মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
৫৩. কিতাবুল জিহাদ
مختصر صحيح البخاري
৫৩/১ পরিচ্ছেদঃ
জিহাদ ও সারীয়্যার বর্ণনা
১২০৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : جَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ (ﷺ) فَقَالَ: دُلَّنِي عَلَى عَمَلٍ يَعْدِلُ الْجِهَادَ، قَالَ : (لا أَجِدُهُ) . قَالَ : هَلْ تَسْتَطِيعُ إِذَا خَرَجَ الْمُجَاهِدُ أَنْ تَدْخُلَ مَسْجِدَكَ، فَتَقُومَ وَلاَ تَفْتُرَ، وَتَصُومَ وَلاَ تُفْطِرَ؟). قَالَ : وَمَنْ يَسْتَطِيعُ ذَلِكَ.
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট এসে বললেনঃ আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলুন, যা (হাওয়াবের দিক দিয়ে) জিহাদের সমান। উত্তরে তিনি বললেনঃ আমি এমন কোন আমল খুঁজে পাচ্ছিনা। অতঃপর নবী (ﷺ) বললেনঃ মুজাহিদ যখন জিহাদে বের হবে তখন তুমি মসজিদে প্রবেশ করে নিরলসভাবে নামায আদায় করতে এবং বিরামহীনভাবে রোযা রাখতে পারবে কি? সে বললঃ এ রকম কে করতে পারবে? (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১৭৬)
৫৩/২ পরিচ্ছেদঃ
সকল মানুষের মধ্যে ঐ মুমিন সবচেয়ে উত্তম যে স্বীয় জান ও মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে
১২০৫
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي سَعِيدٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ، أَيُّ النَّاسِ أَفْضَلُ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ) : مُؤْمِنٌ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِنَفْسِهِ وَمَالِهِ). قَالُوا : ثُمَّ مَنْ؟ قَالَ: مُؤْمِنٌ فِي شِعْبٍ مِنَ الشَّعَابِ، يَتَّقِي اللَّهَ، وَيَدَعُ النَّاسَ مِنْ شَرِّه).
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করা হলঃ হে আল্লাহর রাসূল! কোন ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ ঐ মুমিন ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম, যে মুমিন স্বীয় জান-মাল দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করে। তাঁরা বললেনঃ তারপর কে? তিনি বললেনঃ যে মুমিন পাহাড়ের কোন ঘাঁটিতে বসবাস করে, আল্লাহর এবাদত করে এবং মানুষের ক্ষতি করা হতে বিরত থাকে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১৭৭)
১২০৬
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قال : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ (ﷺ) يَقُولُ : (مَثَلُ الْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَنْ يُجَاهِدُ فِي سَبِيلِهِ، كَمَثَلِ الصَّائِمِ الْقَائِمِ، وَتَوَكَّلَ اللَّهُ لِلْمُجَاهِدِ فِي سَبِيلِهِ بِأَنْ يَتَوَفَّاهُ: أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ، أَوْ يُرْجِعَهُ سَالِمًا مَعَ أَجْرٍ أَوْ غَنِيمَةٍ) .
