِّنُّ فَعَظْمٌ، وَأَمَّا الظُّفُرُ فَمُدَى الحَبَشَةِ).
রাফে বিন খাদীজ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে আমরা যুল-হুলায়ফাতে ছিলাম। মানুষেরা তখন ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ল এবং তারা কিছু উট ও বকরী গণীমত পেল। রাফে বিন খাদীজ বলেনঃ নবী (ﷺ) ছিলেন সবার পেছনে। তাঁরা তাড়াহুড়া করে সেগুলো যবাই করে পাতিলে উঠিয়ে দিল। তারপর নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আদেশে হাড়ি-পাতিল উল্টিয়ে ফেলা হল। তারপর তিনি বন্টন করলেন। তিনি দশটি বকরীকে একটি উটের সমান গণ্য করলেন। তার মধ্য থেকে একটি উট পালিয়ে গেল। তারা সেটির পিছনে ছুটল, কিন্তু সেটা তাদেরকে ক্লান্ত করে ফেলল। সে সময় তাদের ঘোড়ার সংখ্যা খুব কম ছিল। অবশেষে জনৈক ব্যক্তি তীর নিক্ষেপ করল। এতে উটটি থেমে গেল।
নবী (ﷺ) বললেনঃ নিশ্চয়ই পলায়নকারী বন্য জন্তুদের মত এ সকল চতুষ্পদ কতগুলো পলায়নপর হয়ে থাকে। সুতরাং এ সব জন্তুর কোনটি যদি তোমাদেরকে হারিয়ে দেয় (পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে) তবে তার সাথে এরূপ করবে (অর্থাৎ তীর নিক্ষেপ করে সেটিকে দুর্বল করবে ও আটকিয়ে ফেলবে। অতঃপর যবাই করবে)। রাফে বলেনঃ আমি বললামঃ আগামীকাল আমরা শত্রুদের আক্রমণের আশঙ্কায় পতিত হব। আমাদের সাথে ছুরি নেই। আমরা কি বাঁশ (বাঁশের ধারালো দিক) দিয়ে যবাই করতে পারব? নবী (ﷺ) বললেনঃ যা রক্ত প্রবাহিত করে এবং যার উপর আল্লাহর নাম নেয়া হয় তা তোমরা খাও। তবে যবাইয়ের যন্ত্র যেন দাঁত বা নখ না হয়। কারণ দাঁত হল হাড় এবং নখ হল হাবশীদের ছুরি। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১০৬)
নবী (ﷺ) বললেনঃ নিশ্চয়ই পলায়নকারী বন্য জন্তুদের মত এ সকল চতুষ্পদ কতগুলো পলায়নপর হয়ে থাকে। সুতরাং এ সব জন্তুর কোনটি যদি তোমাদেরকে হারিয়ে দেয় (পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে) তবে তার সাথে এরূপ করবে (অর্থাৎ তীর নিক্ষেপ করে সেটিকে দুর্বল করবে ও আটকিয়ে ফেলবে। অতঃপর যবাই করবে)। রাফে বলেনঃ আমি বললামঃ আগামীকাল আমরা শত্রুদের আক্রমণের আশঙ্কায় পতিত হব। আমাদের সাথে ছুরি নেই। আমরা কি বাঁশ (বাঁশের ধারালো দিক) দিয়ে যবাই করতে পারব? নবী (ﷺ) বললেনঃ যা রক্ত প্রবাহিত করে এবং যার উপর আল্লাহর নাম নেয়া হয় তা তোমরা খাও। তবে যবাইয়ের যন্ত্র যেন দাঁত বা নখ না হয়। কারণ দাঁত হল হাড় এবং নখ হল হাবশীদের ছুরি। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১০৬)
৪৬/৩ পরিচ্ছেদঃ
শরীকদের মধ্যে যৌথ মালিকানাধীন বস্তুর উচিত মূল্য নির্ধারণ করা
