মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
৩৮. কিতাবুল হাওয়ালাত (ঋণ পরিশোধের যিম্মাদারী হস্তান্তর করা)
مختصر صحيح البخاري
৩৮/১ পরিচ্ছেদঃ
যখন কোন ধনী ব্যক্তির উপর ঋণ হাওলা করা হয় তখন তার পক্ষে তা প্রত্যাখ্যান করার অধিকার নেই
১০৬০
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ (ﷺ) قَالَ: (مَظْلُ الْغَنِيُّ ظُلْمٌ، وَإِذَا أُتْبَعَ أَحَدُكُمْ عَلَى مَلِيٍّ فَلْيَتْبَعْ).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ ধনী ব্যক্তির পক্ষে ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা যুলুমের শামিল। যখন তোমাদের কাউকে তার পাওনার জন্য কোন ধনী ব্যক্তির হাওলা করে দেয়া হয়, তখন সে যেন তা মেনে নেয়৷ (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৩৭)
হাদিসের ব্যাখ্যা ও প্রাসঙ্গিক টীকা (Sharh / Notes):
টিকাঃ মনে করুন আপনার নিকট থেকে কেউ টাকা ঋণ নিল। সে যদি তা আদায় করতে অক্ষম হয়ে পড়ে বা অন্য কোন কারণে পরিশোধ করতে অপারগ হয়ে যায়, তাহলে অন্য কোন ধনী ব্যক্তির নিকট ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়াকে হাওয়ালা বলা হয়। এমতাবস্থায় পাওনাদার ধনী ব্যক্তির নিকট তার পাওনা দাবী করবে।
৩৮/২ পরিচ্ছেদঃ
কোন্ ব্যক্তির উপর মৃতের ঋণের ভার হওয়ালা করা জায়েয?
১০৬১
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ النَّبِيِّ (ﷺ) إِذْ أُتِيَ بِجَنَازَةٍ، فَقَالُوا : صَلِّ عَلَيْهَا، فَقَالَ: ( هَلْ عَلَيْهِ دَيْنُ؟ قَالُوا : لا ، قَالَ: (فَهَلْ تَرَكَ شَيْئًا). قَالُوا : لا ، فَصَلَّى عَلَيْهِ، ثُمَّ أُتِيَ بِجَنَازَةٍ أُخْرَى، فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، صَلِّ عَلَيْهَا ، قَالَ : هَلْ عَلَيْهِ دَيْن؟ قِيلَ : نَعَمْ، قَالَ: فَهَلْ تَرَكَ شَيْئًا ؟ قَالُوا : ثَلَاثَةَ دَنَانِيرَ فَصَلَّى عَلَيْهَا ثُمَّ أُتِيَ بِالثَّالِثَةِ، فَقَالُوا : صَلِّ عَلَيْهَا، قَالَ: (هَلْ تَرَكَ شَيْئًا؟). قَالُوا : لا ، قال : (فَهَلْ عَلَيْهِ دَيْنٌ؟). قَالُوا ثَلَاثَهُ دَنَانِير، قالَ: (صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ). قالَ أَبُو قَتَادَةَ : صَلِّ عَلَيْهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَعَلَيَّ دَيْنُهُ، فَصَلَّى عَلَيْهِ.
