hadith book logo

মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী

৫২. অসীয়তের (শেষ উপদেশের) বর্ণনা

مختصر صحيح البخاري

৫২/১ পরিচ্ছেদঃ

অসীয়তের বিধান

১১৯৪
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ (ﷺ) قَالَ: (مَا حَقُّ أمْرِى، مُسْلِمٍ، لَهُ شَيْءٌ يُوصِي فِيهِ، يَبِيتُ لَيْلَتَيْنِ إِلا وَوَصِيَّتُهُ مَكْتُوبَةٌ عِنْدَهُ) .
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ যে মুসলিমের নিকট অসীয়তের উপযোগী সম্পদ রয়েছে অসীয়ত নামা না লিখে তার জন্য দু'রাত অতিবাহিত করা জায়েয নয়। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১৬৬)
১১৯৫
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ عَمْرِو بْنِ الحَارِثِ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ، خَتَنِ رَسُولِ اللَّهِ (ﷺ) أَخِي جُوَيْرِيَةَ بِنْتِ الحَارِثِ، قَالَ: مَا تَرَكَ رَسُولُ اللهِ (ﷺ) عِنْدَ مَوْتِهِ دِرْهَما ، وَلَا دِينَارًا ، وَلاَ عَبْدًا، وَلاَ أَمَةٌ، وَلاَ شَيْئًا، إلا بَغْلَتَهُ البَيْضَاءَ، وَسِلَاحَهُ، وَأَرْضًا جَعَلَهَا صَدَقَةٌ .
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর শ্যালিকা অর্থাৎ জুওয়াইরিয়া বিনতে হারিছ (রাঃ) এর সহোদর ভাই আমর ইবনুল হারিছথেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মৃত্যুর সময় কোন দিরহাম, দীনার, কোন দাস-দাসী বা অন্য কিছু রেখে যান নি। তবে তিনি তাঁর সাদা রঙ্গের একটি খচ্চর, তার যুদ্ধাস্ত্র এবং এক খন্ড জমি রেখে গেছেন। তাও আবার আল্লাহর রাস্তায় ওয়াক্ফ করে দিয়েছিলেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১৬৭)
১১৯৬
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي أَوْفَى رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا أَنَّهُ سُئِلَ : هَلْ كَانَ النَّبِيُّ (ﷺ) أَوْطى؟ فَقَالَ : لا ، فَقِيلٌ : كَيْفَ كُتِبَ عَلَى النَّاسِ الْوَصِيَّةُ، أَوْ أُمِرُوا بِالْوَصِيَّةِ؟ قَالَ : أَوْصَى بِكِتَابِ الله.
আব্দুল্লাহ ইবনে আবু আওফা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তাঁকে একদা প্রশ্ন করা হলঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কি কোন অসীয়ত করেছেন? তিনি বললেনঃ না। তাকে বলা হলঃ তাহলে কিভাবে লোকদের উপর অসীয়ত ফরয করা হল বা তাদেরকে অসীয়তের আদেশ দেয়া হল? তিনি বললেনঃ রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী আমল করার অসীয়ত করেছেন। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১৬৮)
৫২/২ পরিচ্ছেদঃ

মৃত্যুর সময় সাদকাহ করা

১১৯৭
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : رَجُلٌ لِلنَّبِيِّ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، أيُّ الصَّدَقَةِ أَفْضَلُ؟ قَالَ : أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيحٌ حَرِيصٌ، تَأْمُلُ الْغِنَى، وَتَخْشَى الْفَقْرَ، وَلَا تُمْهِلْ، حَتَّى إِذَا بَلَغَتِ الحُلْقُومَ، قُلْتَ: لِفُلاَنٍ كَذَا، وَلِفُلان كَذَا، وَقَدْ كَانَ لِفُلان).
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলঃ কোন সাদকাহ সর্বোত্তম? তিনি বললেনঃ সুস্থ অবস্থায় সাদকাহ করা, যখন তোমার ধনী হওয়ার বাসনা এবং গরীব হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। সাদকাহ করার জন্য তুমি এত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করোনা যে, প্রাণ ওষ্ঠাগত হয় আর তুমি বলতে শুরু করো এটা অমুকের ওটা অমুকের। কেননা ওটাতো অমুকের হয়ে গেছে। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১৬৯)
৫২/৩ পরিচ্ছেদঃ

(অসীয়তের ক্ষেত্রে) স্ত্রীলোক এবং সন্তান-স্বজনের অন্তর্ভুক্ত কি না?

