মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
৩১. কিতাবুস সাওম
مختصر صحيح البخاري
৩১/১ পরিচ্ছেদঃ
রোযার ফযীলত
৯১৯
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ (ﷺ) قَالَ: (الصيام جُنَّةٌ، فَلا يَرْفُثْ وَلَا يَجْهَلْ، وَإِنِ امْرُةٌ قَاتَلَهُ أَوْ شَاتَمَهُ، فَلْيَقُلْ إِنِّي صَائِمٌ - مَرَّتَيْنِ - وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى مِنْ ريح الْمِسْكِ، يَتْرُكُ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِي، الصِّيامُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ، وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا) .
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ রোযা ঢাল স্বরূপ। সুতরাং রোযাদার অশ্লীল কথা বলবেনা এবং মূর্খের ন্যায় আচরণ করবেনা। কেউ যদি তার সাথে ঝগড়া করে অথবা গালি দেয় সে যেন বলে আমি রোযাদার। এ কথাটি দু'বার বলবে। ঐ সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে রোযাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্তুরীর সুগন্ধি থেকে ও উত্তম। আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ আমার ভয়ে সে তার পানা-হার এবং কামস্পৃহা পরিত্যাগ করে থাকে। রোযা আমার উদ্দেশ্যেই। সুতরাং আমি নিজেই রোযার পুরস্কার প্রদান করবো। আর নেক কাজের পুরস্কার দশগুণ পর্যন্ত দেয়া হয়ে থাকে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯০১)
৩১/২ পরিচ্ছেদঃ
রোযাদারদের জন্য রাইয়্যান নামক জান্নাত
৯২০
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ سَهْلٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ (ﷺ) قَالَ: (إِنَّ فِي الجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ، يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيامَةِ، لاَ يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ ، يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ، فَيَقُومُونَ لا يَدْخُلُ مِنْهُ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ، فَإِذَا دَخَلُوا أُغْلِقَ، فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَدٌ).
সাহল (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেনঃ জান্নাতের একটি দরজা রয়েয়েছে যার নাম “রাইয়্যান” কিয়ামত দিবসে রোযাদারগণ ঐ দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে, তাদের সাথে অন্য কেউ প্রবেশ করবেনা। বলা হবেঃ রোযাদারগণ কোথায়? তখন তারা উঠে দাড়াবে (ও তাতে প্রবেশ করবে)। তারা ব্যতীত অন্য কেউ সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবেনা। তাদের প্রবেশ করা শেষ হলে ঐ দরজাটি বন্ধ করে দেয়া হবে। তারা ব্যতীত অন্য কেউ তা দিয়ে প্রবেশ করবেনা। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯০২)
৯২১
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : أَنَّ رَسُولَ اللهِ (ﷺ) قَالَ: (مَنْ أَنْفَقَ زَوْجَيْنِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، نُودِيَ مِنْ أَبْوَابِ الجَنَّةِ : يَا عَبْدَ اللَّهِ هَذَا خَيْرٌ، فَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّلَاةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّلَاةِ، وَمَنْ كانَ مِنْ أَهْلِ الْجِهَادِ دُعِيَ مِنْ بِابِ الجِهَادِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصِّيام دُعِيَ مِنْ بَابِ الرَّيَّانِ، وَمَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الصَّدَقَةِ دُعِيَ مِنْ بَابِ الصَّدَقَةِ). فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ : بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللهِ ، مَا عَلَى مَنْ دُعِيَ مِنْ تِلْكَ الأَبْوَابِ مِنْ ضَرُورَةٍ، فَهَلْ يُدْعَى أَحَدٌ مِنْ تِلْكَ الأَبْوَابِ كُلِّهَا؟ قَالَ: (نَعَمْ، وَأَرْجُو أَنْ تَكُونَ مِنْهُمْ).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় জোড়া জোড়া জিনিষ দান করবে তাকে জান্নাতের সকল দরজা দিয়েই প্রবেশের জন্য ডাকা হবে। তাকে বলা হবেঃ হে আল্লাহর বান্দা এটি তোমার জন্য খুবই উত্তম! সুতরাং নামাযীকে নামাযের দরজা দিয়ে, মুজাহিদকে জিহাদের দরজা দিয়ে, রোযাদারকে 'রাইয়্যান' নামক দরজা দিয়ে এবং দাতাকে দানের দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করার আহবান করা হবে। আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক। ঐ সকল দরজা থেকে যাকে আহবান করা হবে তার জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য সবগুলো দরজা দিয়ে আহবান করার প্রয়োজন হবেনা। তবে এমন কেউ আছে কি, যাকে উক্ত সকল দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য আহবান জানানো হবে? উত্তরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হ্যাঁ। আমার বিশ্বাস তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত হবে”। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯০৩)
৯২২
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীوعَنْهُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ (ﷺ): (إِذَا جَاءَ رَمَضَانُ فُتِحَتْ أَبْوَابُ الجَنَّةِ).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন রামাযান মাস প্রবেশ করে তখন জান্নাতের দরজাগুলো খোলা হয়। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯০৪)
৯২৩
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীوفي رواية عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ (ﷺ): (إِذَا دَخَلَ شَهْرُ رَمَضَانَ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ، وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ).
আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে অপর এক বর্ণনায় আছে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যখন রামাযান মাস শুরু হয়, তখন আসমানের দরজাসমূহ খোলা হয়৷ জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয়। শয়তানদেরকে শিকল দ্বারা বেঁধে রাখা হয়। (আলোকিত প্রকাশনীঃ )
৩১/৩ পরিচ্ছেদঃ
রামাযান বলা হবে? না রামাযান মাস? অনেকেই উভয়টা বলা জায়েয বলেছেন
৯২৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَن ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ : سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ (ﷺ) يَقُولُ : (إِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَصُومُوا، وَإِذَا رَأَيْتُمُوهُ فَأَفْطِرُوا ، فَإِنْ غُمَّ عَلَيْكُمْ فَاقْدُرُوا لَهُ) . يَعْنِي : هِلَالَ رَمَضَانَ.
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছি, যখন চাঁদ দেখবে তখন ছিয়াম শুরু করবে এবং যখন চাঁদ দেখবে তখন ছিয়াম ছেড়ে দিবে। আর যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার কারণে চাঁদ প্রকাশিত না হয় তবে অনুমান করবে। অর্থাৎ রামাযান মাস ত্রিশ দিন পূর্ণ কর। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯০৫)
৩১/৪ পরিচ্ছেদঃ
যে ব্যক্তি রামাযান মাসে রোযা অবস্থায় মিথ্যা কথা ও কাজ পরিত্যাগ করেনা
৯২৫
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারীعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللَّهِ (ﷺ): (مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ النُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ، فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ فِي أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ) .
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সিয়ামরত অবস্থায় মিথ্যা কথা ও অন্যায় কাজ পরিত্যাগ করেনা, আল্লাহর কোনই দরকার নেই তার পানাহার পরিত্যাগ করাতে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ৯০৬)