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে, আল্লাহই ভাল জানেন কে তাঁর পথে জিহাদ করে সে এমন এক রোযাদারের ন্যায় যে অবিরাম রোযা রাখে ও নামায আদায় করে। আল্লাহ তাআলা তাঁর পথে জিহাদকারীর ব্যাপারে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন যে, সে মৃত্যু বরণ করলে তাকে জান্নাত দান করবেন অথবা নিরাপদে পুরস্কার ও গণীমতসহ ঘরে ফিরিয়ে আনবেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১৭৮)
৫৩/৩ পরিচ্ছেদঃ
আল্লাহর রাস্তায় জিহাদকারীদের মর্যাদা
১২০৭
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীوعَنْهُ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ): (مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ، وَأَقامَ الصَّلاةَ، وَصَامَ رَمَضَانَ، كَانَ حَقًّا عَلَى اللَّهِ أَنْ يُدْخِلَهُ الْجَنَّةَ، جَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، أَوْ جَلَسَ فِي أَرْضِهِ الَّتِي وُلِدَ فِيهَا). فَقَالُوا : يَا رَسُولَ اللهِ ، أَفَلَا نُبَشِّرُ النَّاسَ؟ قَالَ : (إِنَّ فِي الْجَنَّةِ مِائَةَ دَرَجَةٍ، أَعَدَّهَا اللَّهُ لِلْمُجَاهِدِينَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، مَا بَيْنَ الدَّرَجَتَيْن كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ فَأَسْأَلُوهُ الْفِرْدَوْسَ، فَإِنَّهُ أَوْسَطُ الْجَنَّةِ، وَأَعْلَى الْجَنَّةِ – أَرَاهُ قَالَ : وفَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ، وَمِنْهُ تَفَجَّرُ أَنْهَارُ الْجَنَّةِ).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি এবং রাসূলের প্রতি ঈমান আনয়ন করবে, নামায কায়েম করবে এবং রামাযানের রোযা রাখবে আল্লাহ তাঁকে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। সে আল্লাহর পথে জিহাদ করুক বা স্বীয় জন্ম ভূমিতে বসে থাকুক। সাহাবীগণ বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি লোকদেরকে সুসংবাদ দিব না? তিনি বললেনঃ জান্নাতের একশটি স্তর রয়েছে। আল্লাহ তাআলা তা মুজাহিদদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন। প্রত্যেক দু স্তরের মধ্যকার ব্যবধান হচ্ছে আসমান ও যমিনের ব্যবধানের সমান৷ সুতরাং যখন তোমরা আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইবে তখন তোমরা জান্নাতুল ফিরদাউস চাও। কেনা এটি হচ্ছে জান্নাতের সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম জান্নাত। বর্ণনাকারীর ধারণাঃ রাসূল (ﷺ) তারপর বলেছেনঃ উহার উপর আল্লাহর আরশ এবং তা থেকে জান্নাতের নদীসমূহ প্রবাহিত হয়েছে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১৭৯)
৫৩/৪ পরিচ্ছেদঃ
সকাল-বিকাল আল্লাহর পথে চলা এবং জান্নাতে তোমাদের কারো একটি ধনুকের দু'প্রান্তের দূরত্বের পরিমাণ স্থানের মর্যাদা
১২০৮
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: (لَغَدْوَةٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَوْ رَوْحَةٌ، خَيْرٌ مِنَ الدُّنْيَا وَمَا فِيهَا) .
আনাস বিন মালেক (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় একটা সকাল অথবা একটা বিকাল ব্যয় করা দুনিয়া এবং এর মধ্যস্থিত সকল কিছু থেকে উত্তম (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১৮০)
১২০৯
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: (لَقَابُ قَوْسِ الْجَنَّةِ خَيْرٌ مِمَّا تَطْلُعُ عَلَيْهِ الشَّمْسُ وَتَغْرُبُ. وَقَالَ: (لَغَدْوَةٌ أَوْ رَوْحَةٌ فِي سَبِيلِ اللهِ خَيْرٌ مِمَّا تَطْلُعُ عَلَيْهِ الشَّمْسُ وَتَغْرُبُ).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ জান্নাতের মধ্যে একটি ধনুকের দুই প্রান্তের দূরত্ব পরিমাণ জায়গা যে সব বস্তুর উপর সূর্য উদীত হয় এবং অস্ত যায় (দুনিয়া এবং এর সমস্ত সম্পদ) সে সব থেকেও উত্তম। তিনি আরো বলেনঃ আল্লাহর রাস্তায় একটা সকাল অথবা একটা বিকাল যেসব বস্তুর উপর সূর্য উদীত হয় এবং অস্ত যায় (দুনিয়া এবং এর সমস্ত সম্পদ) সেসব বস্তু থেকেও উত্তম। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১৮১)