১১৯৮
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
وعَنْهُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : قَامَ رَسُولُ اللهِ (ﷺ) حِينَ أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ . قَالَ : (يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ - أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا - اَشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ لا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، يَا بَنِي عَبْدِ مَنَافٍ لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، يَا عَبَّاسُ بْنَ عَبْدِ المُطَّلِبِ لَا أُغْنِي عَنْكَ مِنَ اللهِ شَيْئًا، وَيَا صَفِيَّةُ عَمَّةَ رَسُولِ اللهِ لا أُغْنِي عَنْكِ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، وَيَا فَاطِمَةُ بِنْتَ مُحَمَّدٍ، سَلِينِي مَا شِئْتِ مِنْ مالي، لا أُغْنِي عَنْكِ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا) .
আবু হুরায়রা (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর উপর যখন আল্লাহর এই বাণী অবতীর্ণ হলঃ

(وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ ٱلْأَقْرَبِينَ)

“এবং তুমি নিকটতম আত্মীয়দেরকে সতর্ক করে দাও”। (সূরা শু'রাঃ ২১৪)

তখন তিনি বললেনঃ হে কুরাইশ সম্প্রদায়! তোমরা নিজেদেরকে আল্লাহর আযাব থেকে বাঁচাও। আমি তোমাদেরকে আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা করতে পারবনা। হে বনী আবদে মানাফ ! আমি তোমাদেরকে আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা করতে পারবনা। হে আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালেব! আমি তোমাদেরকে আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা করতে পারবনা। হে রাসূলের ফুফু সাফীয়া! আমি তোমাকে আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা করতে পারবনা। হে ফাতেমা বিনতে মুহাম্মাদ! তুমি আমার মাল থেকে যা ইচ্ছা চেয়ে নাও। আমি আল্লাহর নিকট তোমার জন্য কিছুই করতে পারবনা”। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১৭০)
৫২/৪ পরিচ্ছেদঃ

আল্লাহর বাণীঃ তোমরা ইয়াতীমদেরকে বিবাহযোগ্য না হওয়া পর্যন্ত যাচাই করো

১১৯৯
মুখতাসার সহীহ আল-বুখারী
সহিহ হাদিস
عَن ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا : أَنَّ أَباه تَصَدَّقَ بِمَالٍ لَهُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللهِ ، وَكَانَ يُقَالُ لَهُ تَمْعُ، وَكَانَ نَخْلا ، فَقَالَ عُمَرُ : يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي أَسْتَقَدْتُ مَالًا، وَهُوَ عِنْدِي نَفِيسٌ، فَأَرَدْتُ أَنْ أَتَصَدَّقَ بِهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ (ﷺ): (تَصَدَّقْ بِأَصْلِهِ، لاَ يُبَاعُ وَلَا يُوهَبُ وَلَا يُورَثُ، وَلكِنْ يُنْفَقُ ثَمَرُهُ) . فَتَصَدَّقَ بِهِ عُمَرُ ، فَصَدَقَتَهُ ذُلِكَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَفِي الرِّقابِ، وَالمَسَاكِينِ، وَالضَّيْفِ، وَابْنِ السَّبِيلِ، وَلِذِي الْقُرْبَى، وَلَا جُنَاحَ عَلَى مَنْ وَلِيَهُ أَنْ يَأْكُلَ مِنْهُ بِالمَعْرُوفِ، أَوْ يُؤْكِلَ صَدِيقَهُ غَيْرَ مُتَمَوِّلٍ بِهِ .
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ)থেকে বর্ণিতঃ
তার পিতা উমার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যামানায় একটি সম্পদ সাদকা করে দিলেন, যার নাম ছিল ছামগ। আর সেটি ছিল খেজুরের বাগান। উমার (রাঃ) বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি কিছু সম্পদ পেয়েছি। ইহা আমার নিকট অত্যন্ত মূল্যবান। আমি এটি দান করে দিতে চাই। নবী (ﷺ) তখন বললেনঃ তুমি মূল সম্পদটি এ শর্তে দান কর যে, তা বিক্রি করা হবেনা, দান করা হবে না এবং উত্তরাধিকার সূত্রে বন্টনও করা হবেনা। বরং তার ফল ব্যয় করা হবে। সুতরাং উমার (রাঃ) ঐ শর্তের উপরই তা সাদকাহ করে দিলেন। তাঁর এ সাদকাটি ছিল আল্লাহর রাস্তায়, গোলাম আযাদ করার জন্য, অভাবীদের অভাব পূরণের জন্য, মেহমানদারী করার জন্য, মুসাফিরের জন্য এবং নিকট আত্মীয়দের জন্য খরচ করার জন্য। মুতাওয়াল্লী (অভিভাবক) তা থেকে ন্যায়সঙ্গতভাবে এবং সঞ্চয় করে না রেখে নিজে খেলে এবং বন্ধুকে আপ্যায়ন করতে কোন দোষ নেই। (আলোকিত প্রকাশনীঃ ১১৭১)