১১৩৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ الله عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: (مَنْ أَعْتَقَ شَقِيصًا مِنْ مَمْلُوكِهِ فَعَلَيْهِ خَلَاصُهُ فِي مَالِهِ ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ ، قُوْمَ المَمْلُوكُ قِيمَةَ عَدْلٍ، ثُمَّ اسْتَسْعِيَ غَيْرَ مَشْقُوقٍ عَلَيْه).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি কোন (যৌথ মালিকানাধীন ) গোলাম থেকে তার নিজের অংশ মুক্ত করবে তার সম্পদ দ্বারা ঐ ক্রীতদাসকে সম্পূর্ণরূপে মুক্তি দান করা তার জন্য অবশ্য কর্তব্য। আর যদি তার তত পরিমাণ সম্পদ না থাকে তাহলে ঐ ক্রীতদাসের সঙ্গত মূল্য নিরূপন করা হবে। তারপর তার প্রতি কোনরূপ কড়াকড়ি আরোপ না করে তাকে কাজে খাটতে দিতে হবে। (যাতে সে কাজে খেটে অপর শরীকের অবশিষ্ট অংশ পরিশোধ করে সম্পূর্ণ আযাদ হয়ে যেতে পারে) (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১০৭)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ হাদীছে দাসমুক্তির প্রতি প্রচুর উৎসাহ-উদ্দীপনার প্রমাণ পাওয়া যায়।
৪৬/৪ পরিচ্ছেদঃ
লটারীর মাধ্যমে অংশ নির্ধারণ ও বণ্টন করা যাবে কি না
১১৩৫
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنِ النُّعْمَانِ بْن بَشِيرٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا : عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: (مَثَلُ الْقَائِمِ عَلَى حُدُودِ اللهِ وَالْوَاقِعِ فِيهَا، كَمَثَلِ قَوْمِ اسْتَهَمُوا عَلَى سَفِينَةٍ، فَأَصَابَ بَعْضُهُمْ أَعْلاهَا وَبَعْضُهُمْ أَسْفَلَهَا، فَكَانَ الَّذِينَ فِي أَسْفَلِهَا إِذَا اسْتَقَوْا مِنَ الْمَاءِ مَرُّوا عَلَى مَنْ فَوْقَهُمْ، فَقَالُوا : لَو أَنَّا خَرَقْنَا فِي نَصِيبنَا خَرْقًا، وَلَمْ تُؤْذِ مَنْ فَوْقَنَا ، فَإِنْ يَتْرُكُوهُمْ وَمَا أَرَادُوا هَلَكُوا جَمِيعًا، وَإِنْ أَخَذُوا عَلَى أَيْدِيهِمْ نَجَوْا وَنَجَوْا جَمِيعًا).
নু'মান বিন বশীর (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহর নির্ধারিত সীমার মধ্যে অবস্থানকারী এবং তা লংঘনকারীর উপমা হল যেমন কিছু সংখ্যক লোক লটারীর মাধ্যমে একটি নৌযানে আরোহন করল। তাদের কেউ স্থান পেল উপর তলায় আবার কেউ পেল নীচ তলায়। নীচ তলার যাত্রীগণের যখন পানির প্রয়োজন হয় তখন তাদেরকে উপর তলার যাত্রীদের কাছে যেতে হয়। এমতাবস্থায় নীচ তলার লোকেরা বলাবলি করতে লাগলঃ আমরা যদি নিজেদের অংশে ছিদ্র করে পানি সংগ্রহ করে নিতাম এবং উপরের তলার লোকদেরকে কোন কষ্ট না দিতাম তাহলে ভাল হত। এখন উপরের লোকেরা যদি নীচের লোকদেরকে বাধা না দিয়ে তাদের ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয় তাহলে সকলেই ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যদি তাদেরকে বাধা দেয় তবে তারা নিজেরাও বাঁচবে অন্য সবাইও বেঁচে যাবে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১০৮)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ হাদীছে যেমন লটারীর কথা পাওয়া যাচ্ছে তেমনি অন্যায়ের প্রতিবাদের কথা আরো অধিক গুরুত্বসহকারে প্রনিধানযোগ্য।