সালামা বিন আয়া (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ একদা আমরা নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট বসা ছিলাম। এমন সময় একটি জানাযা আনা হল। লোকেরা বললঃ আপনি এর নামায পড়ুন। তিনি বললেনঃ তার উপর কি কোন ঋণ আছে? লোকেরা বললঃ না। তিনি আবার বললেনঃ সে কোন মাল রেখে গেছে? লোকেরা বললঃ না। অতঃপর নবী (ﷺ) তার জানাযার নামায পড়লেন। কিছুক্ষণ পর আরেকটি জানাযা আনয়ন করা হল। লোকেরা বললঃ আপনি এর নামায পড়ুন। তিনি এবারও জিজ্ঞেস করলেনঃ তার উপর কি কোন ঋণ আছে? লোকেরা বললঃ হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ সে কোন মাল রেখে গেছে? লোকেরা বললঃ তিন দীনার। অতঃপর নবী (ﷺ) তার জানাযার নামায পড়লেন। অতঃপর তৃতীয় একটি লাশ উপস্থিত করা হল। লোকেরা বললঃ আপনি এর নামায পড়ন। তিনি বললেনঃ সে কোন মাল রেখে গেছে? লোকেরা বললঃ না। তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করলেনঃ তার উপর কি কোন ঋণ আছে? লোকেরা বললঃ তিন দীনার। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তোমরা তোমাদের সাথীর নামায পড়। আবু কাতাদা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আপনি তার নামায পড়ুন। আমি তার ঋণ পরিশোধ করব। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার নামায পড়লেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৩৮)
৩৮/৩ পরিচ্ছেদঃ
আল্লাহ তাআলার বাণীঃ আর যাদের সাথে তোমরা অঙ্গীকার বন্ধ হয়েছ তাদের প্রাপ্য দিয়ে দাও
১০৬২
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ الله عَنْهُ أَنَّهُ قيلَ لَهُ : أَبَلَغَكَ أَنَّ النَّبِيَّ (ﷺ) قَالَ : (لاَ حِلْفَ فِي الإِسْلامِ). فَقَالَ: قَدْ حَالَفَ النَّبِيُّ (ﷺ) بَيْنَ قُرَيْشٍ وَالْأَنْصَارِ فِي دَارِي .
আনাস বিন মালেক (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তাঁকে বলা হলঃ আপনার নিকট কি এই মর্মে সংবাদ পৌঁছেছে যে, ইসলামে পরস্পর সহযোগীতার কোন চুক্তি নেই? আনাস (রাঃ) বললেনঃ নবী (ﷺ) আমার ঘরে কুরাইশ এবং আনসারদের মাঝে বন্ধুত্বের চুক্তি সম্পাদন করেছেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৩৯)
৩৮/৪ পরিচ্ছেদঃ
যদি কেউ মৃত ব্যক্তির দেনার দায় গ্রহণ করে তবে তার দায়িত্ব এড়িয়ে যাবার সুযোগ নেই
১০৬৩
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ (ﷺ): (لَوْ قَدْ جَاءَ مَالُ الْبَحْرَيْنِ قَدْ أَعْطَيْتُكَ هَكَذَا وَهُكَذَا فَلَمْ يَجِي مالُ الْبَحْرَيْنِ حَتَّى قبِضَ النَّبِيُّ (ﷺ) ، فَلَمَّا جَاءَ مَالُ الْبَحْرَيْنِ أمر أبو بَكْرٍ فَنَادَى : مَنْ كَانَ لَهُ عِنْدَ النَّبِيِّ (ﷺ) عِدَةٌ، أَوْ دَيْنٌ فَلْيَأْتِنَا ، فَأَتَيْتُهُ فَقُلْتُ : إِنَّ النَّبِيَّ (ﷺ) قَالَ لِي كَذَا وَكَذَا، فَحَثَى لِي حَنْيَةٌ، وَقَالَ : عُدَّها فَعَدَدْتُهَا ، فَإِذَا هِيَ خَمْسُمِائَةٍ وَقَالَ : خُذْ مِثْلَيْهَا .
জাবের বিন আব্দুল্লাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) আমাকে বললেনঃ যদি বাহরাইনের মাল এসে যায় তবে তোমাকে এত এত দেব৷ কিন্তু নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মৃত্যু পর্যন্ত বাহরাইনের মাল এসে পৌঁছলনা। নবী রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মৃত্যুর পর আবু বকরের যামানায় যখন বাহরাইনের মাল এসে পৌঁছল তখন আবু বকরের আদেশ ঘোষণা করা হলঃ রাসূল রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট যার কোন ওয়াদা বা পাওনা আছে সে যেন আমার নিকট আসে। আমি তাঁর কাছে গিয়ে বললামঃ নবী (ﷺ) আমাকে এত এত দেয়ার ওয়াদা করেছিলেন। জাবের (রাঃ) বলেনঃ আবু বকর (রাঃ) আমাকে হাতের অঞ্জলি ভর্তি করে দিয়ে বললেনঃ তা গণনা করে দেখ। আমি উহা গণনা করে দেখলাম পাঁচ শত দিরহাম। তারপর তিনি বললেনঃ তুমি এর দ্বিগুণ গ্রহণ কর৷ (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১০৪০)